“বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অভিভূত হয়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি”
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৭, ১৩:৩০
“বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অভিভূত হয়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি”
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম টিটন। জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৮৩। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঝিনাইদাহের মহেশপুর উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে।


ছোটবেলা থেকে মন থেকে লালন করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ। একই সাথে পরিচিত হয়েছেন তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বের প্রতি। তাই ছাত্র জীবন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা টিটনের। সেই ইচ্ছা থেকেই যোগ দেন ছাত্ররাজনীতিতে।


ঢাকার বোরহানউদ্দিন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তির পরপরই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ শুরু হয় টিটনের। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর সক্রিয়ভাবে শুরু করেন ছাত্ররাজনীতি।


১৯৯৯সালে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে দেলোয়ার হিমু কমিটিরও সাংগঠনিক সম্পাদক নি্র্বাচিত হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে রিপন রোটক কমিটির ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপরে ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক মনোনীত হন তিনি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিষয়ে পড়াশুনাকারী রেজাউল করিম টিটন শিক্ষা জীবনেও পেয়েছেন সফলতা। অর্জন করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। বর্তমানে ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার জন্যই করছেন রাজনীতি। তাই শত ব্যস্ততার মাঝে প্রায়ই এলাকায় ছুটে যান তিনি।


মঙ্গলবার রাজধানীর বিবার্তা কার্যালয়ে তার সাথে দীর্ঘ আলাপে বেরিয়ে আসে তার রাজনীতিতে আসা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিবার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন



বিবার্তা: এত কিছু থাকতে রাজনীতির প্রতি আপনার ঝোঁক থাকার কারণ কি?


টিটন: আমার বাবা গ্রাম্য রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাই ছোটবেলা থেকে বাড়িতে লোকজনের যাতায়াত দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। একটু বোঝার পর থেকে বাবার মুখে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনতে শুনতে তাঁর আদর্শকে চিনতে শিখেছি। একইভাবে জেনেছি ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে দেশে ফিরে কিভাবে মানুষের জন্য কাজ শুরু করেছেন। এভাবে মুজিব আদর্শ লালন করতে করতে এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের গুণাবলীতে অভিভূত হয়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি।


বিবার্তা: রাজনীতির শুরুর দিকের অভিজ্ঞতাটা কেমন?


টিটন: আমি যখন রাজনীতি শুরু করি তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। পরবর্তীতে বিরোধী দল হয়ে যায়। শুরুর দিকে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেও পরে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে প্রতিকূল অবস্থাতেই রাজনীতিতে বেশি মজা পেয়েছি। কারণ, ওই সময়ে দলের কর্মীর সংখ্যা কম থাকলেও নিবেদিতরাই রাজনীতি করতো। প্রত্যেক নেতা-কর্মীদের মধ্যে আন্তরিকতা ছিল। তাই একে অন্যের প্রতি অন্য রকম ভালোবাসা কাজ করতো। জেল-জুলুম, শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেছি।


বিবার্তা: বিরোধী দলের রাজনীতি ও সরকারী দলের রাজনীতি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?


টিটন: আমি মনে করি এখন বাংলাদেশে একটাই দল সেটা আওয়ামী লীগ। কারণ, যার সাথে কথা বলি সেই আওয়ামী লীগ। পার্টি অফিসে অনেককেই দেখি, যাদের বেশিরভাগই বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় দেখি নাই। এটা আওয়ামী লীগের জন্য অশুভ সঙ্কেত। বর্তমানে কিছু টাকা খরচ করলেই প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করা যায়। তাই আমি মনে করি বিরোধী দল ও সরকারী দলের পার্থক্য সৃষ্টি করে অনুপ্রবেশকারীরা।



বিবার্তা: আগামীতে আপনার রাজনীতির লক্ষ্য কি?


টিটন: আমার আসন মহেশপুর-কোটচাঁদপুর। আমার এলাকায় অতীতে আওয়ামী লীগের অবস্থা ছিল করুণ। ১৯৯১ সালে পরাজিত হয়েছে, ১৯৯৬ সালে পরাজিত হয়েছে, ২০০১ সালেও দল পরাজিত হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গণ জোয়ারের মাধ্যমে আসনটিতে দল জয় লাভ করে। সে সময় আমি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। তবে কিছু প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে দল বিব্রত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সে সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে সফল হই। ওই সময় আমি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহামুদ হাসান রিপনের সাথে নিয়ে নেত্রীর সাথে দেখা করি। তিনি আমাকে একটু হেসে বলেছিলেন, ‘বয়স আছে কাজ করো’। ওই সময়ের আগ থেকে শুরু করে এখনও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।


বিবার্তা: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনি এলাকায় কি ধরণের কাজ করছেন?


টিটন: ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে আমার অতীত শুরু। ওই সময় থেকেই আমার মানুষের সাথে মেলামেশা শুরু হয়। এখনো আমি তৃণমূলের মানুষের মধ্যে মিশে যাই। ফলে তাদের চাওয়া পাওয়া আমি বুঝি। আমি আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করে চলেছি। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক সমৃদ্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রান্তিক কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি। এলাকার জন প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় করে সাধারণ এলাকাবাসীর জন্য উন্নয়নে কাজ করছি এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।


বিবার্তা/ওরিন/মৌসুমী/যুথি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com