পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী
রূপপুর-টানেল-পদ্মা সেতুতে অপ্রয়োজনীয় খরচ না হলে ‘বেটার’ কিছু করা যেত
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৩:০০
রূপপুর-টানেল-পদ্মা সেতুতে অপ্রয়োজনীয় খরচ না হলে ‘বেটার’ কিছু করা যেত
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রূপপুর, টানেল ও পদ্মা সেতুতে অপ্রয়োজনীয় খরচ না হলে সবক্ষেত্রেই বেটার কিছু করা যেত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের পেশাদারিত্ব, আধুনিকায়ন, বিগত সরকারের অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন।


প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত দেড় দশকের আওয়ামী লীগ আমলে সৃষ্ট ভঙ্গুর অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরেন। অডিটর জেনারেলের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি কিছু চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করেন:


রূপপুর প্রকল্প: তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোয়ার্টারের জন্য একেকটি বালিশ কেনা হয়েছে ৮০ হাজার টাকায়। যেখানে পাশের দেশে একই ধরণের প্রকল্প ১৪ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা। ৩০ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৪-৫ লক্ষ টাকা।


কর্ণফুলী টানেল: কর্ণফুলী টানেলের দুপাশে গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ কোটি টাকা কোনো কাজ ছাড়াই তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টানেলের পাশে অপ্রয়োজনীয় লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরিতে শত শত কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে।


পিরোজপুরের ঘটনা: পিরোজপুর জেলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি মিনিস্ট্রি (এলজিআরডি) থেকে কাজ না করে কেবল কাগজ দেখিয়ে ৩৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ৬০০০ কোটি টাকার হদিস নেই।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ, এর বোঝা দেশের ২০ কোটি মানুষের মাথার ওপর। আজ যদি এই টাকাগুলো থাকতো, তবে আপনাদের আবাসন, ট্রান্সপোর্টেশন এবং আইটি ইউনিটের দাবিগুলো আমরা মুহূর্তেই পূরণ করতে পারতাম।’


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন রূপ দিতে চায় যা হবে সত্যিকারভাবে জনবান্ধব। পুলিশ প্রশাসন হলো সরকারের আয়না। দুর্নীতি-সন্ত্রাসের ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করুন।


তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ চেষ্টা করলে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে দেশ। পুলিশ সদস্যদের বহুমুখী দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের যেকোনো জায়গায় কাজ করার মানসিকতা জরুরি। এসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ না করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে সরকার। সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতির মূলনীতি। জনগণ কীভাবে সরকারকে দেখে বা মূল্যায়ন করে তা অনেকটাই নির্ভর করে পুলিশের ভূমিকার ওপর। তাই বাহিনীর সদস্যদের মানবিকতার গুণগুলো রপ্ত করতে হবে।
বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com