
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা একেএম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী দিবসে অফিসের নারী সহকর্মীর গায়ে হাত তোলা, অফিসের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ড পরিচালনা করা, অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৫মার্চ) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মনির হোসেন নিজে পঞ্চগড়ে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বোদা ও দেবীগঞ্জ কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, একেএম ওয়াহিদুজ্জামান ২০২০ সালে বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। এরপরে ক্রমান্বয়ে বোদা উপজেলার পাশাপাশি দেবীগঞ্জ ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। চার অফিসের দায়িত্বে থাকায় ওয়াহিদুজ্জামান হয়ে ওঠেন জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের সম্রাট । চারটি অফিসে গড়ে তোলেন অনিয়ম আর দুর্নীতির রাজত্ব। তার কথা না শুনলেই হেনস্থার শিকার হতে হয় অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের। অফিসের কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তার দুর্ব্যবহার থেকে বাদ যায়নি কেউই।
গেলো ৮ মার্চ নারী দিবসে অফিসের প্রশিক্ষক লুনা বেগমের গায়ে হাত তোলে নতুন করে আলোচনায় আসেন ওয়াহিদুজ্জামান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে পরদিন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা।
এর আগে অফিসের আয়োজনে শপথ অনুষ্ঠানে ডিম, বিস্কুল ও কলা খাইয়ে ২০০ প্যাকেট বিরানির বিল করা, অফিসের চেয়ার কিনে দ্বিগুণ বিল করা, অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করাসহ নানা অনিয়মের আলোচনায় আসেন এই কর্মকর্তা। সবচেয়ে বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে সরাসরি দেখার দাবি করে। তার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি কিছুদিন অফিসের দায়িত্ব অন্যকে বুঝিয়ে দিয়ে পালিয়ে বেড়ান।
এদিকে গত বছরের ২৭ নভেম্বর চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় তাকে বদলির আদেশ দেয়া হলেও চার অফিসের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে আদেশ উপেক্ষা করে প্রায় চার মাস নিজের মতো করে অফিস করেন তিনি। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে থাকতে শুরু করেন তদবির আর দৌড়ঝাপ। গত ১১ মার্চ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা তাকে পত্র প্রান্তির ৩ দিনের মধ্যে বদলিকৃত স্থানে যোগদানের নির্দেশ দিলে তিনি সরাসরি যোগদান না করে অনলাইনে যোগদান করেন। এর মধ্যেই তাকে অপসারণের জন্য তার চার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। তারা এই কর্মকর্তাকে অপসারণসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
বিবার্তা/বিপ্লব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]