
প্রতিটি বাবা-মায়েরই উদ্বেগ বোধ হয়, যখন তাদের সন্তান স্বাভাবিক আচরণের বাইরে কিছু করে। এটি মনে একটি বিরক্তিকর প্রশ্ন জাগায় যে - এই আচরণ কি স্বাভাবিক, নাকি আমার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? এই যুগে যেখানে তথ্যের ভার বেশি, তখন শৈশবের দৈনন্দিন আচরণ হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক মনে হতে পারে। অন্য শিশুকে একটি মাইলফলক স্পর্শ করতে দেখে বা চুপচাপ বসে থাকতে দেখে ভাবা সহজ যে কেন আপনার নিজের সন্তান ঠিক বিপরীত করছে। জেনে নিন শিশুর কোন আচরণগুলো আসলে স্বাভাবিক-
১. নিজের সাথে কথা বলা :খেলার সময় শিশুর প্রতিটি পদক্ষেপ বর্ণনা করতে বা কাল্পনিক বন্ধুদের সঙ্গে পূর্ণ কথোপকথন করতে দেখা খুবই সাধারণ। অনেক বাবা-মা চিন্তা করেন যে এটি একাকীত্বের ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই বিপরীত। এই স্ব-কথোপকথন শিশুদের চিন্তাভাবনা এবং কর্ম পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে এবং তাদের আত্ব্রে অনুভূতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। মনোবিজ্ঞানীরা স্ব-কথোপকথনকে একটি অত্যাধুনিক হাতিয়ার হিসেবে দেখেন যা ভাষা দক্ষতা তৈরি করে, স্বাধীনভাবে সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করে এবং সুস্থ কল্পনাশক্তি গড়ে তোলে।
২. হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তন :হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তন শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এমন আরেকটি সাধারণ বিষয়। এক মিনিটে আপনার শিশু আনন্দে হাসছে এবং পরের মিনিটে বিস্কুট ভেঙে যাওয়ার জন্য মেঝেতে বসে কাঁদছে, এটা খুবই স্বাভাবিক হতে পারে। এই মানসিক পরিবর্তনগুলো সাধারণ এবং শৈশবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আচরণ কারণ তখনও শিশুর মস্তিষ্ক জটিল অনুভূতিগুলো করতে শিখছে। ক্ষুধা, ক্লান্তি, অতিরিক্ত উত্তেজনা, এমনকী ছোটখাটো হতাশা শিশুদের হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তনের কিছু সাধারণ কারণ।
৩. মাঝে মাঝে একাকীত্ব পছন্দ করা :বাবা-মায়েরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যখন তারা দেখেন যে তাদের সন্তান একা খেলতে চায়, তারা ভয় পান যে এটি সামাজিকভাবে দূরে থাকা বা দুঃখের লক্ষণ হতে পারে। নির্জনতা সুস্থ সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির লক্ষণ। একা সময় কাটানোর অভ্যাস শিশুকে তার নিজস্ব ধারণা অন্বেষণ করতে, কল্পনার জগতে ডুবে থাকতে এবং সামাজিক শক্তি রিচার্জ করতে সাহায্য করে। তবে কখনোই কারও সঙ্গে মিশতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
৪. প্রশ্ন বা গল্প পুনরাবৃত্তি :শিশুরা পুনরাবৃত্তি করতে এবং বারবার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পছন্দ করে যতক্ষণ না জিনিসগুলো তাদের মনে স্থির হয়ে যায়। বারবার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করার বা একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার এই অভ্যাস শিশুর স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং নিরাপদ বোধ তৈরি করে। যদিও এটি মা-বাবার জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা, তবে এটি একটি স্পষ্ট লক্ষণ যে শিশুটি শিখছে এবং পরিচিতদের মধ্যে সান্ত্বনা খুঁজছে।
৫. খাবার বেছে খাওয়া :শিশুর বেছে খাবার খাওয়ার অভ্যাস মা-বাবার জন্য অনেক সময় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাবা-মায়েরা তখন শিশুর বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সম্পর্কে খুব বেশি চিন্তা করেন, তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে মুখের শিশুর স্বাদ এবং সংবেদনশীল ধারণা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। শিশুরা প্রথমে খাবারের গঠন এবং গন্ধ লক্ষ্য করে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং খাবারে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকবে, ততক্ষণ দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]