
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর বেগম রোকেয়া হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করে পরে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আগের রাতে হলের কয়েকটি কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভোরে এক নারীর চলাফেরা ও আচরণ শিক্ষার্থীদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য করেন। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, চুরির উদ্দেশ্যে তিনি হলে প্রবেশ করেছিলেন।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পভার্টি স্টাডিজ বিভাগের এমএস শিক্ষার্থী যাবিন তাসমিন মারিয়া বলেন, গত রাতে আমাদের হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আজ সকালে দেখি আমার রুম (৫০৮) খোলা। বিষয়টি আমাকে আতঙ্কিত করে। পরে আমরা ওই মেয়েটিকে রুমের আশপাশে দেখতে পাই। মেয়েটি সকালে এসে হলে গোসলও করেছেন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, মেয়েটি মাদকাসক্ত, আটক মেয়েটি একা নন; তার সঙ্গে একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে, যারা নিয়মিত বিভিন্ন হলে চুরির সঙ্গে জড়িত। মেয়েটি হলে রুম থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি করে হলের শিক্ষার্থীদের নামাজ কক্ষে রেখে দিয়েছেন,পরে তা পাচার করাবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, হলে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পার্সসহ মূল্যবান জিনিসপত্র থাকে। এইভাবে চুরি হলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তারা ছাত্রী হলের নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানান।
আটক নারী নিজের পরিচয় শারমিন হাসান সুমি বলে জানান। তিনি ফার্মগেট এলাকার একটি বাসায় থাকেন বলে দাবি করেন। পরিবারের যোগাযোগ নম্বর জানতে চাইলে তিনি কোনো নম্বর মনে নেই বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে প্রবেশ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জান্নাত” নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি সকালে হলে এসেছিলেন। ওই শিক্ষার্থী তাকে পানি খাওয়ার কথা বলে হলের ভেতরে রেখে চলে যান বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালক মো. জাবের আলী বলেন, “মেয়েটির অধিকাংশ কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি বারবার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন।”
বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোছা. নুর মহল আক্তার বানু বলেন,“হলের গার্ড দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই গেট খুলে চলে যান। সেই সুযোগে মেয়েটি হলে প্রবেশ করে। হলের নিরাপত্তা আরও জোরদারের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। হলে প্রবেশের সময় হল কার্ড প্রদর্শনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. আরফান আলী বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের নিরাপত্তা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। হলে প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বিষয়টি কার্যকর করলে ভালো হয়, যা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত বোধ করবে। আমরা বিকল্প বিষয় পরিকল্পনা করছি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।” পরে আটক নারীকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা থানা পুলিশ-এর এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, মেয়েটিকে হেফাজতে নেওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।
বিবার্তা/ফাহিম/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]