
পরস্পরের যোগসাজশে একই ঠিকাদারি কাজের বিল দুইবার উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের দুই কর্মচারীকে ‘গুরুদণ্ড’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিত করা হয়েছে এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিন। তারা দু’জনই লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) দপ্তরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট স্টেশন থেকে আদিতমারী পর্যন্ত রেললাইনের প্রোটেকশন ওয়াল নির্মাণের কাজ পায় ‘মেসার্স রিচ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ সম্পন্নের পর ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি অর্থনৈতিক কোড ৩২৫৮২০৬-এর মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধ করা হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক কোড (৪১১১৫০১) ব্যবহার করে একই কাজের বিপরীতে আবারও একই অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করা হয়, যা গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি হিসেবে ধরা পড়ে।
ঘটনাটি প্রথম উদঘাটন করেন লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) শিপন আলী। এরপর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি তদন্তে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীকে (এইএন) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধি দ্বিতীয়বার বিল উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা জানান, তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনের পরামর্শ ও প্ররোচনায় তারা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দ্বিতীয়বার উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রথম বিল প্রক্রিয়াকরণে তারিকুল ইসলামের সম্পৃক্ততা তিনি স্বীকার করলেও দ্বিতীয়বার বিলের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে দাবি করেন। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণে দ্বিতীয়বার বিল প্রেরণের ক্ষেত্রেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়।
অন্যদিকে রইছ উদ্দিন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও তদন্তে প্রমাণিত হয়, বিল প্রক্রিয়াকরণ, রেজিস্টার সংরক্ষণ, অগ্রায়ন পত্র প্রেরণ এবং হিসাব বিভাগের প্রত্যয়ন সংগ্রহসহ পুরো প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা শেষে তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, একই কাজের বিল পুনরায় উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনই মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এ কারণে “রেলওয়ে কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) বিধি, ১৯৬১” অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ‘গুরুদণ্ড’ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্তরা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।”
বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন, “ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করা হয়েছে।”
বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]