
একটি গ্রাম। গ্রামের পাশে সড়ক। সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন হরমুজ খান। হাতে তাঁর তালের আঁটি। ওই সময় সেখানে এলেন আজাদ মিয়া।
তিনি জানতে চাইলেন ‘হাতে কী তোমার?’ হরমুজ খান বললেন, ‘তালের আঁটি। বুনব। দশটা আঁটি। দশটা তালগাছ হবে।’
হরমুজ খান সড়কের পাশে মাটি খুঁড়তে লাগলেন। আজাদ মিয়া বললেন, ‘বুনলে কী হবে? ফল পাবে না। গাছে তাল ধরতে ধরতে তুমি তো মরে যাবে। গাছ বড়ো হতে অনেক বছর লাগে।’
বেশ ভাবনায় পড়ে গেলেন হরমুজ খান। বললেন,‘ঠিকই বলেছ তুমি। এই ফেলে দিলাম তালের আঁটি।’ হরমুজ খান বাড়ির দিকে ছুটলেন। দূর থেকে তালের আঁটি ফেলে দেওয়া দেখছিল আবেশ। সেই তালের আঁটি দিয়ে কী করল সে?
এই তালের আঁটি, আবেশ আর হরমুজ খানের গল্প জানতে হলে তোমাদের পড়তে হবে ‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে’ বইটি। শিশুসাহিত্যিক দন্ত্যস রওশন তোমাদের জন্য লিখেছেন চমৎকার এই বইটি। আর এত্ত... সুন্দর করে বইটির প্রচ্ছদ এবং পাতায় পাতায় তোমাদের জন্য মজার মজার ছবি এঁকেছেন শিল্পী সব্যসাচী মিস্ত্রী। ‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে’ প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। তোমাদের যাদের বয়স আট কিংবা তার চেয়ে একটু বেশি তাদের জন্যই এই বই। তবে বই পড়ে মজা পাবে বড়োরাও। তাই বাসার সবাই মিলে পড়তে পারবে বইটি।
আচ্ছা এবার তাহলে চলো আমরা একটু আবেশের কাছে যাই। তালের আঁটিগুলো দিয়ে কী করল সে? তালের আঁটির ভেতরে আঁশ খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে দা আনতে গিয়েছিল আবেশের বন্ধু ইতেন। ইতেনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তড়িঘড়ি করে তালের আঁটিগুলো মাটিতে রোপণ করে ফেলে আবেশ।
অনেক বছর পরের কথা। অনেক বড়ো বড়ো তালগাছ। গাছে তাল ধরেছে। বাবুইপাখি বাসা বানিয়েছে। অনেকে বেড়াতে যায় সেখানে। গাছের ছবি তোলে। সেলফি তোলে। একদিন সরকারি লোক আসে সেই গাছের তাল বিক্রি করতে। তালের দাম ঠিক হয় দুই লাখ টাকা। এক লাখ টাকা সরকার নিবে, আরেক লাখ টাকা যিনি গাছ বুনেছেন তিনি। ডাক পড়ল আবেশের। কিন্তু আবেশ তো হরমুজ খান ছাড়া টাকা নিবে না। কীভাবে ভাগাভাগি হলো সেই টাকা? টাকা হাতে পেয়ে কী করলেন হরমুজ খান আর আবেশ? জানতে হলে এবার পড়ে ফেলি আমরা দন্ত্যস রওশনের ‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে’।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]