
দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মালিক বিহীন রাস্তার পাশের একটি ঘর থেকে ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ ও ফেসবুকে প্রচার হওয়ায় মালামালের প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রকৃত মালিকের এজাহারে ভিত্তি ট্রাক জব্দ, ট্রাকের মালিক ও হেলপার সহ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
বিষয়টি রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন।
জব্দকৃত ট্রাক যাহার নং ঢাকা মেট্রো ট- ১১-৬৪৭৯। মামলার এজাহারভূক্ত আসামীরা হলেন ট্রাকের মালিক দিনাজপুর জেলার খানসামা থানা এলাকার স্বপন কুমার রায় (৪৫), একই এলাকার ট্রাকের হেলপার পৃথিল চন্দ্র রায় (৩৯), ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহ ও চোরাই মাল উদ্ধার সহ সিরাজগঞ্জ জেলার শফিকুল ইসলাম (৩৪) ও মোকামতলা শিবগঞ্জ এলাকার লাল মিয়া (৪০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাকিমপুর থানার মামলা নং ৪। এরমধ্যে স্বপন কুমার রায় (ট্রাক মালিক) কে গত ৪ জুলাই এবং বাকি তিনজনকে আজ রবিবার ৫জুলাই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এজাহার ভূক্ত বাকি আসামি ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও শহরের বিসিক শিল্পনগরীর থ্রি স্টার ফ্লাওয়ার ওয়েল ও ডাল মিলের মালিক সাখাওয়াত হোসেন গত ২ জুলাই হাকিমপুর থানা পুলিশের উদ্ধারকৃত মালামালের বিষয় জানতে পেরে ৩ জুলাই হাকিমপুর থানায় এসে উদ্ধারকৃত মালামাল নিজের বলে সনাক্ত করে এবং ৬ জনের নাম উল্লেখ সহ নাম অজানা ১০-১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন গত ৩০ জুন চট্টগ্রাম শহরের খাতুনগন্জ এলাকার নিউ এশিয়া পরিবহন ট্রান্সপোর্ট ২৪৮ এর মাধ্যমে পরিবহন ট্রাকে (জব্দকৃত) ৮ মেঃ টন ছোলা ও ৮ মেঃ টন সরিষা ঠাকুরগাঁও থ্রি স্টার ওয়েল ও ডাল মিলে নিয়ে আসার কন্ট্রাক করে। যাহা ১ জুলাই থ্রি স্টার ওয়েল ও ডাল মিলে পৌঁছার কথা। কিন্তু ট্রাকের ড্রাইভার মিজানুর রহমান এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে প্রথমে বলে গাড়ি জ্যামে পড়ে গেছে এবং ২ জুলাই বলে ঠাকুরগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের নিকট চলে আসছি। এরপর ফোনের সুইজ অফ। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাকিমপুর থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, গত দুই জুলাই মহড়াপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের পাশের এলাকা থেকে মালিক বিহীন ১০০ বস্তা ছোলা বুট ও সরিষা উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টা ফেসবুকে প্রচারের পর মালামালের মালিক থানায় উদ্ধারকৃত মালামাল নিজের বলে শনাক্ত করেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে গত ৩ জুলাই এজাহার ভূক্ত আসামি ট্রাকের মালিক স্বপন কুমার রায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ৪ জুলাই এজাহার ভূক্ত আসামি ট্রাকের (হেলপার) পৃথিল চন্দ্র রায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তার তথ্য মতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটার সাথে জড়িত ও চোরাই মাল উদ্ধার সহ শফিকুল ইসলাম ও লাল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শফিকুলের নিকট থেকে ১০ বস্তা ছোলা ও ১৫ বস্তা সরিষা উদ্ধার করা হয়। তবে লাল মিয়ার নিকট চোরাই মাল উদ্ধার না হলেও সে স্বীকার করে মালের বিষয়ে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবাহী ট্রাক ঠাকুরগাঁও আসার পথে প্রথমে ট্রাকের ড্রাইভার মিজানুর রহমানকে ১০ বস্তা নামিয়ে, সিরাজগঞ্জে শফিকুলের কাছে ১০ বস্তা ছোলা ও ২০ বস্তা সরিষা এবং লাল মিয়ার কাছে ১৫ বস্তা ছোলা ও ২০ বস্তা সরিষা নামিয়ে দেয়। বাকি ১০০ বস্তা হিলিতে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা দিনাজপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জবানবন্দি নেওয়া হবে। পরবর্তীতে রিমান্ডে নিয়ে এসে বাকি মালামাল উদ্ধার সহ আসামীদের গ্রেফতার অভিযান চলমান রয়েছে। তবে শফিকুল ও লাল মিয়া পূর্ব থেকে চোরাই মালামাল কেনবেচা করে পিসিআর মাধ্যমে জানা গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও থানা পুলিশ মাদক, চুরি ও মাদক সেবনকারী সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি জাকির হোসেন।
বিবার্তা/রব্বানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]