আওতার মূলে বিদেশি শব্দ
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:০৪
আওতার মূলে বিদেশি শব্দ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলায় ব্যবহৃত আওতা শব্দটি তিনটি বিদেশি শব্দ থেকে এসেছে। তাই শব্দটির অর্থে পার্থক্য দেখা যায়। সংস্কৃত ‘আবৃত’ থেকে আগত ‘আওতা’ শব্দের অর্থ ছায়া, রোদ্রহীন জায়গা (রৌদ্র চাই, আওতায় থাকলে চলিবে না- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।


আবার আরবি ‘আহাতা’ ও সংস্কৃত ‘আয়ত্ত’ থেকে আগত ‘আওতা’ (আবৃত্ত > আও + তা) শব্দ দিয়ে অধিকার, অধীন, আয়ত্ত ও প্রভাব বুঝায়। যেমন আইনের আওতা, সরকারি আওতা। অন্যদিকে পরিধি, পাল্লা ও বেষ্টনী অর্থে যে ‘আওতা’ ব্যবহৃত হয়, তার মূল আরবি ‘এহাত’।


কিন্তু আরবি ‘ইনাতাহ’ থেকে আসা বাংলা আওতা মানে প্রভাব (এত বেশী আওতায় সে যেন কেমন ক্ষীণ ক্ষণভঙ্গুর আকার ধারণ করিল- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। অধীন বা অধিকার অর্থেও এ আওতা শব্দটি চালু রয়েছে (ওটা আমার আওতায় পড়ে না)। বাংলায় আওতা শব্দটি এখন লক্ষ্যার্থেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। লক্ষ্যার্থে আওতা শব্দের অর্থ প্রভাব বা প্রভাবশালীর অন্তরাল, ছায়া, চৌহদ্দি। মূলানুগ অর্থে আওতা অর্থ রোদ্র নিবারক আবরণ বা আচ্ছাদন বা আবৃত স্থান।


আবার এটা অনেকেরই জানা, মেঘনাদবধ কাব্যে নামধাতু হিসেবে আক্রমি [আক্রমণ করে (সহসা শার্দ্দুলাক্রমে আক্রমি রাক্ষসে, নাশ তারে)], আক্রমিবে [আক্রমণ করবে (কখন কে জানে, আসি আক্রমিবে ভীমা কোথায় কাহারে)] আক্রমিলা [আক্রমণ করলেন (রামচন্দ্র আক্রমিলা রণে কুমারে)], আক্রমিলে [আক্রমণ করলে (আক্রমিলে হুতাশন কে ঘুমায় ঘরে?)] ও আক্রমে [আক্রমণ করবে (পাছে ভীমা আক্রমে সহসা; হেরি গতজীব শিশু বিবশা বিষাদে)] ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন মধুসূদন দত্ত। তাঁর ব্যবহৃত আক্রমি, আক্রমিবে, আক্রমিলা, আক্রমিলে, আক্রমে ইত্যাদি শব্দের মত ‘আক্রমিয়া’ শব্দটিকে নামধাতু মনে হতে পারে।


আসলে শব্দটি কাজী নজরুল ইসলাম উদ্ভাবন করেছেন। মোহাম্মদী ও আজাদ পত্রিকার মালিক সম্পাদক মওলানা আকরম (আক্রম) খাঁর প্রতি ব্যঙ্গাÍক ইঙ্গিত হিসেবে কাজী নজরুল শব্দটি ব্যবহার করেন (এ-রহস্য সৃজিল আক্রমিয়া এইড-ইটার)।


মওলানা আক্রম খাঁ তার পত্রিকায় নানাভাবে কবি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতময় মন্তব্য করেছেন। এ কাজে তার প্রধানতম সহযোগী ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফা (নজরুলের ব্যঙ্গে ‘মস্তঃ বাঃ’)।


মোহাম্মদী পত্রিকায় (নজরুলের ব্যঙ্গে মহামুদি) কবি গোলাম মোস্তফার গর্ববতী কবিতার প্যারোডি হিসেবে নজরুল লিখেন ‘গর্ভবান’ (একি ফান, ওগো গর্ভবান। অথবা মহামুদি খানায় হল কি তব কাব্য গর্ভাধান?)


আর এইড-ইটার (aid-eater) অর্থ সাহায্য ভোক্তা হলেও নজরুল এখানে এইড-ইটার বলতে এডিটর (সম্পাদক) নির্দেশ করেছেন। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন তাঁর ‘বাংলা সাহিত্যে সওগাত যুগ’ গ্রন্থে লিখেছেন ‘সাপ্তাহিক ‘হানাফী’ও নজরুলকে আক্রমণ করে লিখতো। নজরুল বলতেন: ওটা ‘হানাফী; নয়- হাঁপানী। হাঁপানী রোগীর কথা কেউ কানে তুলো না। মাওলানা আকরাম খাঁ নজরুলের বিরুদ্ধে লিখতেন বলে নজরুল তাঁর নাম দিয়েছিলেন- আক্রমণ খাঁ। সজনী কান্ত দাস তাঁর বিরুদ্ধে লিখতেন। নজরুল বলতেন, ওর নাম সজনে ঘণ্ট খাস্, যেমন নাম তেমনি তো লিখবে! এসব তিনি হাসতে হাসতে বলতেন, গুরুত্ব দিয়ে বলতেন না। বিপক্ষদলের অনেকেরই নাম নিয়ে নজরুল রসিকতা করতেন।’


জিয়াউদ্দিন সাইমুমের ব্লগ থেকে


বিবার্তা/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com