
টাঙ্গাইলে গত এক সপ্তাহে জেলার তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই পারিবারিক বিরোধ, লোভ কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
সর্বশেষ শনিবার (৪ জুলাই) রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী নিহত হন। তিনি ওই এলাকার লাল মাহমুদের ছেলে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে স্থানীয়রা রাস্তার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে খবর দেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে, গত ১ জুলাই সখীপুর উপজেলা হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পারভীন আক্তার উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্র জানায়, তার ছেলে ঢাকায় চাকরি করায় তিনি সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একা বসবাস করতেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গৃহবধূ নাজমা আলম নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঋণের চাপে পড়ে স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন সোনা লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
এদিকে, নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ হত্যার কারণ অনুসন্ধান করছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়া এলাকায় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। গত ২৮ জুন সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার অনেক তরুণকে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিবার্তা/বাবু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]