ভালোবাসার ক্রিকেট, ভালো লাগার ক্রিকেট
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৭, ০১:০৪
ভালোবাসার ক্রিকেট, ভালো লাগার ক্রিকেট
আমিনুল হক পলাশ
প্রিন্ট অ-অ+

ইংল্যান্ডকে বলা যায় ক্রিকেটের আতুঁড়ঘর। সেই ইংল্যান্ড আজ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি মানুষের সমর্থন নিয়ে খেলতে নেমেছিল ক্রিকেটের আরেক কুলীন দল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। এতো মানুষের সমর্থন বৃথা যায়নি। দাপটের সাথেই জয় পেল ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের এই জয়ে ইংলিশদের চেয়ে বেশি খুশি হয়েছি আমরা। উঠে গিয়েছি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে।


বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল। দল হিসেবে আমাদের উন্নতির ছাপটা পরিসংখ্যানেই ফুটে উঠছে। ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের এদেশের মানুষ প্রবল ভালোবাসায় কাছে টেনে নিয়েছে, আবেগের উচ্চ স্থানে জায়গা দিয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন আমরা ধারাবাহিকভাবে এর প্রতিদান পাচ্ছি। আনন্দময় এই সময়ে ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং ম্যানেজমেন্ট এর সাথে জড়িত সকলের কাছেই কৃতজ্ঞতা জানাই।


নিঃসন্দেহে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সাম্প্রতিক সময়ের আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর মাঝে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টূর্নামেন্ট হিসেবেই স্বীকৃত হবে। টি ২০ এর দাপটের যুগে এই টুর্নামেন্ট ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে টিকে থাকা ছয়টি দলের যে কেউই চ্যাম্পিয়ন হবার যোগ্যতা রাখে। কালকের দুইটি ম্যাচই কোয়ার্টার ফাইনালে রুপ নিয়েছে। এতো জমজমাট টুর্নামেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখা যায়নি। ক্রিকইনফো কমেন্ট্রি থেকে একটা লাইন তুলে দেয়ার লোভ সামলাতে পারছি না, "Lions hunting kangaroos to feed them for tigers, meanwhile kiwis flying back to home. Things getting interesting in #CT17 jungle."


এর একটা নেগেটিভ দিকও আছে। বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দল সীমিতকরণের যুক্তি হিসেবে আইসিসি নিশিচভাবেই এই টুর্নামেন্টকে উদাহরণ হিসেবে দেখাবে। দল সীমিত থাকলে টুর্নামেন্ট অনেক অপেন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে ক্রিকেটকে অন্য খেলার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকতে হলে খেলাটির সম্প্রসারণের কোন বিকল্প নেই। সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেট উন্নতিতে আইসিসিকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিৎ। বিগত কিছু আইসিসি টুর্নামেন্টে আয়ারল্যান্ড কিংবা আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স অবশ্যই নজরকারা ছিলো। অতএব এই সহযোগী দেশগুলোর উঠে আসার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া উচিৎ। সেটা যে কোন ফর্মেই হোক না কেন। আট বা দশ দলের খেলা হলে ক্রিকেট খুব বেশিদিন দাপটের সাথে টিকতে পারবে না।


বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন প্রথমবারের মতো কোন আইসিসি টুর্নামেন্ট (যেকোন খেলার বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট) এর সেমিফাইনালে উঠার জন্য। ইংল্যান্ডকেও ধন্যবাদ। এখন শুধু আমাদের সামনের এগিয়ে যাবারই সময়। চ্যাম্পিয়ন হবার আশা আমরা করতেই পারি। জাস্ট দুটো ভাল দিন দরকার। সামর্থ্যের বিচারে আমাদের ঘাটতি নেই। চ্যাম্পিয়ন হওয়া খুবই সম্ভব। তারপরও প্রত্যাশার চাপ দেই না, যা পেয়েছি তাই অনেক। ভবিষ্যতে যে আরো অনেক পাব তাতে অন্তত কোন সন্দেহ নেই। এই আত্মবিশ্বাস টাই এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


বিবার্তা/পলাশ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com