রাজশাহীর মিষ্টিতে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
চেখে দেখলেন ঐতিহ্যবাহী প্যারা সন্দেশ ও দই
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯
রাজশাহীর মিষ্টিতে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত রসগোল্লা গল্পে বিদেশি এক কর্মকর্তা মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ হয়ে বারবার হাত বাড়িয়েছিলেন। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করে অনেকটা তেমনই অভিব্যক্তি দেখা গেল বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের মুখে।


রাজশাহী সফরের সময় তিনি শহরের শতবর্ষের কাছাকাছি পুরোনো মিষ্টির প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডার-এ গিয়ে স্বাদ নেন প্যারা সন্দেশ, দধিয়া সন্দেশ, মুণ্ডা, মিষ্টি দই ও টকদইয়ের। মিষ্টির স্বাদে সন্তুষ্টির হাসি ও উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।


নিজের ফেসবুক পোস্টে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লেখেন, রাজশাহীর প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মনকাড়া সুগন্ধ আর মিষ্টির প্রলোভন সামলানো সত্যিই কঠিন।


গত মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন| সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার ঢাকায় ফেরার আগে আকস্মিকভাবেই তিনি রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার আগমনের খবর পেয়ে দোকান কর্তৃপক্ষ বিশেষ আপ্যায়নের প্রস্তুতি নেয়।


রাজশাহীর সাহেববাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৬ সালে ভারতের জয়পুরের মারওয়ারি ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ আগরওয়ালা প্রতিষ্ঠা করেন| দেশভাগের পর তিনি দোকানের দায়িত্ব কর্মচারী কানাইলালের কাছে দিয়ে ভারতে চলে যান| পরবর্তীতে মালিকানা পরিবর্তন হলেও ঐতিহ্যবাহী নামটি এখনও বহাল রয়েছে।


প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র পাল জানান, ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। খাঁটি ছানা, মাওয়া, পোস্তদানা, চিনি ও নলেন গুড়ের ব্যবহারে ˆতরি মিষ্টির কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি পেয়েছে।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতকে আমরা প্যারা সন্দেশ, দধিয়া সন্দেশ, মুণ্ডা ও দই পরিবেশন করি। তিনি সবকিছুর স্বাদ নিয়েছেন এবং প্রশংসা করেছেন।


গণেশ চন্দ্র পাল আরও জানান, ২০১৯ সালেও ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহী সফরে এসে এই দোকানের মিষ্টি খেয়েছিলেন। সেই সময়ের ছবি সংরক্ষিত রয়েছে, যা বর্তমান রাষ্ট্রদূতও দেখেছেন|


বর্তমানে রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে প্রায় ২৪ ধরনের মিষ্টি ও সন্দেশ ˆতরি হয়| প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় মণ মিষ্টি বিক্রি হয় এখানে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেড় বছর আগে সাহেববাজারের মুড়িপট্টিতে আরও একটি শাখা চালু করা হয়েছে। দুই শাখায় বর্তমানে কাজ করছেন ৪৮ জন কর্মচারী।


মিষ্টির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি ঐতিহ্য হলো সকালের নাশতা| প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এখানে লুচি ও ডাল পরিবেশন করা হয়| সময়ের সঙ্গে লুচির দাম বাড়লেও ডাল এখনও বিনামূল্যে দেওয়া হয়| ১৯৭৯ সালে একটি লুচির দাম ছিল ১০ পয়সা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা।


বিবার্তা/লিটন/িএমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com