
এবার রাজধানীর পল্টন থানায় হওয়া ‘রাজনৈতিক হত্যা’ মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) শেখ মামুন খালেদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন জোনাইদ এ আদেশ দেন। এরে আগে তিন দফায় ১৪ দিন রিমান্ডে ছিলেন খালেদ মামুন।
শুনানির শুরুতে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে নতুন এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চান।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক আদালতে বলেন, ‘অভিযোগের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দায়িত্বকালেই গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহীন মোর্শেদ রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। আদালতে নিজের বক্তব্যে শেখ মামুন খালেদ জানান, ২০২০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন তিনি। ১৯ বছরের কর্মজীবনে একাডেমিক কার্যক্রমেই বেশি যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার দাবি, আলোচিত হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল ও রমনা এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, ককটেল বিস্ফোরণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এতে বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং মকবুল নামে এক কর্মীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শতাধিকের নাম উল্লেখ এবং আরও কয়েকশ অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবির মতিঝিল বিভাগে তদন্তাধীন রয়েছে।
গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) শেখ মামুন খালেদকে আটক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে ২৬ মার্চ প্রথম দফায় ৫ দিন এবং ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ৬ দিন এবং ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল তাকে।
এ মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের অনুসারী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালালে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তী সময়ে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহতের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]