বিবার্তা’র মুখোমুখি রঞ্জিত মল্লিক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৭, ১৫:৫২
বিবার্তা’র মুখোমুখি রঞ্জিত মল্লিক
ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যখন এদেশে ডিশের চলন শুরু হয়নি, তখন তার অভিনীত চলচ্চিত্র এদেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষেরা ভিসিআর-এ উপভোগ করতেন। বাংলা ভাষাভাষী সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কলকাতার মহানায়ক উত্তম কুমারের পর তার অভিনীত চলচ্চিত্রের প্রতি এক অন্যরকম মোহ তৈরী হয়।


প্রতিবাদী চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে যাওয়া এই নায়কের মাঝে যেন সচেতন দর্শক নিজেকেই খুঁজে পেয়েছেন বারবার। মৃনাল সেনের ‘ইন্টারভিউ’ দিয়ে সিনেমায় তার যাত্রা শুরু। এখনো সত্তর উর্ধ্ব এই কিংবদন্তী অভিনেতা অনায়াসে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন।


বাংলাদেশ থেকে মুঠোফোনে প্রথম যেদিন তার সঙ্গে কথা হলো সময় চেয়ে, শুধু হাসিমুখে এতোটকুই বলেছিলেন ‘কলকাতায় নেমে সকালে আমাকে একবার ফোন করবেন’। হলোও ঠিক তাই। গত ৩ জুন সকালে কলকাতায় নেমে তার মুঠোফোনে ফোন।


জানালেন, বিকেল সাড়ে ৫টায় দেখা হচ্ছে। যার অভিনয় দেখে আমি নিজেও মুগ্ধ হয়েছি অগুনতিবার সেই তারই মুখোমুখি হয়েছি জীবনে প্রথমবার। তিনি পর্দা কাঁপানো দাপুটে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।


৩ জুন কলকাতার টালিগঞ্জে তারই বাসভবনে বসে বেশকিছুটা সময় নিয়ে তার চলচ্চিত্র জীবনসহ নানান বিষয়ে কথা বলেন অভি মঈনুদ্দীন। তার আগে তার হাতে বিবার্তা সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসির পক্ষ থেকে রঞ্জিত মল্লিকের হাতে তুলে দেয়া হয় বিবার্তার বিশেষ সম্মাননা।


১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই কলকাতার মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর পুরো কলকাতার চলচ্চিত্রাঙ্গনে ভীষণ এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সাধারণ দর্শক হল বিমুখ হয়ে পড়েন। যে নায়ক সেই হলবিমুখ দর্শককে আবার হলমুখী করেছিলেন তিনিই রঞ্জিত মল্লিক। উত্তম কুমারের মৃত্যুর চার বছর পর ১৯৮৪ সালের শেষের দিকে মুক্তি পায় রঞ্জিত মল্লিক অভিনীত শান্তি ফিল্মস কর্পোরেশনের দ্বিতীয় সিনেমা অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত ‘শত্রু’ চলচ্চিত্রটি।


এর কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য এবং এতে রঞ্জিত মল্লিকের অভিনয় দর্শককে এতোটাই মুগ্ধ করে যে এই চলচ্চিত্র দেখতে সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা আবারো হলমুখী হন। কলকাতার আপামর দর্শক তখন রঞ্জিতের মাঝেই নতুন করে ভালোলাগা খুঁজে পান। তবে এটাও সত্যি সে দর্শক মহানায়ককেও ভুলে যাননি। তারা তাদের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সর্বোচ্চ আসনে রেখেছেন উত্তম কুমার নামক মহানায়ককে। আর যদি তাই না হতো তাহলো মৃত্যুর ৩৬ বছর পরও তার জন্মদিনে কলকাতায় এতো বিরাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে উত্তম কুমারের জন্মদিন উদযাপি হতো না।


