হাঁস খামারে সফলতার দৃষ্টান্ত ফজলুর, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৮
হাঁস খামারে সফলতার দৃষ্টান্ত ফজলুর, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দক্ষিণ দুয়াজানি গ্রামে হাঁস পালন করে সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা মো. ফজলুর রহমান ফজলু। তার প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরপুর হাঁসের খামার এন্ড হ্যাচারি’ ইতোমধ্যেই এলাকায় সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৪০ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষের পাশাপাশি পাশের জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁসের খামার। প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই খামারটি শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে, কিন্তু বর্তমানে এখানে কয়েক হাজার হাঁস পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে খাকি ক্যাম্বেল, জিনডিং, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানারসহ প্রায় ১২টি উন্নত জাতের হাঁস রয়েছে।


খামারের স্বত্বাধিকারী ফজলুর রহমান জানান, শুরুর দিকে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করেছিলাম। এখন প্রতিদিন ভালো পরিমাণ ডিম উৎপাদন হচ্ছে এবং মাসিক আয়ও সন্তোষজনক। উৎপাদিত ডিম ও হাঁস দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।


তবে খামার পরিচালনায় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং মাঝে মাঝে রোগবালাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবুও নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি এসব সমস্যার মোকাবিলা করছেন।


সরকারি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও টিকা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, যা খামার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে খামারটি আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার।


এ সময় তিনি টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়াল লাভলুর কাছে সহায়তা কামনা করে বলেন, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খামারটি আরও আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরে রূপ নেওয়া সম্ভব।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ. মমিন বলেন, নাগরপুরে হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। স্থানীয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। আমরা খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, টিকা ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকি।”


স্থানীয় বাসীন্দাদের মতে, এই খামার প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকায় হাঁস পালনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। উন্নত জাতের বাচ্চা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ায় অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালন শুরু করছেন।


নাগরপুরের দক্ষিণ দুয়াজানি গ্রামের এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


বিবার্তা/বাবু/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com