বঙ্গবন্ধুর খুনীর আত্মীয়, সাবেক বিএনপি নেতা মোখলেসুর পেলেন নৌকা!
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:১২
বঙ্গবন্ধুর খুনীর আত্মীয়, সাবেক বিএনপি নেতা মোখলেসুর পেলেন নৌকা!
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার বাজনাব ইউনিয়ন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনী মোসলেহ উদ্দিনের ​আত্মীয় এবং সাবেক বিএনপি নেতা খন্দকার মোখলেসুর রহমানকে দ্বিতীয়বারের মতো নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।


বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নেতা বনে যাওয়া মোখলেসুর রহমান বাজনাব ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি ১৯৯১-৯৭ সালের দিকে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, আলোচিত মোখলেসুর রহমান বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে আওয়ামী লীগের ৩৩ নেতা-কর্মীর ‍বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন।


২ ডিসেম্বর মোখলেসুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর খুনীর আত্মীয় উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।


আওয়ামী লীগ সভাপতি বরাবর জমা দেয়া অভিযোগে বলা হয়, জামায়াত নেতা আব্দুর রবের রাষ্ট্রবিরোধী মামলার তদারকি করেন মোখলেসুর রহমান। বিগত ইউনয়িন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি-সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নের রেজুলেশন জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে দল বিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে বাজনাব ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সকল সভাপতি সাধারণ সম্পাদক তার ওপর অনাস্থা প্রদান করেছেন।


জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনী মোসলেহ উদ্দিন রিসালদারের আপন ভাগ্নির জামাতা মোখলেসুর রহমান। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জামায়াত নেতা আব্দুর রবের চাচাতো ভাই তিনি। মোখলেসুর রহমান ১৯৯১-৯৭ সাল পর্যন্ত বাজনাব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭-২০০৬ সাল পর্যন্ত একই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।


২০১৬ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোখলেসুর। চলতি বছরের পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।



২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর মোখলেসুর রহমানকে আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তি’ উল্লেখ করে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নয়টি ওয়ার্ডের ১৮ জন সভাপতি-সম্পাদক দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আবেদন জানান। এরপরও সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশ তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাজনাব ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোখলেসুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, আমার প্রতিপক্ষ যারা মনোনয়ন চেয়েছিলো তারা মনোনয়ন না পেয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছে। আমি বিএনপির সভাপতি ছিলাম এটা মনোনয়ন ফরমেই লিখে দিয়েছি। আমি ১৭ বছর আগে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলাম। প্রথমবার মনোনয়ন ফরম নেয়ার সময়ও আমি এটি লিখে দিয়েছিলাম।


বঙ্গবন্ধু খুনীর আত্মীয় এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভূয়া, ভিত্তিহীন কথা। আমার প্রতিপক্ষ চাচ্ছে আমাকে ঘায়েল করে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে। মনোনয়নটা আমার পক্ষে যাতে না আসে এজন্য তারা এসব কথা বলছে।


এ বিষয়ে বেলাবো উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, বর্তমানে দলে মূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী কম। মোখলেসুর রহমান একসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন, এখন তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী মোসলেহ উদ্দিন রিসালদারের ভাগ্নির জামাতা। তিনি সভাপতি থাকায় ইউনিয়নের আ.লীগের রেজুলেশনে নাম দিয়েছেন। আমার উপজেলার সভাপতিকে কিছুদিন আগে জেলা কমিটির একটি চিঠির মাধ্যমে অব্যাহতি দেয়া হয়। উপজেলার সহ-সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি গঠনতান্ত্রিক নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং অনৈতিকভাবে যুগ্ম সম্পাদক দিয়ে আমাকে উপেক্ষা করে রেজুলেশন জেলাতে পাঠিয়েছেন।


তিনি বলেন, বিএনপির সাবেক নেতা নৌকার মনোনয়ন পেয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিষয়টি আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল, দলে নেতা-কর্মীর অভাব নেই। যারা বিএনপি থেকে এসেছে তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবার তারা চলে যাবে। দলে জামায়াত-বিএনপি আসবে, হাইব্রিডের জন্ম হবে এটা আমরা কখনো আশা করিনি।


বাজনাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মাহমুদ স্বপন বিবার্তাকে বলেন, উনি (মোখলেসুর রহমান) ইউনিয়ন বিএনপির দুইবারের সাধারণ সম্পাদক, এক মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। উনাকে যেদিন আমার সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দিয়েছে সেদিন থেকে আমিসহ ওয়ার্ডের নেতারা তার সাথে রাজনীতি করতে চাইনি।কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীর আত্মীয়দের সাথে তো আমরা রাজনীতি করতে পারি না। তার সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নাই।


তিনি আরো বলেন, আমি দলের দফতরে প্রায় এক বছর আগে অভিযোগ জমা দিয়ে এসেছি। আমরা নিশ্চিত ছিলাম উনাকে মনোনয়ন দেবে না। আমাদের মনে হয়, অভিযোগ নেত্রীর কাছে পৌঁছেনি। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর খুনীর আত্মীয় নৌকার মনোনয়ন পায় কিভাবে?


বিবার্তা/সোহেল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com