অনুমতি ছাড়াই ফুলবাড়ীতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫৭
অনুমতি ছাড়াই ফুলবাড়ীতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৪নং বেতদীঘি ইউনিয়নের বাসুদেবপুর (ফরিদাবাদ) এলাকার ফসলি জমিতে স্কেকেভেটর (ভেকু) দিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে। রাস্তা ঘেঁষে পুকুর খননের কারণে এক সময় ভাঙ্গনের মুখে পড়বে উপজেলার কাঁথাওড়া মোড় থেকে মাদিলাহাট গ্রামীণ রাস্তাটি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।


সরেজমিনে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার ৪নং বেতদীঘি ইউনিয়নের বাসুদেবপুর (ফরিদাবাদ) এলাকার ২৮০ শতাংশ ফসলি জমিতে স্কেকেভেটর (ভেকু) দিয়ে পৃথক তিনটি পুকুর খনন করা হচ্ছে গত ১৫দিন আগ থেকে। ইতোমধ্যে দুইটি পুকুরের খনন কাজ শেষ হলেও ৫৭ শতাংশ জমিতে শেষ পুকুরটিরও খননের কাজও প্রায় শেষ প্রান্তে। ফসলি জমি ধ্বংস করে উপজেলার কাঁথাওড়া মোড় থেকে মাদিলাহাট গ্রামীণ রাস্তা ঘেঁষে পুকুরটি খনন করায় ভাঙ্গনের মুখে পড়বে রাস্তাটি। তবে পুকুর খননকারী প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কোনো প্রতিবাদ করতে পারছেন না।


স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, পুকুর খনন করে আশপাশের জমি ও রাস্তা ধ্বংস করার কাজ চলছে। রাস্তা ঘেঁষে পুকুর খনন করলেও দেখার যেন কেউ নেই। পুকুর মালিক বাবলু হোসেন তার ম্যানেজার মো. মাসুদকে এখানে রেখে বেশ কিছুদিন থেকে স্কেকেভেটর (ভেকু) দিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করলেও দেখার যেন কেউ নেই। এলাকার বেশিরভাগ দিনমজুর শ্রেণির হওয়ায় কেউই এর প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।


পুকুর খননের পার্শ্বের জমির মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুকুর খননের জন্য শুধুমাত্র রাস্তাই হুমকি পড়ছে না,পড়ছে পুকুরের আশপাশের ফসলি জমিও। ভবিষ্যতে আশপাশের জমিগুলোও পুকুরের ভাঙ্গনের কবলে পড়বে। এজন্য ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করা হোক।


পুকুর খনন কাজের তদারককারী পুকুর মালিকের ম্যানেজার মো. মাসুদ বলেন, পুকুরের মালিক বাবলু হোসেন ঢাকায় থাকেন। মালিকের নিয়োজিত ম্যানেজার হিসেবে স্কেকেভেটর (ভেকু) দিয়ে তিনটি পুকুর খনন কাজ তিনি তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে দুইটি পুকুরের খনন কাজ শেষ হওয়ার পথে। বর্তমানে রাস্তা ঘেঁষে ৫৭ শতাংশ জমিতে খনন কাজ চলছে। আগামী ২/৪ দিনের মধ্যে এটিরও খনন কাজ শেষ হয়ে যাবে। কাজ শেষ হলে মাছ চাষ করা হবে। ফসলি জমিতে পুকুর খনন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো প্রকার অনুমতি নেওয়া আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময়ের অভাবে এমন কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রচলিত আইন অনুসারে কোনো জমির রকম পরিবর্তন করা যাবে না। এটি করতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। আর বাসুদেবপুর এলাকায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন চলছে একটি জানা নেই। বিষয়টি ইউএনওকে জানালে ভালো হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খননের ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিবার্তা/অমর/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com