
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি। রাউজানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই প্রভাবশালী ধারা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার অনুসারীদের সংঘাত-সংঘর্ষের জেরে গত বছরের ২৯ জুলাই জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। এরপর থেকে সাংগঠনিক এই জেলায় দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ কার্যত থমকে আছে। তবে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শৃঙ্খলাহীনতায় উদ্বিগ্ন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবার নতুন করে দল গোছানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
উত্তর চট্টগ্রামের ৭ উপজেলা ও ৯টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই সাংগঠনিক জেলা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ বিরোধে সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন চান সংঘাতের রাজনীতি থামিয়ে বিতর্কমুক্ত, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হোক।
বিএনপি সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে ৪৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে আরও নয়জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হলেও দলীয় কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক কাঠামো আর শক্তিশালী করা সম্ভব হয়নি। সাত উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনই করা যায়নি।
চলতি বছরের শুরুতে রাউজান উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা হলেও সেটি মেনে নেননি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তাঁর অনুসারীরা আলাদা বলয় তৈরি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মূলত তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারপন্থিদের দ্বন্দ্বেই রাউজানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
গত ২১ মাসে রাউজানে অন্তত ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল কদলপুর এলাকায় নাছির উদ্দীন নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু রাউজান নয়, উত্তর চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলাতেও কমবেশি সংঘর্ষ-সংঘাতের ঘটনা ঘটছে প্রায়।
বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার দাবি করেন, নানা বাধা সত্ত্বেও তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন সব উপজেলা ও পৌরসভায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ করা যায়নি।
এদিকে নতুন কমিটি গঠন ঘিরে ইতোমধ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছেন এক ডজনের বেশি নেতা। তাঁদের মধ্যে আছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, এম এ হালিম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, নূরুল আমিন, অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ, সরোয়ার আলমগীর, জসিম উদ্দিন ও কতুব উদ্দিন বাহারসহ আরও কয়েকজন।
বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্য, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হলে দলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনও দ্রুত কমিটি ঘোষণার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা হবে।
চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, রাউজানসহ উত্তর চট্টগ্রামে চলমান বিরোধ ও সহিংসতা দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাই এবার এমন নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে, যারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হবে।
বিবার্তা/জয়দেব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]