
ছেলেকে বিয়ে দিয়ে মাইক্রোবাসে পরিবারের ১৫ সদস্যকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই সেই বিয়ের আনন্দ বিষাদের সাগরে ডুবে গেল। বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর ও কনে পরিবারের ১২ নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মাইক্রোবাসের চালকও। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন।
নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান, ভাই সামিউল আলম (৪২), তিন ছেলে বর সাব্বির, ইমরান, আলামিন ও শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল (২৩), ঐশী (২৮) এবং কনে পরিবারের কনে মার্জিয়া মিতু (২৫), কনের ছোট বোন লামিয়া (১২) ও কনের নানী (৫৮)। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ (৩৬)।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মোংলা পৌরসভার বাসিন্ধা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক দিয়ে দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন মারা যায়। এছাড়া আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে, ৪ নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন ও মাইক্রোবাসের চালক রয়েছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।তাদের নামপরিচয় জানা যায়নি। আহত দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]