
প্রতিদিনের রান্নায় একটু বেশি তেল, ব্যাপারটা অনেকের কাছেই তেমন গুরুত্বের মনে নাও হতে পারে। কিন্তু অজান্তেই এই অভ্যাসই শরীরে ডেকে আনছে একের পর এক জটিল রোগের ঝুঁকি।
হার্টের সমস্যা, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, স্থূলতা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে অতিরিক্ত তেল খাওয়ার সম্পর্ক। আমরা কী খাচ্ছি, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কতটা খাচ্ছি, বিশেষ করে তেলের ক্ষেত্রে। তাই সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিনের তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা কেন জরুরি, তা জানা এখন সময়ের দাবি।
সুস্থ থাকতে তেলের ব্যবহার কতটা হওয়া উচিত, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। অনেকেই জানেন অতিরিক্ত তেল ক্ষতিকর, কিন্তু সঠিক পরিমাণটা ঠিক কত, সেটাই অনেকের অজানা। এই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছে ভারতের খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
দৈনিক তেলের নিরাপদ পরিমাণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রায় ৩-৫ চা চামচ (প্রায় ১৫–২৫ মিলিলিটার) তেল থাকাই যথেষ্ট। তবে যাদের ওজন বেশি বা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও কমিয়ে ২ চামচের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
এফএসএসএআই-এর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন রান্নায় ব্যবহৃত তেল ৫ চামচের বেশি না হওয়াই ভালো। খুব বেশি হলে তা যেন ৬ চামচ অতিক্রম না করে। হিসাব করলে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাসিক তেল গ্রহণের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটারের মধ্যে থাকলে তা স্বাস্থ্যসম্মত ধরা হয়।
ডায়েটে তেলের ভূমিকা
প্রতিদিনের খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট ও ভিটামিন—সবকিছুরই ভারসাম্য থাকা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও এফএসএসএআই-এর নির্দেশিকা বলছে, দৈনিক মোট ক্যালোরির প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ আসা উচিত ফ্যাট থেকে। তবে এই ফ্যাট শুধু রান্নার তেল থেকেই নয়; দুধ, মাছ, মাংস, বাদামসহ অন্যান্য উৎস থেকেও আসে। তাই রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কার জন্য কতটা তেল উপযুক্ত
হার্টের রোগী: প্রতিদিন ২-৩ চা চামচের বেশি তেল না খাওয়াই ভালো। মাখন ও বনস্পতি এড়িয়ে চলা উচিত।
অতিরিক্ত ওজন থাকলে: তেলের পরিমাণ ২ চামচ বা তার কমে নামিয়ে আনতে হবে। ভাজাপোড়া কমিয়ে ভাপানো বা গ্রিল করা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
উচ্চ কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড: শুরুতে দিনে ২ চামচের বেশি তেল নয়। সর্ষে বা তিলের তেল তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগী: কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় রাখতে দিনে ৩–৪ চামচের মধ্যে তেল সীমিত রাখা উচিত।
রান্নায় তেল কমানোর সহজ কৌশল
বোতল থেকে সরাসরি তেল না ঢেলে চামচ দিয়ে মেপে ব্যবহার করুন
নন-স্টিক পাত্রে রান্না করলে কম তেল লাগে
মশলা কষানোর সময় অল্প পানি বা দই ব্যবহার করলে তেলের প্রয়োজন কমে
ডুবো তেলে ভাজার বদলে এয়ার ফ্রায়ার বা ওভেনে বেক করা যেতে পারে
তেল পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়, বরং পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। দৈনন্দিন খাবারে একটু সচেতনতা আনলেই তেলের অতিরিক্ত ক্ষতি এড়িয়ে চলা সম্ভব।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]