
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পদ্মা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৩৫১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।
গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার এক দিনে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৬৭টি যানবাহন পদ্মা সেতু পার হয়েছে। এতে এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ২৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা।
গত ঈদুল ফিতরের আগে ১৮ মার্চ পদ্মা সেতু দিয়ে ১ দিনে সর্বোচ্চ ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। সে সময় টোল আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫৪ টাকা।
টোল আদায়ের দিক থেকে এবারের আদায় এযাবৎকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের ৬ জুন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এ সেতু দিয়ে ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। সে সময় টোল আদায় হয়েছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা, যা ছিল সর্বোচ্চ টোল। এ ছাড়া একই বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরে ১ দিনে টোল আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর ২০২৪ সালের ১৪ জুন টোল আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা, যা ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ।
সব ধরনের যানবাহনের জন্য পদ্মা সেতু পারাপারে টোল দিতে হয়। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য পৃথক টোল হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরকে সংযুক্তকারী দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এ অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ সেতুটির সুবিধা পাচ্ছেন।
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত—মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু আছে। এ ব্যবস্থায় যানবাহন থামানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা হয়। ফলে টোল প্লাজায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের কারণে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহার সময় পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন বেশি পারাপার হয়। এ সময় মানুষ বেশি সংখ্যায় গ্রামে যায়। এ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী যানবাহনও যাতায়াত বাড়িয়ে দেয়। অনেক যানবাহন পশু নিয়ে যাচ্ছে, আবার খালি ফিরে আসছে।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল হায়দার সকাল পৌনে ৮টার দিকে বলেন, এমন স্বস্তির ঈদযাত্রা এর আগে হয়তো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ কখনো পায়নি। সড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো জটলা নেই।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]