সেই গ্রেনেড বর্বরতার স্মৃতি
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৭, ২০:৪৫
সেই গ্রেনেড বর্বরতার স্মৃতি
মো. তাসভীরুল হক অনু
প্রিন্ট অ-অ+

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। আমার ভাগ্যেও যা কিছু হতে পারতো সেদিন। মহান রব্বুল আলামিন আজো অক্ষত অবস্থায় বাঁচিয়ে রেখেছেন।


সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী শান্তির সমাবেশে এক এক করে উপস্থিত নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন। সভামঞ্চের ঠিক পাশেই আমরা ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলাম। জাতীয় নেতাদের বক্তৃতার শেষ দিকেই প্রাণপ্রিয় নেত্রী সভামঞ্চে আসলেন। নেত্রীর উপস্থিতিতে জয় বাংলা স্লোগানে, ধ্বনিতে কম্পিত হতে শুরু করলো পুরো সমাবেশস্থল।


তৎকালিন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের মনে চাপা কষ্ট, আক্রোশ, বাঁধভাঙ্গা আবেগে পরিণত হয়েছিলো সেদিনের জয় বাংলা ধ্বনিতে। সেদিন গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বাংলার মানুষ হত্যাকাণ্ড, বোমাসন্ত্রাস, জঙ্গি উপদ্রবে আক্রান্ত হওয়া ছিলো নিত্যদিনেরর ঘটনা। শুধু কে কোথায় কিভাবে আক্রান্ত হতে চলেছে? এমনটাই ছিলো সাধারণ মানুষের মনে উৎকণ্ঠা।


তাই, আওয়ামী লীগেরর সন্ত্রাসবিরোধী শান্তির সমাবেশে গণমানুষের ঢল নামে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রপন্থি দমনসহ দেশের সামগ্রিক অচলাবস্থাকে সচল করার প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুকন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রগতিশীল নেতৃত্বকে দারুণভাবে অনুভব করছিলো আপামর জনসাধারণ।


তৎকালীন বিরোধিদলীয় নেতা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমাবেশমঞ্চে এসেই বক্তৃতা শুরু করেন। আমরা তখন ঠিক সভামঞ্চের পাশেই অবস্থান নিয়ে নেত্রীর বক্তব্য শুনছিলাম। সভাশেষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ মিছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিলো।


শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই আমরা সভাস্থল ত্যাগ করে স্টেডিয়াম গেটের পাশে এসে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগকর্মীদের সংগঠিত করছিলাম আওয়ামী লীগেরর শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেয়ার জন্যে। নেত্রীর বক্তব্য প্রায় শেষ পর্যায়ে- বলে রাখছি, ওইদিন শেখ হাসিনা ২০ থেকে ২৫ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলেন। বক্তব্যশেষে নেত্রী জয় বাংলা বলামাত্রই বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণ ঘটলো।


সমাবেশস্থলে আকস্মিক একের পর এক বিস্ফোরণের আওয়াজ ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পুরো এলাকায়। আমরা তখনো বুঝে উঠতে পারিনি, এটা কি গ্রেনেড হামলা না অন্য কোনো সন্ত্রাসী আক্রমণ। দেশের ইতিহাসের সেই ভয়াবহ, নির্মম আকস্মিক গ্রেনেড হামলার শব্দ আজো কানে আঘাত করে। মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরা মানুষগুলোর বাঁচার আকুতি অজান্তেই চোখ জলে ভিজিয়ে দেয়।


আওয়ামী লীগ আয়োজিত সেই শান্তির সমাবেশে আমাদের সঙ্গে আসা নেতাকর্মীরা বাকরুদ্ধ অবস্থায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। তখন মনে হচ্ছিলো পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার উপক্রম। গ্রেনেড বোমার আঘাতে নিরপরাধ মানুষগুলোর দেহের ক্ষত বিক্ষত অংশ ও রক্তের ধারা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রাস্তার এদিক সেদিক পড়ে রয়েছে। গ্রেনেডে আক্রান্ত অসহায় মানুষদের উদ্ধার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অন্যান্যদের সহায়তায় আহত অনেককেই হাসপাতাল পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিলো।


কিন্তু অমানবিক অদ্ভুদ বাস্তবতা লক্ষ্য করলাম, গ্রেনেড বোমায় আক্রান্ত রক্তাক্ত মানুষগুলোকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা অন্যান্যদের তৎকালীন প্রসাশন কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় বাঁধা দেয়া হচ্ছিলো, শুধু তাই নয় গাল-মন্দের ভাষা ব্যাবহার করছিলো প্রসাশনের কেউ কেউ।


পরে জানতে পারলাম, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পরিকল্পনায় এবং পত্যক্ষ ইন্ধনে এ গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো। মানুষের রক্তাক্ত দেহের নিষ্পাপ চাহুনি আজো মনে দাগ কেটে যায়।


১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি জামায়াত, জঙ্গিদের সাথে আঁতাত করে খুনি জিয়ার কুপুত্র তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে মরণনেশায় মেতে ওঠে। প্রত্যক্ষ মদদে জঙ্গিদের ব্যবহার করে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা করে বহু মানুষকে হত্যা করে। দেশীয় সম্পদ ধ্বংস করে। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে সর্বোপরি এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে মৃত্যুবরণ করে আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী। পঙ্গুত্ব বরণ করে আরো শত শত নিরপরাধ মানুষ। এই খুনি জিয়া পরিবারকে বাংলার মানুষ কখনোই ক্ষমা করবে না।


বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের গতিশীলতায় দিশেহারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি জামায়াত ও তাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি হামলাসহ নানা রকম অশুভ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চক্রান্ত চালাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিভিন্ন হত্যা, সন্ত্রাস, ও জঙ্গিবাদ তাদেরই অসৎ রাজনৈতিক উদ্দের্শ।


এ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসসিনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট করজোড়ে প্রার্থনা, জাতির আশা ভরসার কেন্দ্রস্থল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যেন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকেন, সুস্থ থাকেন। তিনি বাঁচলেই দেশবাসী সুরক্ষিত থাকবন। দেশ এগিয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।


লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তর
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর


বিবার্তা/অনু/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com