নরসিংদীতে ধর্ষণের অভিযোগ সালিশে জরিমানা, ভুক্তভোগীর আত্মহত্যার চেষ্টা
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ২২:৪৪
নরসিংদীতে ধর্ষণের অভিযোগ সালিশে জরিমানা, ভুক্তভোগীর আত্মহত্যার চেষ্টা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নরসিংদীতে ধর্ষণের অভিযোগে ডাকা সালিশ বৈঠকে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব ওঠায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ১৭ বছরের এক কিশোরী। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিঢ় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি এখন অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।


শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


কিশোরীর (১৭) বাড়ি চিনিশপুর ইউনিয়নের একটি এলাকায়। একমাস আগে পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়েছিল তার। ১৫ দিন আগে বিয়ের কথা বলে নাইম (২৫) নামে এক তরুণ তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে তুলে আনেন। নাইম একই এলাকার শফিকুল ইসলাম ও হেলেনা বেগমের ছেলে ও পেশায় প্রাইভেটকার চালক।


কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এক বছর ধরে নাইমের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক মাস আগে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন পরিবার। গত ১০ মে এক বন্ধুর সহায়তায় স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে আসেন নাইম। এ ঘটনায় স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় তার। এরপর বিয়ের প্রলোভনে কয়েকদফা তাকে ধর্ষণ করে নাইম।


এসব ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত নাইমকে বিয়ে করতে চাপ দেন। কিন্তু নাইম এখন আর তাকে বিয়ে করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে এড়িয়ে চলছেন। মেয়েকে স্বামী-সংসার থেকে বিচ্ছিন্নের পর আর বিয়ে করতে না চাওয়ায় বিপাকে পড়েন তারা। এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান তারা। পরে এ ঘটনা নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে বসা এক শালিসে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় ঘটনাটি মিমাংশার কথা আলোচনা হয়।


ওই শালিসে বিয়ের সিদ্ধান্ত না দিয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় মীমাংশার আলোচনা মেনে নিতে পারেনি ওই কিশোরী। তিনি বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা আটকে গলায় ফাঁস নেন। ওই সময় তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকায় রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি বেসরকারি ওই হাসপাতালের আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।


কিশোরীর মা বলেন, ‘বিয়ের কথা বলে নাইম আমার মেয়ের সংসার ভাঙছে, কয়েকদফা ধর্ষণ করেছে। এতকিছুর পর সে এখন তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। সালিশে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা উঠায় সহ্য করতে পারেনি সে। অপমান সইতে না পেরে মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। হাসপাতালের বেডে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে আমার মেয়ে।'


নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, গলায় ফাঁস নেওয়া একজন কিশোরীকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে অচেতন অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।


সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


জানতে চাইলে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, উভয় পক্ষের অনুরোধে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। ওই সালিশে আমরা সবাই বিয়ের পক্ষে মত দিই। কিন্তু ছেলেপক্ষের লোকজন টাকা দিয়ে মীমাংশার কথা বলছিল। এর মধ্যেই সালিশ শেষ হওয়ার আগেই মেয়ে বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর থেকে আমি হাসপাতালে মেয়েটির পাশেই অবস্থান করছি।


নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.আর.এম আল মামুন বলেন, অন্যত্র বিয়ে হওয়ার ১৫ দিন পর ওই মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল প্রেমের সম্পর্কে থাকা তরুণ। তবে এখন আর তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে না ওই তরুণ। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টার মধ্যেই ওই কিশোরী গতকাল আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।


ঘটনাটি মৌখিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।


বিবার্তা/কামাল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com