আদালতে এক ভাইয়ের স্বীকারোক্তি
ত্রিভুজ প্রেমের বলি টঙ্গীতে খুন হওয়া বাবা-ছেলে
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৮
ত্রিভুজ প্রেমের বলি টঙ্গীতে খুন হওয়া বাবা-ছেলে
গ্রেফতারকৃত আসামি সোহান
টঙ্গী-পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টঙ্গীতে চাঞ্চল্যকর বাবা ছেলে হত্যা মামলা তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। বড় ভাইয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়া খালাতো বোনের সাথে প্রেম করায় বড় ভাই ছোট ভাইকে খুন করে। আর খুনের দৃশ্য দেখে ফেলায় বাবাকেও ট্রেনের নীচে ফেলে দিয়ে খুন করে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার আসামি সোহান।
এতে দুই ভাই ও বাবার সংসারে এক ভাইয়ের স্বার্থের কাছে ত্রিভুজ প্রেমের বলি হলো বাবা ও ছোট ভাই।


সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যুবায়ের রশীদের নিকট আসামি সাইফুর রহমান সোহান (২৭) এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বাবা ও ভাইকে খুনের কথা স্বীকার করেন।


টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আসামি সাইফুর রহমান সোহানের সাথে তার খালাত বোনের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু ছোট ভাই সাকিবুর রহমান শোয়েবের সাথে ওই মেয়ের প্রেম চলে। এই ঘটনায় বড় ভাই সোহান তার ছোট ভাই শোয়েবকে তার হবুস্ত্রীর প্রেম থেকে সরে আসতে বলেন। কিন্তু শোয়েব কথা না শোনায় সোহান তার আপন ছোট ভাই শোয়েবকে হত্যা করে। এই দৃশ্য তাদের বাবা মো. সোহেল দেখে ফেলায় তাকেও ট্রেনের নীচে ফেলে হত্যা করে তারই বড় ছেলে আসামি সোহান। ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সোহান আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে জানায় যে, তার বাবা মাদকের টাকার জন্য ছোট ভাইকে খুন করে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর পুলিশ গিয়ে দুটি লাশ উদ্ধার করে ও সন্দেহজনকভাবে সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় আটক হয়ে পুলিশকে হত্যার বিষয়ে তথ্য দিলে পুলিশ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামিকে আদালতে পাঠায়। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বাবা ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করে।


এর আগে রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোররাতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ও জিআরপি পুলিশ বনমালা এলাকা থেকে বাবা ও ছেলের দুটি লাশ উদ্ধার করে।


নিহতরা হলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা এলাকার বনমালা প্রাইমারি স্কুল রোডের মোস্তফা দরজির ছেলে ১৪৯ নম্বর বাড়ির মালিক মো. সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। এই ঘটনায় আটক হয় নিহত সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)। নিহত শোয়েব রাজধানীর উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেঁজগাওয়ে বেঙ্গল ফুড নামে একটি দোকানে চাকরিও করতেন। আটক সাইফুর রহমান একটি ঔষুধ কারখায় কাজ করতেন।


বিবার্তা/রাজিব/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com