
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে ১২০০ জনের অধিক মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে তিন দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দলের নারী নেত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার অনেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত আসন পাবে বলে জানিয়েছে ইসি।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তিন দিনে ১২০০-এর অধিক ফরম বিক্রি হয়েছে।
এবার নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরমের দাম ছিল দুই হাজার টাকা। তবে ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জামানত (অফেরতযোগ্য) নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩০ এপ্রিল। আর ভোট আগামী ১২ মে।
বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হতে যারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে খন্দকার আখতারা খাতুন, মহিলা দলের সাবেক নেত্রী শিরিন সুলতানা, বিএনপির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দফতর সম্পাদক রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহিনূর নার্গিস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেত্রী আরিফা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তানজীন চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক নুরুন্নাহার, মহিলা দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজসহ অনেকে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী শাহিনূর নার্গিস বিবার্তাকে বলেন, আজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যাশিত প্রার্থী এবং দল ১৭ বছরের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের একটা ফ্রেমকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করছে। আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৮ সালে বিরোধী দল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মামলা-হামলার শিকার হয়েছি, ১/১১’র আর্মি শাসনে রাজপথে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে নেত্রীকে মুক্ত করেছিলাম, তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর গর্জে উঠেছিলাম, অসংখ্য রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, সকল আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। জেল-জুলুমসহ নানাভাবে দমন-পীড়ন ও নির্যাতিত হয়েছি। নারী হয়েও বাসায় থাকতে পারিনি। দলের কাছে অনুরোধ, বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে যারা রাজপথে থেকেছে, নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত রেখেছে, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের জেলখানাসহ জামিন পর্যন্ত পাশে নেতা হিসেবে পাশে ছিল তাদের দিকে সুদৃষ্টি দিতে।
নার্গিস বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সব আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। তাই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমার বিশ্বাস নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। আমি এমপি নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী তানজীন চৌধুরী লিলি বিবার্তাকে বলেন, প্রথমে ছাত্রদল, পরে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের সংগ্রামে ছিলাম, দুঃসময়ে প্রতিটি কর্মসূচি পালন করেছি। নিজেরাও কর্মসূচি দিয়ে কাজ করেছি। দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]