আমলারা নয়, জনপ্রতিনিধিরাই দাঁড়ায় জনগণের পাশে (পর্ব-৩)
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২১, ১৫:৩৯
আমলারা নয়, জনপ্রতিনিধিরাই দাঁড়ায় জনগণের পাশে (পর্ব-৩)
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

নাটোরের বড়াইগ্রামে মুজিব শতবর্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৬০০ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হচ্ছে। জেলায় প্রথম পর্যায়ের ৩০০টির মতো ঘর দেয়া হয়। এর মধ্যে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে ২০২টি ঘর দেয়া হয়। বাছাইকৃত ঘর ও ভূমিহীন পরিবারকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি করে ইটের দেয়ালে টিনশেড ঘর দেয়া হয়। যার প্রতিটির জন্য বরাদ্দ এক লাখ ৭১ হাজার টাকা।


ঘর উদ্বোধনের পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস দেখতে পান বিছানা না থাকায় মেঝেতে ঘুমান আশ্রয়ণের বাসিন্দারা। এরপর নিজের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে পৌনে ৫ লাখ টাকা দিয়ে প্রত্যেককে খাট বানিয়ে দেন তিনি।


এলাকাবাসী জানান, জনগণের কোনো সমস্যায় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে আসতে কোনো নেতার প্রয়োজন হয় না। এমনকি গ্রাম-গঞ্জের বিচারেও যান তিনি। জনগণের ভোগান্তি নিরসনে সারাদিনই ব্যয় করেন বীর মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস। তার এই কর্মযজ্ঞ এলাকার উন্নয়ন আর সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য।


জানা গেছে, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগে পেয়েছিলো দরিদ্র জেলে পরিবারের মেয়ে শম্পা। মৎসজীবী বাবার আয়ের একমাত্র উৎস মাছ শিকার। শিকার করা মাছ বাজারে বিক্রি করেই মূলত জীবিকা নির্বাহ করে পরিবারটি। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সুযোগ পেলেও খরচ জোগাতে পারছিলেন না শম্পার বাবা। উচ্চশিক্ষার আশা ছেড়ে দিয়েছিলো শম্পাও। সেসময়ে শম্পার জীবনে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আব্দুল কুদ্দুস।


গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ যোগান দেন আব্দুল কুদ্দুস এমপি। পরে এ টাকা দিয়ে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভর্তির পর তাকে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তাও দেয়া হয়। শুধু শম্পা নয় বড়াইগ্রাম থেকে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অদম্য মেধাবী শরীফা খাতুনের মতো আরো অসংখ্য মেধাবীরদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম করে দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস।


গেলো বছর দেশব্যাপী করোনার টিকা দেয়ার প্রথম দিন টিকা গ্রহণকারীদের উৎসাহ দেয়ার জন্য উপহারের ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস। পরে টিকা গ্রহণকারী নারীদের শাড়ি ও পুরুষদের লুঙ্গি উপহার দেন তিনি। এছাড়া প্রথম দিনেই গুরুদাসপুরে ৪১ জন টিকা গ্রহণকারীর প্রতিজনকে ৫০০ টাকা উপহার দেন আব্দুল কুদ্দুস।



করোনা টিকা নিতে উৎসাহ দিতেই তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে টিকা গ্রহণকারীদের জন্য স্বল্প পরিসরে উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। তাদের উৎসাহিত করতেই এ উপহার দিয়েছেন বলে জানান সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস।


স্থানীয়রা জানান, করোনা প্রতিরোধে শুরু থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস। নাটোরে করোনা সচেতনতায় তিনি নিজে মাইকিং করেছেন, লিফলেট বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে, সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করা থেকে শুরু করে খাবার সহযোগিতা দিয়েছেন।


বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ, দুস্থ অসহায় গরিব মানুষের মাঝে চিকিৎসার জন্য চেক বিতরণ ও কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকের মাঝে খাদ্য সামগ্রী নিয়মিত বিতরণ করেন আব্দুল কুদ্দুস।



এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস বিবার্তাকে বলেন, এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের ছেলে-মেয়েরাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো। যাদের রক্তে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো তাদের দেখাশোনা করার জন্য বঙ্গবন্ধু একটা প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন। যখন প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু করলেন। আমি উপজেলায় খাস জমি বের করে উদ্ধারের জন্য টাস্কফোর্স করে দিয়েছি। পরে এসব উদ্বোধনের পর তাদের থাকার বিছানা না থাকায় নিজ উদ্যোগে তাদের পৌনে ৫ লাখ টাকায় প্রত্যেককে খাট বানিয়ে দিয়েছি। দেশের অন্যান্য এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে। আমি আশা করছি আমার এখানে এধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না।


দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়ে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ছোটোবেলাই বাবাকে হারিয়েছি। আমি জানি সাধারণ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার আশঙ্কা আছে। আমার ছেলের কল্লোল ফাউন্ডেশন থেকে ১৬২ জনকে লেখাপড়া করাই। আমার ভাতার প্রায় অর্ধেক দিয়ে দেই, এসব থেকেই বৃত্তি দেয়া হয়।