রঞ্জিত মল্লিকও উত্তম কুমারকে নিজের দাদার মতোই মনে করতেন। এই মহানায়কের সঙ্গে তিনি পাঁচটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ‘বিবার্তা’র পক্ষ থেকে আমি এবং আলোকচিত্রী মোহসীন আহমেদ কাওছার যখন রঞ্জিত মল্লিকের বাসায় প্রবেশ করি, তখন বিকেল ৫.৩৫ মিনিট। দিনের আলো প্রায় যাই যাই করছে। তাই রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই তার রাজপ্রাসাদের মাঠে চলে যাই ছবি তোলার জন্য।


শুরুতেই তিনি কথা বলতে চাইলেও সহাস্যে ছবিটাই আগে তুলে নিলেন তিনি। অফ হোয়াইট পাঞ্জাবিতে সেই রঞ্জিত মল্লিককে যেন এখনো তরুণ বয়সের নায়কই মনে হচ্ছিলো। মনে মনে ভাবছিলাম আমি, তার অভিনীত কতো শত ছবিই না দেখেছি আমি-এর কী কোন হিসেব আছে। সেই মানুষটির আশেপাশেই আছি আমি। হয়তো একদিন এই সময় চলে যাবে, সময়টাই স্মৃতি হয়ে রয়ে যাবে। ভাবতে ভাবতেই মোহসীনের ছবি তোলা শেষ।


এবার তার সঙ্গে কিছু কথা বলার পালা। কলকাতায় রঞ্জিত মল্লিকের কাছে যাচ্ছি, একথা আগে থেকেই জানতেন আমার খুব ঘনিষ্ঠজন ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। শুরুতেই তার প্রণাম এবং শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে কথা শুরু করি।



চার দশকেরও বেশি সময় যাবত আপনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। এখনো নিশ্চয়ই দর্শকের কাছ থেকে নিজের অভিনীত সিনেমার জন্য সাড়া পান?


এটা বলতে পারেন আমার সৌভাগ্য যে, দর্শক এখনো আমার অভিনীত চলচ্চিত্র হলে গিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের মতো আমাদের এখানেও কিন্তু হলের সংখ্যা কমে গেছে। সিলভার স্ক্রিন বলতে গেলে নেই-ই। সারা বিশ্বেই আসলে সিনেমা হল সংকটে পড়েছে। কারণ সবার হাতের মুঠোয় এখন বিশ্ব। সেই হিসেবে আমাদের কলকাতায় এখনো দর্শক হলমুখী হচ্ছেন। চেষ্টা করেন দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করার। আমাকেও আমার অভিনীত চলচ্চিত্র মুক্তির সময় হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করতে হয়। তো এখনো দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাই আমি, তা আমার জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের। শুধু কলকাতার দর্শকই নয়, বাংলাদেশের দর্শকের কাছ থেকেও আমি অনেক অনেক ভালোবাসা শুরু থেকেই পেয়ে আসছি। এখনো যখন দেশের বাইরে যাই, সেখানে বাংলাদেশের অনেক দর্শকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। এই যে ধরুন শুধু সিনেমা দেখে দেখে একজন মানুষকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা করা এটা যে কতো বড় সৌভাগ্যের তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার আজও মনে পড়ে ওয়াশিংটনের ভার্জিনিয়াতে আমার শ্যালিকা থাকে। তো সে আমাকে বলতো যে সেখানকার বাংলা ভাষাভাষী দর্শকেরা আমার অভিনীত চলচ্চিত্রের ক্যাসেট কিনে কিনে দেখতো।


সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে, পথ চলতে গিয়ে এই যে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, এই ভালোবাসা আপনাকে অভিনয়ে কতোটা অনুপ্রেরণা দিয়েছে?


