
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবস উদযাপন ঘিরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। ইউক্রেন হামলার চেষ্টা করলে কিয়েভে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মস্কো। এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে দ্রুত কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মস্কো বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করা হয়েছে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বুধবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, আগামী ৯ মে বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন হামলার চেষ্টা করলে রাশিয়া পাল্টা হামলা চালাবে, এমন সতর্কতা এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে প্রতিবছর ৯ মে রাশিয়ায় সামরিক কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই সামরিক প্যারেডকে ঘিরেই এবার বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
জাখারোভা বলেন, ‘রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপনার দেশের কর্তৃপক্ষ ও আপনার সংস্থার নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অনিবার্য পাল্টা হামলার কারণে কিয়েভ শহর থেকে কূটনৈতিক ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের দ্রুত ও অবিলম্বে সরিয়ে নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও দাবি করেন, সোমবার আর্মেনিয়ায় ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটির বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করার বিষয়ে ‘আক্রমণাত্মক ও হুমকিমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন।
জাখারোভা বলেন, ‘বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু তাদের কেউই কিয়েভ সরকারের এই উসকানিদাতাকে থামানোর চেষ্টা করেনি।’
অন্যদিকে আর্মেনিয়ায় দেয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে এবং সামরিক সরঞ্জাম ছাড়াই আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অনেক, অনেক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম তারা সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের সামর্থ্য পাচ্ছে না। তারা আশঙ্কা করছে রেড স্কয়ারের ওপর ড্রোন উড়তে পারে। এটাই অনেক কিছু বলে দেয়।’
বৃহস্পতিবার সকালে এক্সে দেয়া পোস্টে জেলেনস্কি দাবি করেন, ৯ মের সামরিক কুচকাওয়াজের প্রস্তুতির জন্য রাশিয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে মস্কোর আশপাশে মোতায়েন করছে। এতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার সুযোগ বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে রুশ নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি নিচ্ছে না। তারা রাশিয়ার বাকি অংশের চেয়ে মস্কোর প্যারেড নিয়েই বেশি চিন্তিত’। তিনি আরও বলেন, ‘একই সময়ে আমরা দেখছি, এটি আমাদের দূরপাল্লার অভিযানের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করছে। সে অনুযায়ী আমরা আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করব।’
এদিকে বিজয় দিবসকে সামনে রেখে দুই দেশই পৃথকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইউক্রেন ৬ মে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে ৯ মে বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাশিয়াও সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]