ছবি আঁকার প্রতি অনিন্দিতার অন্যরকম টান
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৭, ১৫:৫৮
ছবি আঁকার প্রতি অনিন্দিতার অন্যরকম টান
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

শাহনাজ ইসলাম অনিন্দিতা বসবাস করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া নগরীর ফেয়ারফ্যাক্সে। কাজ করেন বিশ্বব্যাংকের কমিউনিটি অর্গানাইজেশন ফ্যামিলি মেম্বার নেটওয়ার্কের (ডব্লিউবিএফএন) সমন্বয়ক হিসেবে।


বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনিন্দিতা একাধারে চিত্রশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার। তবে নিজেকে চিত্রশিল্পী পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের প্রতিবেদকের সাথে দীর্ঘ আলাপে বেরিয়ে আসে তাঁর জীবনের নানা ঘটনা। সেই গল্প জানাচ্ছেন বিবার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন।


অনিন্দিতার জন্ম ঢাকায়, তবে পৈত্রিক নিবাস লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই বড়। বাবা কূটনীতিক হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকে কেটেছে প্রবাসে। স্কুলজীবন শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইয়ে। আবার বাবার চাকরির সুবাদে সেখানকার স্কুলের পড়াশুনা শেষ করেই চলে আসতে হয় বাংলাদেশে।


দেশে এসে ভর্তি হন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলে। এসএসসি ও এইচএসসি’র পাট চুকিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। এক বছর পড়াশুনাও করেন সেখানে। তবে পারিবারিক প্রয়োজনে আবারো পাড়ি জমান প্রবাসে।



নিজের স্বপ্নের কথা জানতে চাওয়া হলে একটু হেসে বলেন, ছোটবেলায় ভাবতাম রাজনীতিবিদ হবো, দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবো। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইচ্ছাগুলোরও কেমন পরিবর্তন আসে। ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক প্রবলভাবে আমাকে আকৃষ্ট করতে থাকে। সেই ঝোঁক থেকেই চারুকলায় ভর্তি হওয়া। সেখানে পড়াকালেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার উদ্দেশ্যে চলে যাই কানাডায়। সেখানকার টরেন্টো শহরের সেনেকা কলেজে ভর্তি হয়ে যাই।


কানাডার পড়াশুনা শেষ করে চলে যাই অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। সেখানে একাডেমি অব ফাইন আর্টস, ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্ট অ্যান্ড স্কাল্পচার বিষয়ে পড়াশুনা করি।


পেশাগত জীবনের বাইরে শাহনাজ ইসলাম অনিন্দিতা একজন ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট। মূলত অ্যাক্রেলিক, তৈলচিত্র, ভাস্কর্য নিয়ে কাজ করতেই ভালোবাসেন তিনি।


‘চাকরি’বা ‘খোশখেয়াল’দুটি ভিন্ন বিষয় কখনো কি দোটানার সৃষ্টি করেছে - এমন প্রশ্নে অনিন্দিতা শাহনাজ বলেন, চাকরি আর চিত্রাঙ্কন আমার দুটি ভিন্ন সত্তা। একটি হচ্ছে পেশাদারিত্ব অপরটা শখ। আমার কাছে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিল্প-সাহিত্য, বিশেষ করে ছবি আঁকার প্রতি সবসময় একটা অন্যরকম টান অনুভব করি। সেই অনুভব থেকেই আজকে আমার আঁকা ছবির একটি বিশাল সংগ্রহ দাঁড়িয়ে গেছে।



গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে অনিন্দিতার ছবি নিয়ে একটি প্রদর্শনী হয়। একজন ইতালিয়ান শিল্পীসহ সেখানে আরো তিন শিল্পীর ছবিও প্রদর্শিত হয়।