আমি সবসময়ই চেয়েছি মানুষের মঙ্গল হয়, সমাজের উপকার হয় এমন চরিত্রে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। আমি সবসময়ই কিন্তু প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করেছি। যেন আমায় দেখে মানুষ ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হন, সমাজের যেন সার্বিক উপকার হয়। একবার শুধু একটি চলচ্চিত্রে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম যে এটা আসলে আমার জন্য নয়। তাই আমার ভালোলাগার চরিত্রের বাইরে যদি কেউ কখনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন তখন আমি তা থেকে দূরে সরে এসেছি। কারণ আমি মানুষটাই এমন যে আমি যদি দেখি কেউ ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে, তাকে সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাই। আমার নিজের স্বার্থের জন্য তাকে আমি ভুল পথে রাখি না। আমার ক্ষতি হোক কিংবা আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাক তা নিয়ে ভাবতাম না আমি। আমি চাইতাম সে মানুষটা সঠিক পথে এগিয়ে আসুক।


কলকাতার ভবানীপুরে আপনার জন্ম। শুনেছি বেশ প্রভাবশালী পরিবারেই আপনার জন্ম। তো ছোটবেলা থেকেই কি অভিনয়ের প্রতি আপনার ভালোলাগা ছিলো?


আমাদের পরিবার রাজা বাদশাদের পরিবার ছিলো না। তবে কলতাতার ভবানীপুরে মল্লিক বাড়ির সুনাম আজো আছে। আমার পরিবার ছিলো আসলে পণ্ডিত, শিক্ষিত, রুচিসম্মত পরিবার। সবচেয়ে সহজে বললে বলা যেতে পারে খুব ইজ্জত ওয়ালা পরিবার। আমার ঠাকুর দাদাই কিন্তু কুকার আজ যাকে প্রেসার কুকার বলা হয় এর আবিষ্কারক। ধরেন রাইট ব্রাদার্স বিমান তৈরী করেছেন। কিন্তু সেই বিমান তো আজ নেই। অনেক মডার্ন হয়েছে। ঠিক তেমনই আমার ঠাকুর দাদার কুকারও নেই। কিন্তু তিনি তা তৈরী করেছিলেন। আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ভবানীপুরেই।


টালিগঞ্জের এই বাড়িতে কতোদিন আপনি?


সত্যি বলতে কি, আমার কাজের সুবিধার্থেই আসলে স্টুডিওপাড়ার আশেপাশে আমি আজ থেকে প্রায় ২৯ বছর আগে নিজের মতো করে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। এখান থেকে আমার কাজের সুবিধার্থে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়। দুপুরের খাবারটা আমি বাসাতেই এসে খেতে পারি। যে কারণে আসলে ভবানীপুর ছেড়ে টালিগঞ্জে এসে থাকা।


নায়ক হয়ে ওঠার গল্পটা জানতে চাই...


আমার নায়ক হয়ে উঠার গল্পটা আসলে বলা যায় একটি দুর্ঘটনার মতোই। আমাদের বাড়িতে গান, বাজনা, কবিতা আবৃত্তির পরিবেশটা কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছি। ...রঞ্জিত মল্লিক যখন এই কথা বলছিলেন ঠিক তখই আমাদের মাঝে প্রবেশ করেন তারই সহধর্মিনী দীপা মল্লিক। তারসঙ্গে রঞ্জিত মল্লিক আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আবার কথা বলা শুরু করেন।


রঞ্জিত মল্লিক বলেন, তো আমি তখন কলেজের পড়াশুনা শেষ করেছি। এই বয়সে কিন্তু সবারই মনে মনে একটা ভাব হয় হিরো হিরো ভাব। তো আমিও ভাবছিলাম যে যদি সিনেমার হিরো হওয়া যায় তাহলে ভালোই হতো। ঠিক তখনই কাগজে দেখলাম মৃনাল সেন ইয়ুথ প্রবলেম’র ওপর নতুন সিনেমার জন্য নায়ক খুঁজছেন। আমি কৌতূহল বশতঃ তারসঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, অভিনয়ের কোনো অভিজ্ঞতা আছে কি-না। আমি না করলাম, তবে এটাও বললাম অভিনয়ের পরিবেশটার সাথে আমি পরিচিত। তিনি বললেন, এসো একদিন।



