
অভাব বা আর্থিক দুরবস্থায় পড়লে মানুষকে ঋণ করতে হয়। ঋণ নিয়ে প্রয়োজন পূরণ করতে হয়। কখনও ঋণ পরিশোধ ব্যক্তির জন্য কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর্থিক দুরবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া না গেলে ঋণের চাপ ব্যক্তিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এদিকে সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে কখনও ঋণদাতার কাছ থেকে শুনতে হয় কটু কথা। শিকার হতে হয় অসম্মানজনক আচরণের। ঋণগ্রহীতা সবসময় চান, দ্রুতই ঋণ পরিশোধ হোক।
এদিকে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান। রিজিক বৃদ্ধি করতে চান। দ্রুত ঋণ পরিশোধ করতে ও রিজিক বাড়াতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়াগুলো পড়লে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ও রিজিক বৃদ্ধি হয়। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—
১. ঋণ থেকে রক্ষা পেতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। হাদিসে আছে, একবার ঋণ থেকে রক্ষা পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করছিলেন। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে দেখে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি ঋণ থেকে খুব বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন।’ তিনি বললেন, ‘মানুষ ঋণী হলে কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে রক্ষা করে না।’ তিনি ঋণ থেকে রক্ষা পেতে এ দোয়াটি পড়তেন—
اللَّهُمَّ إنِّي أعُوذُ بكَ مِنَ الكَسَلِ والهَرَمِ، والمَأْثَمِ والمَغْرَمِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি, ওয়াল মাসামি, ওয়াল মাগরামি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গুনাহ এবং ঋণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০০৭)
২. একবার এক লোক ঋণ পরিশোধের জন্য হজরত আলির (রা.) কাছে কিছু সাহায্য চাইলেন। আলি (রা.) তাকে বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে কয়েকটি শব্দ শিখিয়ে দিয়েছিলেন, আমি কি তোমাকে সেটা শিখিয়ে দেব? সেটা পড়লে আল্লাহ তোমার ঋণমুক্তির দায়িত্ব নেবেন। তোমার ঋণ যদি পাহাড়সমান হয়, তাহলেও।’ এরপর আলি (রা.) ওই ব্যক্তিকে দোয়া শিখিয়ে দিলেন। দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাক ফিনি বি হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাজলিকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ: হে আল্লাহ, হারামের পরিবর্তে তোমার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করো। তোমাকে ছাড়া আমাকে কারও মুখাপেক্ষী করো না এবং তোমার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে সচ্ছলতা দান করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)
৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) আরেকটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)
আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা
রিজিক অর্জনের অন্যতম উপকারী মাধ্যম বেশি বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা (ইসতেগফার) করা। আল্লাহ বলেন, ‘আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তাহলে তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে তোমাদের শক্তি বাড়াবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা ও নদ-নদী বানিয়ে দেবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)
সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত
সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করলে সংসারে অভাব আসে না। ব্যক্তির জীবনে দারিদ্র্যতা গ্রাস করতে পারে না। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবে, তার ওপর অভাব আসবে না।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ২৪৯৭)
এ ছাড়া রিজিক বৃদ্ধির জন্য আরও কিছু আমল করা যেতে পারে। যথা—
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
২. হালাল উপার্জন করা।
৩. জাকাত দেওয়া।
৪. কঠোর পরিশ্রম করা।
৫. সচ্চরিত্রবান হওয়া।
৬. তওবা করা।
৭. ধৈর্যধারণ করা।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]