
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দলনেতা তরু মুন্সি (৪৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তরু মুন্সি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সি ছেলে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসনে কৃষকদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এদিন সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম শুরু করে। তালিম শেষে তাদের ওই বাড়িতেই ইফতার মাহফিল করার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিমের খবর পেয়ে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলী সহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিম বন্ধ করতে বলে।
এ নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলী সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি গুরুতর আহত হলে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা গেছেন। এ ঘটনার পর নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এর আগে শুক্রবার মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হয়। মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সেখানে গিয়ে তালিম করার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতরা ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর জামায়াতের কর্মীরা গান্না ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গান্না বাজারে জামায়াতের কর্মীদের দোকান পাট ও পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সহ বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা দলীয় ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক তালিমে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তালিমে যেতে বাধ্য করার ব্যাপারে জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে জানতে গেলে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। ওই সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বিএনপির নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত আমাদের কৃষকদলের নেতা তরু মুন্সি মারা গেছেন। আমরা এঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও গ্রেফতার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র্যা ব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।
বিবার্তা/রায়হান/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]