তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক দুলু নির্বাচিত হওয়ায় খুশি তিস্তাপাড়ের মানুষ
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৫
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক দুলু নির্বাচিত হওয়ায় খুশি তিস্তাপাড়ের মানুষ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন এবার গতি পাবে—এমন আশায় বুক বেঁধেছেন নদীপারের বাসিন্দারা।


নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আনন্দের আবহ দেখা যায়। অনেককে তিস্তার বালুচরে দাঁড়িয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষায়, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া একজন মানুষ সংসদে যাওয়ায় এবার নদীভাঙন, বন্যা ও খরার চক্র থেকে মুক্তির বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


তিস্তাপাড়ের মানুষ বলছেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও অনিশ্চয়তার চক্র ভেঙে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। তাদের বিশ্বাস, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া প্রতিনিধি এবার সংসদে গিয়ে তিস্তার দাবিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন।


নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ)। তিনি লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২৪৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৮৩ হাজার ৪০৭।


তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ভোটের মাঠে ‘ম্যাজিক’ হিসেবে কাজ করেছে।


চর কালমাটি এলাকার আবেদ আলী বলেন, আসাদুল হাবিব দুলু নির্বাচিত হওয়ায় আমি তিস্তার বুকে ধু-ধু বালুচরে গিয়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের জাগিয়ে তুলেছিলেন। ২০২৫ সালজুড়ে আন্দোলন হয়েছে, আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছি। দুলুর ডাকে আমরা প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পেয়েছিলাম।


তিনি আরও বলেন, দুলু যেন নির্বাচিত হন, সেজন্য আমরা প্রচার করেছি, দোয়া করেছি। মহান আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করেছেন। তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এখন আমাদের বিশ্বাস, তিনি অবশ্যই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।


খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কৃষক করিম মিয়া বলেন, দুলুর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রচারণার কেন্দ্রেও ছিল তিস্তা। এখন তার দল ক্ষমতায় এসেছে। আমরা আশা করি দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


চর রাজপুর এলাকার কৃষক আক্কাস আলী বলেন, তিস্তা বাঁচলে তিস্তাপাড়ের মানুষ বাঁচবে। বাঁচবে কৃষি, কৃষক, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। আসাদুল হাবিব দুলুর ডাকে আমরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম। অতীতেও তিনি এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনিই সবচেয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন।


একই এলাকার কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, “দুলু তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট কাছ থেকে দেখেছেন। আমাদের সঙ্গে বহুবার মতবিনিময় করেছেন। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা তার ওপর আস্থা রেখেছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমাদের অভাব-দুঃখ অনেকটাই দূর হবে। চরাঞ্চলে জেগে ওঠা জমিতে ফসল ফলিয়ে আমরা দারিদ্র্যকে বিদায় দিতে পারবো।


নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নির্বাচনের আগে রংপুরের জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। আমার নির্বাচনী ইশতেহারেও এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার অবশ্যই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবো। তিস্তাপাড়ের মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন—আমি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।


বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com