স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিদায় সংবর্ধনা, ভুরিভোজ ও বনভোজ
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৯:০৮
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিদায় সংবর্ধনা, ভুরিভোজ ও বনভোজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিদায় সংবর্ধনা, ভুরিভোজ ও বনভোজের আয়োজন করার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।


গত ১৩ জুন ও ২০ জুন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জনবল অংশ নিতে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো সাধারণ রোগী।


জানা যায়, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বদলিজনিত কারণে ডা. ইসমাইল হোসেন রাহাত এবং অবসরজনিত কারণে মো. মনির হোসেন ও বশির আহমেদের বিদায় উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সদর উপজেলার ৩৩ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও ৪৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী, নবীনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন নিজ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করেন। একই ভাবে গত ২০ জুন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সিলেটের জাফলংয়ে বনভোজে অংশ নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, ওই সময় বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান রোগীরা। ফলে সর্দি-কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। সরকারিভাবে প্রদত্ত ২৮ ধরনের ওষুধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাও সেদিন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যায়।


সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে ২০২৫ সালের একটি পুরোনো ব্যানার টাঙানো হয়। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানটির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, শতাধিক মানুষের অংশ গ্রহণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা ও ভুরিভোজে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই অর্থের উৎস কী এবং কোন তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে এলপিআরে (লিভ প্রিপারেটরি টু রিটায়ারমেন্ট) থাকা কর্মচারী মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।


এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আমাদের অফিসে চাকরি করেছেন। তিনি অফিসে আসতে পারেন। এতে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রভাব খাটানোর প্রশ্নই আসে না।


মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটিতে অনিয়ম ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আমাদের মাসিক মিটিংয়ে মাঝে মধ্যে মাঠকর্মীদের উৎসাহ দিতে সামান্য ডাল-ভাতের আয়োজন করা হয়। এই খরচের টাকা আমরা ডাক্তাররা মিলে বহন করেছি।


মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ থাকার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরা আমার আদেশের বাইরে কাজ করতে পারেন না। আমার জানা মতে তারা ডিউটির সময় অন্য কোথাও যাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার নামে বরাদ্দকৃত গাড়ি মাঠ পর্যায়ের সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি।


বিবার্তা/নিয়ামুল/এসএম


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com