
জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে সংযুক্ত তহবিল থেকে এই অর্থ ব্যয় ও বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হলো।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে তা ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত এই বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার কমেছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
এই সম্পূরক বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বেড়েছে ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আর এসব কার্যক্রমের প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ শুরু করেন। সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয় বলে তিনি জানান। স্পিকার বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।
নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত সদস্যদের আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো আলোচনা ছাড়াই ভোটে দেন স্পিকার। এর আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন।
সবশেষে ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের কার্যক্রম নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আইনি কর্তৃত্ব দেওয়া হলো।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]