রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর পরও কাটেনি শ্রমিকের ভয়াল সেই স্মৃতি
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর পরও কাটেনি শ্রমিকের ভয়াল সেই স্মৃতি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত বহুতল ভবন রানা প্লাজা ভয়াবহ ধসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক এবং আহত হন প্রায় ২ হাজার শ্রমিক। তবে ১৩ বছর পেরিয়ে গেলও আজও তাদের তাড়া করে সেই ভয়াল সেই দিনের স্মৃতি। যার ক্ষত আজও শুকায়নি। এখনো ভবন ধসের ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবি এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায় রানা প্লাজার শ্রমিক-কর্মচারীরা।


রানা প্লাজা ট্রাজেডি উপলক্ষে বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনাসভা ও শোভাযাত্রা করেছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।


‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১৩ বছর : বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিহত ও আহত শ্রমিকদের অনেকেই এখনো ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা পাননি। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং দায়ীদের শাস্তির অভাব শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।


সভায় অংশ নেন জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা, শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সদস্য, শিল্প দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বক্তারা বলেন, তাজরীন ফ্যাশনস, স্পেকট্রাম, হাশেম ফুড, মিরপুর এবং সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জের গ্যাসলাইটার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, তদারকির অভাব এবং আইন প্রয়োগে শৈথিল্য এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসে।


বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এখনো উপযুক্ত শাস্তি পাননি। ফলে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে ন্যায়বিচার নিয়ে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে নানা বাধা থাকায় তাঁরা নিজেদের অধিকার আদায়ে কার্যকরভাবে সংগঠিত হতে পারছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কিছু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার অংশ হিসেবে পারিবারিক কার্ড প্রদান করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে আলোচনায় উঠে আসে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com