প্রতিদিন জোড়া সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৫৩
প্রতিদিন জোড়া সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ডিমকে সুপারফুড বলা হয়। এই খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। বাজারে সহজলভ্য, রান্না করতে ঝামেলাহীন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে সিদ্ধ ডিমের জনপ্রিয়তা অনেক পুরোনো। সকালের নাস্তায় একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।


একটি সিদ্ধ ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১২, ডি, ই, আয়রন, সেলেনিয়াম, কোলিন, লুটেইন এবং জিয়াজ্যান্থিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পুষ্টিগুলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুটি সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।


হজমশক্তি বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে বারবার ক্ষুধা লাগে না এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য সিদ্ধ ডিম খুব ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে দুটি সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় হয়। ডিম খাওয়ার পর শরীর খাবার হজম করতে বেশি শক্তি ব্যবহার করে, যাকে থার্মিক এফেক্ট অব ফুড বলা হয়। এতে শরীর দ্রুত ক্যালরি পোড়াতে পারে। এছাড়া ডিমে কার্বোহাইড্রেট কম থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়তে দেয় না।


পেশি গঠনে সাহায্য করে
যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য ডিম অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা প্রোটিন পেশি গঠন ও মেরামতে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষয় হওয়া কোষ পুনর্গঠনের কাজেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্কদের জন্য ডিম খুব ভালো পুষ্টির উৎস। এটি শরীরকে শক্তি জোগায় এবং দৈনন্দিন ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।


মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি মস্তিষ্কের কোষ গঠন এবং স্নায়ুর মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ডিম খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।


চোখের সুরক্ষায় কার্যকর
ডিমে থাকা লুটেইন এবং জিয়াজেনথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের জন্য খুব উপকারী। এই উপাদানগুলো রেটিনাকে ক্ষতিকর আলো থেকে রক্ষা করে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে ছানি পড়া বা দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্যও ডিম উপকারী খাবার হতে পারে।


ত্বক, চুল ও নখ ভালো রাখে
ডিমে থাকা ভিটামিন বি১২, সালফার এবং বায়োটিন ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং নখ শক্ত হয়। ত্বকের কোষ পুনর্গঠনের কাজেও ডিমের পুষ্টিগুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ত্বককে আরও প্রাণবন্ত ও সতেজ দেখাতে সাহায্য করতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ একজন মানুষ প্রতিদিন ১-২টি ডিম খেতে পারেন। তবে যাদের কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।


পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ডিম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত তেল বা মশলা দিয়ে রান্না করা ডিমের তুলনায় সেদ্ধ ডিম অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com