আমি গেলাম আবার তার কাছে। তিনি আমাকে লেকের পাড়ে আমার নানান অভিব্যক্তি উপভোগ করতে শুরু করলেন। কখনো বলছেন প্রাণ খুলে হাসো, আবার কখনো বলছেন খুব রেগে যাও, আবার বলছেন অবাক হও। আমি তার কথামতো একের পর এক অভিব্যক্তি দিয়ে যাই। পরে একসময় জানতে পারলাম যে তার ‘ইন্টারভিউ’ সিনেমার জন্য আমি চূড়ান্ত হয়েছি। শুরু হলো ইন্টারভিউ সিনেমার কাজ। ১৯৭১ সালে মুক্তি পেলো আমার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।


প্রথম চলচ্চিত্রের সাফল্যের পরপরই কি সিদ্ধান্ত নিলেন পেশা হিসেবে সিনেমাতেই অভিনয় করবেন?


‘ইন্টারভিউ’ সিনেমা মুক্তি পাবার পর Karlovy Vary International Film Festival এ আমি International Best Actor সম্মাননা লাভ করি। শুধু তাই নয়, তখন এই সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য আমি দেশেও বিভিন্ন ধরনের সংবর্ধনা পাই। সবমিলিয়ে আমি বেশ পুলকিত হই এবং বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছিলাম। যে কারণে পরে সিদ্ধান্ত নেই যে এই পেশাতেই থেকে যাওয়া যায়। এভাবেই আসলে সিনেমাতে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নিলাম। আমার প্রথম চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময়ই ওই চলচ্চিত্রের প্রযোজক আমাকে দিয়ে ‘পরিবর্তন’ নামের একটি হিন্দী চলচ্চিত্রে অভিনয় করান। আমার অভিনীত প্রথম সিনেমা থেকেই আমি প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার সবসময়ই কেবল মনে হয়েছে দর্শকের ভাবনায় মানুষের জন্য কল্যাণ করতে হবে এই বিষয়টি মাথায় প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। আজীবন আমি মানুষের কথা ভেবেই সিনেমাতে অভিনয় করেছি।


আপনিতো সত্যজিৎ-রায়ের সিনেমাতে, মহানায়ক উত্তম কুমারের এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা যদি বলতেন...


সত্যজিৎ রায়ের নির্দেশনায় ‘শাখা প্রশাখা’ চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ হয়েছিলো আমার। তার চলচ্চিত্রে কাজ করার সুবিধা ছিলো এই যে আমি আর আপনি যে সহজ সরল ভাষায় কথা বলছি, এটা করা যেতো তার চলচ্চিত্রে। তিনি বলতেন, তোমার যেভাবে কাজ করতে বা অভিনয় করতে সহজ লাগে তুমি সেভাবেই অভিনয় করো। অভিনয়ের জন্য তিনি শিল্পীকে ছেড়ে দিতেন। আর এ কারণেই তার চলচ্চিত্রে চরিত্রগুলো হয়ে উঠতো জীবন্ত। উত্তম কুমারের সঙ্গে আসলে আমার সম্পর্কটা ছিলো বড় ভাই ছোট ভাইয়ের মতো। আমি যখন চলচ্চিত্রে আসি তিনি তখন সুপারস্টার। তার সঙ্গে পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি যারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘মৌচাক’। তো শুটিংয়ের সময় তিনি আমাকে বেশ আগলে রাখতেন। আমার সঙ্গে কথা বলে বলে সম্পর্কটাকে সহজ করে নিতেন, যাতে আমি প্রাণ খুলে অভিনয় করতে পারি। তিনি নেই আজ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় হলো। কিন্তু তারপরও তিনি আছেন আমাদের মাঝে। আর সৌমিত্র দাদাতো খুব রসিক মানুষ। একজন শক্তিমান অভিনেতাতো বটেই। অনেক বয়স হয়েছে তার। কিন্তু এখনো তিনি বেশ ভালোভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন, এটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।


কলকাতার শীর্ষ নায়িকা কোয়েল মল্লিকের বাবা আপনি, এই বিষয়টা আপনাকে কতোটা পুলকিত করে?


