লকডাউনেও চিরচেনা রুপে রাজধানী
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২১, ২১:৩২
লকডাউনেও চিরচেনা রুপে রাজধানী
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

সরকারের ঘোষণা অনুসারে কঠোর লকডাউন চলছে। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৪ মে) রাজধানীর রাস্তায় দেখা গেছে চিরচেনা রূপ। সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের দেখে লকডাউন বোঝার কোনো উপায় নেই। সড়কে তীব্র যানজট। সকাল পেরিয়ে দুপুর, এমনকি সন্ধ্যা পর্যন্ত একই অবস্থা ছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়কে। মূল সড়কে দিনভর পিঁপড়ার গতিতে চলেছে যানবাহন। ট্রাফিক সিগন্যালে থেমেছে সেই গতিও। সিগন্যালে, যানজটে আটকা পড়ে বারবার সাইরেন বাজিয়েও সুবিধা করতে পারেনি অ্যাম্বুলেন্সগুলোও। চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, রোগাক্রান্ত ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশুরা।


জানা গেছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার প্রথমে গত ৫ এপ্রিল গণপরিবহন ও অফিস-আদালত চালু রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরো দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন দেয়া হয় দেশব্যাপী। এরপর ২২ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হয়। এতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরবর্তীতে আরো এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো হয়। আগামী ৫মে পর্যন্ত চলবে। তবে সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ কেউই মানছে না।


গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলি, আসাদগেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও বাংলামটর, মগবাজার, মৌচাক, রামপুরা, মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলছে। মোহাম্মদপুর থেকে পল্টন অফিসে আসতে প্রায় ৫০ মিনিট সময় লেগেছে উজ্জল মিয়া নামের এক ব্যক্তির। কারওয়ান বাজার হয়ে আসতে তাকে সিগনালে পড়তে হয়েছে তিনবার। যানজটের কারণে কারওয়ান বাজারের মোড় পার হতে আরো দুবার সিগনালে পড়তে হয়েছে।


শুধু তাই নয়, পুরান ঢাকার সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। বিধিনিষেধে বাস বন্ধ থাকায় রিকশার দখলে ছিল সড়কগুলো।


সরেজমিনে দেখা যায়, সিক্কটুলী লেন, নাজিরাবাজার, বংশাল, চকবাজার, চিত্তরঞ্জন এভিনিউ, তাঁতীবাজার মোড়, নবাবপুর রোড, জনসন রোড, ইংলিশ রোড, সূত্রাপুর বাজার রোড, ওয়ারীর টিপু সুলতান রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে রিকশা চলাচল বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। তবে সড়কে রিকশা চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকে হেঁটে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করছেন। এছাড়া সড়কে অল্পসংখ্যক প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে।


রিকশাচালক করিম মিয়া বিবার্তাকে বলেন, ‘লকডাউনে’ রিকশাই বেশি চলছে। তবে সকাল থেকে বেশি আয় করতে পারিনি। মানুষ ভাড়া শুনেই চলে যায়, রিকশায় ওঠে না। ভাড়া কম বলে। ভাড়া যেটা সেটাই বলি, বেশি ভাড়া চাই না।


এছাড়াও রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন, মগবাজার এসব জায়গার রাস্তায় প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মিনি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা, ঠেলাগাড়ির ছিল দীর্ঘ লাইন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে মার্কেটমুখি মানুষের চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো।


এদিকে চেকপোস্টগুলোতে শুরুর দিকে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত হলেও এখন তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। আর কোথাও কোথাও তো চেকপোস্টই গায়েব হয়ে গেছে। ‘মুভমেন্ট পাস’নিয়ে বিধিনিষেধের শুরুতে যে কড়াকড়ি ছিল, তা এখন আলোচনা থেকে বহু দূরে। এখন ‘মুভমেন্ট পাস’চেক করতে দেখা যাচ্ছে না পুলিশকে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখনও চলছে মুভমেন্ট পাস চেকিং। কিন্তু পিক-আওয়ারে সব গাড়িকে একসঙ্গে ধরে চেক করা সম্ভব হচ্ছে না।


জানা গেছে, দুইদিন ছুটির পর সপ্তাহের প্রথমদিনে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়ক ছিল ব্যস্ত। যানবাহন মুক্ত ছিল না এক মিনিটও। কোথাও কোথাও দীর্ঘক্ষণ যানজট লেগে থাকায় রিকশা ও অটোরিকশার যাত্রীরা গরমে হাঁসফাঁস করেছেন। রাস্তায় মানুষের চলাচলেও ছিল গাছাড়া ভাব। অনেককে দেখে মনে হয়েছে, দেশে যেন করোনা বলতে কিছু নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকে। মাস্ক পরা ও দূরত্ব বজায় রাখার বালাই ছিল না। মাস্ক না পরা এক পথচারীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করে পাশ কাটিয়ে চলে যান।


মার্কেটমুখি জনগণের চাপ বেশি জানিয়ে রিকশাচালক তুহিন মিয়া বিবার্তাকে বলেন, এখন বেশিরভাগ যাত্রী পাচ্ছি যারা ইদের কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন মার্কেটে যাচ্ছেন। এখন আমাদের ইনকামও মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে লকডাউনের মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে সব মার্কেট। কথা ছিল মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে কার্যকর করবেন। কিন্ত মার্কেটমুখি মানুষের সংখ্য বেড়েই চলেছে। যার ফলে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।


বিবার্তা/খলিল/গমেজ/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com