
লক্ষ্মীপুরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ভুলুয়া নদী ও রহমতখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী এ্যানি বলেন, লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে যেটা বেশি প্রায়োরিটি দেব, সেটা হল আমাদের বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে একটা নতুন প্রকল্প ভুলুয়া নদী খনন এবং রহমতখালী খাল পুনঃখনন৷ আমরা যদি এ প্রকল্পটা হাতে নিতে পারি, লক্ষ্মীপুরের যে জলাবদ্ধতার যে ব্যাধি, দীর্ঘদিনের মানুষের কষ্টের জায়গা, সেখান থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হবো। এ কাজটা খুব সহসাই হবে যে তা না, এটার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। খুব শীগ্রই আমরা সেদিকে নজর দিচ্ছি।
বলেন, দেশব্যাপী ১৮০ দিনের খাল খনন প্রকল্পের ম্যাক্সিমাম যেটা করার দরকার, সেটা আমরা করবো। খুব শীগ্রই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। সেটার মধ্যে লক্ষ্মীপুর অন্তভূক্ত থাকবে।
নদী ভাঙনের বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নদী ভাঙন রোধে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করার জন্য ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেছি। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের কোথায় কোন জায়গায় নদী ভাঙন সেটা মেঘনা নদী পাড়ে আছে, রহমতখালী খালের পাড়ে আছে। প্রত্যেকটা জায়গায় ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির মাধ্যমে আমরা সেটাকে সমাধান করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য উদ্বেগ নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা স্বাস্থ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেল লাইন, বিশ্ববিদ্যালয় সবকিছু আমরা যেন সুন্দরভাবে ধারাবাহিক প্রকল্পের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি। কারণ এটা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, দীর্ঘমেয়াদি এ কাজগুলো আমরা যেন সম্পন্ন করতে পারি, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও বঞ্চিত এলাকা। পাশাপাশি আমাদের সাধারণ মানুষের আমাদের নেতাকর্মীদের অনেক ত্যাগ। এ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। যারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে গুম-খুন, শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমাদের লক্ষ্মীপুরকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। সুন্দর লক্ষ্মীপুর যেন আমরা তৈরি করতে পারি। নির্বাচনে যখন গণসংযোগে গিয়েছি সবার আবদার ছিল রাস্তা, জলাবদ্ধতা- অনেকভাবে অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত ছিল। আমরা যেন নতুন লক্ষ্মীপুর গড়ে তুলতে পারি, নতুনভাবে নির্মাণ করতে পারি, সে দিকে আমাদের বেশি নজর থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এ দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে কেবিনেট মিটিং করেছেন, আইনশৃঙ্খলা যাতে সুন্দরভাবে থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে কিভাবে অব্যাহত রাখব, সেটা যে কোন অবস্থান থেকে যে কোন ডিপার্টমেন্টে আমাদের দায়িত্বশীলতার সহিত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নাই বললেই চলে। চিকিৎসা মৌলিক অধিকার, সে মৌলিক অধিকার আমরা মানুষের পাশে থেকে কিভাবে সহায়তা দেব, সেদিকে বিশেষ নজর রাখছি।
সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ্যানি বলেন, সারা বাংলাদেশে চাঁদাবাজির কোন সুযোগ নেই। লক্ষ্মীপুরেও নেই।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরে এটাই প্রথম সফর। সকালে তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাছানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু প্রমুখ।
বিবার্তা/সুমন/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]