
আমরা অনেক সময় ভেবে নেই যে আমরা যেটা ভাবছি সেটাই করছি। তবে বাস্তবে কিন্তু এমন নয়। অবচেতন মন বিশাল প্রভাব রাখে যেটা আমরা বুঝতেই পারি না। একসময় বিজ্ঞানীরা এই অবচেতন মনের বিষয়টাকে কেবল কল্পনা মনে করতো, তবে বিষয়টা একদমই এমন নয়। এখন জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং কম্পিউটেশনাল সাইন্সের এক পরীক্ষিত ক্ষেত্র এই অবচেতন মন। ডিসকভারওয়াইল্ডসায়েন্সের এক প্রতিবেদন অবচেতন মনের ৮টি অবাক করা বিষয় উঠে এসেছে। এক নজরে দেখা নেয়া যাক।
১. গোপন সূত্র
আপনার মস্তিষ্কের প্রধান কাজগুলোর একটি বড় অংশ ঘটে চোখের আড়ালে। জুতো বাঁধা বা পরিচিত রাস্তা দিয়ে হাঁটার মতো পরিচিত কাজগুলোকে অচেতন মন সামলায় যেটা আমরা বুঝতেও পারি না। এই কাজগুলো যেন নিজেথেই হতে থাকে। আমরা রাস্তা পার করার সময় অনেক সময় না জেনে গতি বাড়িয়ে দেই সেটা সচেতন মন করে না। অচেতন মন পরিস্থিতি বুঝে সেটা করে দেয়।
২. শরীর থেকে আসা সংকেত
শুনতে অবাক লাগলেও আমাদের অচেতন মনের কাজ শুধু মস্তিষ্কের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গেও জড়িত। হার্টবিট, পেটের গতি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের ধরন এগুলো স্নায়ুর মাধ্যমে, বিশেষ করে ‘ভ্যাগাস নার্ভ’-এর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে ক্রমাগত তথ্য পাঠায়। আর এই এই সংকেতগুলো মেজাজ বদলে দেয় এবং চিন্তার আগেই তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদন। "কিছু একটা সন্দেহজনক" ভাবার আগেই শরীর তার রিপোর্ট জমা দিয়ে দেয়।
৩. অনুমান আগে
বলা হয় মস্তিষ্ক মূলত একটি ‘অনুমান মেশিন’ আর অচেতন মন হলো পূর্বাভাস দাতা। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশের পরিবেশকে দেখে যাই আর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনুমান করি। পরিবেশকে আগে থেকেই অনুমান করার কারণে আমরা অনেক স্পষ্ট পরিবর্তন দেখতে পারি না। এ কারণে শব্দ থেকে ফোন এসেছে, ভেবে নেই আমরা বাস্তবে কিন্তু কল বাজে না।
৪. কোনও কিছু না জেনেও শেখা
আমরা নিজের অজান্তেই অনেক কিছু শিখে নেই, অভ্যাস করে ফেলি যেটার ব্যাখা নেই। গবেষকরা একে বলেন ‘ইমপ্লিসিট বা অন্তর্নিহিত শেখা’। অনেকসময় দেখা আমরা সমাজের নানান নিয়ম শিখে ফেলি না জেনেই। এটাই মূলত না জেনে শেখা আর এতে সাহায্য করে আমাদের অবচেতন মন।
৫. প্লাসিবোর শক্তি
প্রত্যাশা শুধু চিন্তা নয়, এটি জৈব-রাসায়নিক সুইচ। ক্ষতিকর কিছু না হলেও একটি ওষুধ খেলে ব্যথা কমে যায়, কারণ মস্তিষ্ক বিশ্বাস করে বিষয়টা আর তার প্রভাব দেখা দেয় আমাদের শরীরে।
৬. প্রাচীন পদ্ধতি থেকে আধুনিক বিজ্ঞান
ব্রেন স্ক্যানার আসার আগেও আবেচতন মন নিয়ে গবেষণা চলেছে। তখন জিভ কেটে যাওয়া বা প্রাইমিং টাস্কের মাধ্যমে অচেতন মন নিয়ে গবেষণা করেছেন। ধীরে ধীরে এই পদ্ধতিগুলো আধুনিক হয়েছে। আজ নিউরোইমেজিং, আই-ট্র্যাকিং এবং কম্পিউটেশনাল মডেলের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায়।
৭. প্রতিদিনের সিদ্ধান্তে পেছনে লুকানো সত্যি
আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে অবচেতন মন গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় দেখা যায় কোনও কিছু হারানোর ভয় থেকে আমরা ভুল বুঝি ভুল কাজ করে ফেলে। কিন্তু আমরা জানিও না কেন সিদ্ধান্ত নিলাম। অচেতন মন দ্রুত সমাধান খুঁজতে যায় আর তখন সেটা যায় সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব তৈরি হয়।
৮. ভবিষ্যতের দৃশ্যপট
পরিধানযোগ্য সেন্সর বা নিউরো ফিড ব্যাকের মতো নতুন প্রযুক্তি অচেতন মনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। ভবিষ্যতে হয়তো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন ঘুম, আসক্তি বা মেজাজ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অবচেতন মন প্রভাব জানতে প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে। তখন হয়তো অবচেতন মনের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা আসবে।
সবশেষে বলা যায় অবচেতন মন একটি জটিল বিষয়। এট পর্দার আড়ালে থেকেও আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]