
জেলে একটা দলের রাজনৈতিক কর্মীরা জেল খাটতেছে। আর কোনো কর্মী নেই। এমন লোকদের নিয়ে এসেছে, যাদের পদ–পদবি কিছুই নেই। তাদের পদ–পদবি দেওয়া হয়েছে। এখন আইনের একটা জুলম চলতেছে, যেটা ড. ইউনূস চালু করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন, জামিনে মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে। আপনি আমাকে বলতেছেন যে আমার সমালোচনা করেন, তারপর সমালোচনা করার ফলে আমাকে জেলে দিয়ে দিলেন। এটা তো বড় বাটপারি। এর থেকে তো বড় বাটপারি গত এক হাজার বছরে কেউ দেখেনি। সমালোচনা করলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেলে দিচ্ছেন। সমালোচনা কী কখনো সন্ত্রাস হতে পারে। আমি কি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত আছি?’
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট–২ থকে আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ছাড়া পান আনিস আলমগীর। মুক্তির পর কারা ফটকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তিনি কথা না বলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট–২–এর জেল সুপার মো. আল মামুন জানান, গতকাল শুক্রবার ওই সাংবাদিকের জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়। পরে যাচাই–বাছাই শেষে আজ বেলা আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর স্বজনেরা কারা ফটকে উপস্থিত ছিলেন।
মুঠোফোনে আনিস আলমগীর বলেন, ‘ড. ইউনূস নিজেই বলেছেন যে, আপনি মন খুলে আমার সমালোচনা করেন। ওনার সমালোচনা করার পর উনি আবার গ্রেপ্তার করেন। শুধু গ্রেপ্তার করেনি, আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিলেন। তাতেই ক্ষান্ত হননি, আমাকে আবার একটি হয়রানিমূলক মামলা দিলেন দুদক দিয়ে। যেটা আরও হাস্যকর।’
নিজের জেলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিস আলমগীর বলেন, ‘পুরো তিন মাস আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। জেলে আমার প্রতিটা ক্ষণ, প্রতিটা দিন কীভাবে যে গেছে, এটা বলতে পারব না। প্রথম এক মাস কী অমানুষিক নির্যাতন আমার ওপর দিয়ে গেছে, একটা রুমে ৩৫ জন লোক ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে একটু ভালো পরিবেশে নিয়ে আসা হয়েছে।’
আনিস আলমগীর আরও বলেন, ‘এক–এগারো সরকার যে গুম–খুন বিনা বিচারে মানুষকে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছিল, সেটা শেখ হাসিনার সরকার পর্যন্ত এক্সটেন্ডেন্ট ছিল। আমি বলব যে শেখ হাসিনার সরকার হলো, এক–এগারো সরকারের এক্সটেনশন। এখন আইনের একটা জুলম চলতেছে, যেটা ড. ইউনূস চালু করে দিয়েছেন। সেই জুলুম যদি কন্টিনিউ করে, তবে সেটা মানুষ ভালোভাবে নেবে না।’
একেবারে নিরীহ লোকদের ধরে ধরে জেলে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যেকোনো একটা জেলে গিয়ে দেখবেন, শুধু একটা দলের রাজনৈতিক কর্মীরা জেল খাটতেছে। আর কোনো কর্মী নেই। এমন লোকদের নিয়ে এসেছে, যাদের পদ–পদবি কিছুই নেই। তাদের পদ–পদবি দেওয়া হয়েছে।’
বর্তমান সরকারকে দ্রুত দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেভাবে চালাচ্ছে, তাতে এখন পর্যন্ত সিম্পেথাইজড যে, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনবে। সেটাতে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি যে, এটা আরও দ্রুত করা উচিত।’
গত বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি নিয়ে আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে আনিস আলমগীর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায়ই জামিন পেলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া হয়। পরদিন তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]