নিশ্চয়ই অনেক আনন্দ দেয়। তবে শীর্ষ নায়িকা কি-না তা বলবো না, ও ভালো করছে। এটাই আমাদের ভালোলাগা। পাড়ার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা যখন আমাকে দেখে বলে, কোয়েলের বাবা, কোয়েলের বাবা। তখন মনে বড় আনন্দ হয়। আবার মনে মনে এটাও বলি, কোয়েলের বাবা নারে, বল কোয়েল আমার মেয়ে। হয়তো এটাই নিয়ম সন্তান খ্যাতি অর্জন করলে তার পরিচয়েও একসময় বাবা মাকে পরিচিত হতে হয়। এটাও বাবা মায়ের জন্য অনেক গর্বের, আনন্দের।
বাংলাদেশে কবে গিয়েছিলেন?


বাংলাদেশে গিয়েছিলাম ১৯৯৬ সালে। তখন সেখানকার হিরো সালমান শাহ’র মৃত্যুর কথা শুনে খুব খারাপ লেগেছিলো। খুব ভালো একজন হিরো নাকি ছিলেন তিনি। ৯৬ সালেই পরপর দু’বার গিয়েছিলাম আমি। ‘আমি সেই মেয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। এতে আমি জয়াপ্রদা, আলমগীরসহ আরো অনেকেই অভিনয় করেছিলাম। তবে আবার যাবো ভাবছি। আপনাদের ওখানকার কক্সবাজারের কথা বহু শুনেছি। বিশ্বের কম দেশেতো আর ঘুরে বেড়াইনি। ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে বেড়ানোর। সমুদ্রের গর্জনটা খুব কাছে থেকে শুনতে চাই, কক্সবাজারের মনোরম দৃশ্য কাছে থেকে উপভোগ করতে চাই।


ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন?


১৯৮০ সালের কথা। তখন আমি পিনাকি মুখার্জির ‘কপালকুণ্ডলা’ সিনেমার শুটিং করছিলাম। সেই বছরই আমার এবং দীপার বিয়ে হয়। দীপা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ করা। পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও আমাদের আগেই জানাশুনা ছিলো। একের প্রতি অন্যের ভালোলাগা ভালোবাসা ছিলো।


সেদিন রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কথা শেষ হয়। পরদিন কলকাতার নজরুল মঞ্চে আজীবন সম্মাননা গ্রহণের সময় আবার দেখা হয়। সম্মাননা পাবার পর তাকে আবারো প্রশ্ন রাখি, গত টেলি-সিনে অ্যাওয়ার্ডে আজীবন সম্মাননা পেলেন? কেমন লাগলো?



খুউব ভালোলাগলো। একই মঞ্চে বাংলাদেশের নায়ক রাজ্জাক সাহেব সম্মাননা পেলেন, আমিও পেলাম। আমরা দু’জন একসঙ্গে একটি চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছিলাম। আমরা একই ভাষার চলচ্চিত্রের নায়ক, এটা অনেক বড় ভালোলাগার। ধন্যবাদ দিতে চাই টেলি-সিনে অ্যাওয়ার্ড আয়োজকদের এবং বাংলাদেশের ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’কে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য।


ধন্যবাদ বিবার্তা২৪ডটনেটকেওআমাকে সম্মাননা দেয়ার জন্য। আমি খুব আনন্দিত, পুলকিত। যদি বেঁচে থাকি, তবে বাংলাদেশে শিগগিরই আবার যাবার ইচ্ছে রাখি।


বিবার্তা/অভি/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com