শাহবাগ থানার ভেতর সাংবাদিককে পেটানোর অভিযোগ
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩১
শাহবাগ থানার ভেতর সাংবাদিককে পেটানোর অভিযোগ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।


বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে থানা চত্ত্বরে এই হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য। তবে এই হামলা চলাকালে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এর আগে গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা এবং রাতে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাবি সাংবাদিকরা।


বৃহস্পতিবারের হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন- কালের কন্ঠের মানজুর হোছাঈন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান এবং ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন। তাদের মধ্যে ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখে এবং মুখে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুতে নির্বাচন করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ফেসবুক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরূচিপূর্ণ বক্তব্য ছিলো। তবে আবদুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একটি পোস্টও দিয়েছিলেন। তবে এতেও ক্ষান্ত হননি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাধীন ফ্যাক্টচেকার রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি আসলে তার নয়, সেটি ঈশান চৌধুরী নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে করা হয়েছিল।


এদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই ভুয়া পোস্ট নিয়ে তাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি দিলে তিনি সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহবাগ নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে যান। তার সঙ্গে অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের জিএস উবায়দুর রহমান হাসিবসহ আরো দুইজন। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করে ছাত্রদল।


প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় জাগোনিউজের ঢাবি প্রতিনিধি ফেরদৌস ও রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বাধা প্রদান করে। এর প্রতিবাদ জানান মানজুর হোছাঈন মাহি। এ সময় ছাত্রদলের সাবেক সহ-স্কুল সম্পাদক বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান সামিথ মাহিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। তখন মাহি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিলে তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন। এ সময় ফেরদৌসসহ আরো কয়েকজন সাংবাদিক মাহিকে বাঁচাতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের থানার বারান্দা থেকে ধাক্কা দিতে দিতে থানা চত্ত্বরে নিয়ে আসে।


এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এর কিছু সময় পর অন্য সাংবাদিকরা থানায় উপস্থিত হলে সামিথ এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারী ইফাত হঠাৎ এসে বলতে থাকেন, ‘এই ভাইরে মারছে, ভাইরে মারছে’ বলে মব সৃষ্টি করেন। তখন আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়েন।


আবুজার গিফারীর নেতৃত্বে হামলায় অংশ নেয় ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সুলায়মান হোসেন রবি, সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান, সূর্য সেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সদস্য আদনান শাহরিয়ার, কারিব চৌধুরী ও জাহিন ফেরদৌস জামি, কবি জসীম উদ্‌দীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, শেখ মুজিবুর রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিতুর রহমান পিয়াল, নেতা হাসানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।


এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম অনিক, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফ খানসহ সংগঠনটির অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।


এই ঘটনার পর মানজুর হোছাঈন মাহিকে ফোন দিয়ে বারবার দুঃখ প্রকাশ করতে থাকেন ওবায়দুর রহমান সামিথ। এ সময় অন্যান্য সাংবাদিকরা এই ঘটনায় তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আগে মাহির সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সাথে ৩০ মিনিট কথা বলবো।


এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। বিষয়টা আমি শুনেছি। দেখছি আমি।


রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাবির সাংবাদিক নেতারা তিনটি দাবি তোলেন, জড়িতদের চিহ্নিত করা, জড়িতদের মধ্যে যারা ঢাবির শিক্ষার্থী তাদের বহিষ্কার করা ও সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার নিশ্চয়তা দেয়া। এসব দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com