কথা বলার এক পর্যায়ে চলে আসে প্রনাম সিং ও টিমোথি ইভান্স নামের দু’জন গুণী ব্যক্তির নাম। প্রনাম সিং ভারতের বেনারসের বিখ্যাত ‍চিত্রশিল্পী। এই গুণী ব্যক্তিই হচ্ছেন অনিন্দিতার ছবি আঁকার প্রেরণা। প্রনাম সিং নিজেই অনিন্দিতার ছবি এঁকে তাকে করেছেন সম্মানিত। অন্যজন টিমোথি ইভান্স, কাজ করছেন বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে। চাকরির বাইরে তিনি একজন সংস্কৃতি-অনুরাগী মানুষ। অনিন্দিতার বাসার দেয়ালজুড়ে টাঙানো প্রতিটি ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন টিমোথি। পেশাগত হাজারো ব্যস্ততার মাঝে চিত্রাঙ্কণের প্রতি অনুরাগের প্রশংসা করেন। একই সাথে ছবি আঁকার ক্ষেত্রে তাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন টিমোথি।


দেশীয় সাংস্কৃতির প্রতি প্রবল ঝোঁকের কারণে দেশে থাকাকালীন পড়াশুনার পাশাপাশি শুরু করেন সাংস্কৃতি চর্চা। নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করতে ভর্তি হন নজরুল একাডেমিতে। এখনও নাচ-গানের চর্চা করেন তিনি। গানের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণে জড়িয়ে পড়েন সঙ্গীতেও।



নিজে গান লেখার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন দুটি গানে। গত বছর বিখ্যাত শিল্পী মিলন মাহমুদের কথা ও সুরে ‘অসময়’ও ‘অচেনা শহর’শিরোনামে দুটি মিউজিক ভিডিও বাংলাদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। মিলন মাহমুদের ‘পরবাস’অ্যালবামের ‘নিশি’ও শিহাব রিপনের সুর করা ‘স্বপ্ন আছে বলে’গান দু’টিও লিখেছেন তিনি।


গানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সঙ্গীতের প্রতি তীব্র আত্মিক টান অনুভব করি আমি। সব ধরনের সঙ্গীত ও সুর আমাকে খুব টানে। যখনই সুযোগ পাই বাংলাসহ বিভিন্ন দেশ ও ভাষার গান শুনি।গানের টানেই গান গাওয়ার ইচ্ছা ও দুঃসাহস তৈরি হয় আামর।


অনিন্দিতা বলেন, তবে আমার কণ্ঠকে প্রাধাণ্য দিয়ে গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন সুরকার ও গীতিকার মিলন মাহমুদ। ‘ভালোবাসি কত যে তোমায়’ শিরোনামে গানটি আমার সাথে দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন তিনি নিজেই। এছাড়া ‘চোখের আলোয়’শিরোনমে দু’টি গানে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছি শিল্পী মিলন মাহমুদ ও আমি। গানগুলো কম্পোজ করেছেন শুচি শামস্। এই গান দুটি আগামী ভালোবাসা দিবসে আশা করি শ্রোতারা শুনতে পাবে এবং তাদের অনেক ভালো লাগবে। তবে সময়স্বল্পতার কারণে গানগুলোর মিউজিক ভিডিও তৈরি করা এখনো সম্ভব হয়নি।



অনিন্দিতা শাহনাজ ভ্রমণ করতেও ভালোবাসেন। এরই মধ্যে গিয়েছেন ভারত, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালিসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। কাছ থেকে দেখেছেন বিভিন্ন জাতির জীবনযাত্রা। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্মাণ করেছেন আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র।


কথা প্রসঙ্গে চলে আসে দেশের কথা। তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে কোনো কাজ করে সফলতা অর্জন করলে খুবই অনন্দিত হই। কারণ তখন আমার ভেতরে একটা অনুভূতিই কাজ করে, সেটা হচ্ছে আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক গর্বের।


অনিন্দিতা বলেন, আমার আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে কারো জন্য কিছু করা। এজন্যই আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা সত্যিই অনেক আনন্দের।


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com