ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু এলাকায় ১৩ কিলোমিটার যানজটের শঙ্কা
জোরালো হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৭:১৪
ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু এলাকায় ১৩ কিলোমিটার যানজটের শঙ্কা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় প্রতি বছর ঈদের সময় এই মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবারও যমুনা সেতুর সীমিত সক্ষমতা ও চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় মহাসড়কে স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে।


জানা গেছে, জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ায় যানবাহনগুলো দ্রুত ও স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে। তবে এলেঙ্গা থেকে যমুনাসেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে এ অংশে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংকুচিত রয়েছে। ফলে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সহজেই যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে যানজটের অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ পরিস্থিতি। ফোর লেনের মহাসড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক গাড়ি দ্রুত গতিতে এলেও সেতুর প্রবেশমুখে এসে চাপ সৃষ্টি হয়। এতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং কখনো কখনো তা কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। ঈদের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদকে কেন্দ্র করে তা ৫০ হাজারেরও বেশি হয়ে যায়।


এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যানজট নিরসনে মহাসড়কের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এলেঙ্গা থেকে কিছু যানবাহন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা করা হতে পারে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, নিয়মবহির্ভূত যাত্রী ওঠানামা, ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল এবং ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়া কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।


সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর ঈদের সময় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও এর স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। তাই দীর্ঘমেয়াদে যানজট সমস্যা নিরসনে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সেতুর সক্ষমতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি যমুনা সেতুর উভয় প্রান্তে সার্বক্ষণিক টোল কার্যক্রম চালু রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com