অভিনয়ে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় যেতে চান সামিউল
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:১১
অভিনয়ে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় যেতে চান সামিউল
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

সামিউল জীবন একজন নাট্যকর্মী। কাজ করছেন মহাকাল নামক একটি নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল, তাই বড় হয়েই এসে গেছেন অভিনয়ে। জড়িয়েছেন ‘অভিনয়ের পাঠশালা’ নামে খ্যাত নাট্যগোষ্ঠী থিয়েটারে।


সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের প্রতিবেদকের সাথে দীর্ঘ আলাপে বেরিয়ে আসে তাঁর জীবনের নানা ঘটনা। সেই গল্প জানাচ্ছেন তৌফিক ওরিন।


সামিউলের বেড়ে ওঠা উপকূলীয় জেলা বরগুনার সদর উপজেলায়। মা-বাবার তিন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট, তাই আদর-ভালোবাসার ভাগটা পেয়েছেন বেশি। সেই আদর-ভালোবাসাই তার জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।


বরগুনা জেলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন জীবন। সেখানে পড়াশুনার পাশাপাশি চলতে থাকে সংস্কৃতি চর্চা। একই স্কুল থেকে এসএসসি এবং বরগুনা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন জীবন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে আসেন রাজধানীতে। ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে। সেখান থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরো একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।



ঢাকা কলেজে পড়াকালে সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন ছাত্ররাজনীতির সাথে। নাম লেখান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন একান্তই বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকে।


সামিউল জীবন সংস্কৃতি চর্চার শুরু সেই ছোটবেলা থেকে। বরগুনা জেলা স্কুলে ভর্তির পর জড়িয়ে পড়েন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সাথে। সেখানেই হাতেখড়ি ঘটে ছড়াগান, কবিতা ও অভিনয়ে। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কুড়িয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।


সামিউল বড় মঞ্চে পা রাখেন ‘নবনাট্য’ নামক নাট্যদলের এস এ রতনের হাত ধরে। এই দলের সাথেই তিনি কাজ করেন ভেলকি, সিরাজ-উদ-দৌলা, সাধু চরণ চোর নামক নাটকে।


বর্তমানে তিনি কাজ করছেন মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়ের সাথে। এই নাট্যদল প্রযোজিত ‘প্রমিথিউস’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। ‘শিখণ্ডি কথা’ নাটকেরও মূল চরিত্রে হিজড়ার চরিত্রে অভিনয় করেন সামিউল। তাছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত ‘ওথেলো’ নাটকের ইয়েগো চরিত্রসহ ‘নিশিমন বিসর্জন’, ‘নীলাখ্যান’, ‘শিবানী সুন্দরী’ নাটকেও বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যায় তাকে।



শুধু থিয়েটারে অভিনয় করেই থেমে থাকেননি তিনি। একই সাথে কাজ করেন থিয়েটার কোরিওগ্রাফিতে। শেক্সপীয়র কার্নিভাল, মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, জাগো, যখন আমার পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান - এই চারটি নাটকের কোরিওগ্রাফিতেও কাজ করেন তিনি। বর্তমানে সৈয়দ শামসুল হকের অনুবাদে ও আতাউল হকের নির্দেশনায় ‘হ্যামলেট’ নাটকের রিহার্সেল চলছে বলে জানান সামিউল জীবন।


শুধু থিয়েটার বা প্রথাগত অভিনয়ের মধ্যে নিজেকে বেঁধে রাখেননি সামিউল, নিজেকে আরো ভালোভাবে গড়ে তুলতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাইম অ্যাকশান’ নামক আরো একটি মুকাভিনয় সংগঠনে। একই সাথে কবিতার দল ‘কল্পরূপে’ও কাজ করেন তিনি।


মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি সামিউল জীবন অভিনয় করেছেন টিভি নাটকেও। ইমরুল রাফাতের ‘কলিংবেল’, নাহিদ জামানের ‘বিয়েবাড়ি বাড়াবাড়ি’, গৌতম কৈরীর ‘এন্টি ক্লক’, সাজিন আহমেদ বাবুর ‘কিট স্লাইমান’, মামুনুর রশিদের ‘বকুলপুরের রশিদ মাস্টার’ নাটকগুলোতেও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘সবার মুখে হাসি ফুটুক’ নামক রবির একটি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি।



সামিউল বর্তমানে আরো কয়েকটি টিভি নাটকে কাজ করছেন। বাংলা টিভির জন্য নির্মিত দিপঙ্কর দিপন পরিচালিত মেগা ধারাবাহিক ‘টক্কর’, আরটিভির জন্য মিলন ভট্টাচার্যের ‘ইনডিসিপ্লিন’ নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। তাছাড়া বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ নাটকের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই নাটকের শুটিং শুরু হবে আগামী মার্চে। এছাড়া সুমন মোস্তাফিজের ‘চক্রসুখ’ নামক শর্ট ফিল্মে কাজ করেছেন তিনি।


এত সবকিছু একসঙ্গে কিভাবে করছেন জানতে চাইলে সামিউল জীবন বিবার্তাকে বলেন, পরিশ্রম ছাড়া কিছুই হবে না। তাই আমি আমার সাধ্যমতো পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কোনো কিছুতে সফল হতে হলে লেগে থাকাটাও অত্যন্ত জরুরি। তবে এখনো থিয়েটারে অভিনয় চালিয়ে যেতে চাই। কারণ থিয়েটারই একজন অভিনেতার ভিত শক্ত করার প্রধান জায়গা।


তিনি বলেন, আমি আজ আপনার সাথে কথা বলছি সেটিরও কারণ থিয়েটার। থিয়েটারে কাজ করার কারণে আপনাদের সাথে আমার পরিচয়। তাই সব কিছুর সাথে সাথে থিয়েটারের কাজগুলো সময়মতো করে যেতে চাই।



তিনি আরো বলেন, আমি মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের কাছে ঋণী। একই সাথে এই নাট্যদলের সভাপতি মীর জাহিদ আহসানের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ, এই সংগঠন আমাকে প্রথম সুযোগ না দিলে আমি শুরু করতে পারতাম না।


নিজের অভিনীত কোন নাটক আপনার কাছে প্রিয় - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজের অভিনীত সব নাটকই আমার কাছে প্রিয়। যে চরিত্রে আমি কাজ করি, সেই চরিত্রের গভীরে গিয়ে অভিনয় করি। চরিত্রটি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি।


তিনি বলেন, প্রমিথিউস নাটকটির কথা আমার খুব মনে পড়ে। এই নাটকের মূল চরিত্র প্রমিথিউসের চরিত্রে অভিনয় করি । নাটকের থিমটি হচ্ছে অস্থির বিশ্বের সব অনাচার আর ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশের প্রতিযোগিতার বিপরীতে একজন প্রমিথিউস প্রয়োজন, যে শূন্য থেকে অমৃত চৈতন্য এনে ফুঁ দিয়ে ভরে দেবে চিত্ত চৈতন্যের নিরুদ্ধ ঘর। নির্দেশনা দেবে নতুন নেতৃত্ব। জিউস এ নাটকে যতটা না বেশি ঈশ্বর, তার চেয়ে বেশি ফেরাউন, হিটলার, লর্ড ক্লাইভের দাঁতাল প্রতিচ্ছবির রক্তচক্ষুর স্বৈরশাসক হিসেবে চিত্রিত হয়েছিল নাটকটিতে।


সামিউল নিজেকে অভিনয়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে যেতে চান। সে জন্য পরিশ্রম ও সততাকে পুঁজি করে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাবেন বলে জানান। স্বপ্ন দেখেন ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার।


বিবার্তা/ওরিন/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com