
যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। প্রবল স্রোতে একের পর এক বসতঘর, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক বসতঘর, একটি কুয়েতি মসজিদ, শত শত বিঘা ফসলি জমি এবং অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় হাটবাজার।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনার তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ছে নদীতীর। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার বাস্তুভিটা হারিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২২ বছর পুরোনো একটি মসজিদও সম্পূর্ণ নদীতে তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল হক (৫০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মাত্র ১৩ শতাংশ জমির ওপর ছিল আমার বসতবাড়ি। এখন পুরো বাড়িটাই নদীতে চলে গেছে। মাথা গোঁজার আর কোনো ঠাঁই নেই। খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে।
আরেক ভুক্তভোগী সুফিয়ান (৫২) বলেন, আমার একটাই ছাপড়া ঘর ছিল। গাছপালাসহ সবকিছু যমুনা গিলে খেয়েছে।
শাহ জামাল জানান, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। একই ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন এলাকার কালাম, ছালাম, বাবুল, শাহ আলম, মতিন, শাহিনসহ আরও অনেক পরিবার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার ঘরবাড়ি সরাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন তারা।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যমুনার তীরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন বা বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করলে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ভাঙন প্রতিরোধে পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বিবার্তা/বাবু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]