চলতি বছরেই দেশে স্মার্টফোন তৈরি শুরু করবে ওয়ালটন
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৭, ১৬:০০
চলতি বছরেই দেশে স্মার্টফোন তৈরি শুরু করবে ওয়ালটন
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

২০১১ সালে বাণিজ্যমেলায় ফিচার ফোন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের প্রযুক্তি বাজারে আসে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। পরের বছরই স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ে তারা। অল্প সময়েই দেশের বাজারে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ডটি। গুণগত মানের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে স্মার্টফোন বাজারজাত করার কারণেই এ সাফল্য আসে। বর্তমানে ওয়ালটন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।


বাজারে ওয়ালটন মোবাইলের বর্তমান অবস্থা, বিক্রয়োত্তর সেবা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিবার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন ওয়ালটনের সেল্যুলার ফোন ডিভিশনের ফার্স্ট সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর আসিফুর রহমান খান। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন উজ্জ্বল এ গমেজ।


বিবার্তা : ক্রেতারা ওয়ালটন স্মার্টফোন কিনবে কেন?


আসিফুর রহমান খান : ক্রেতারা মোবাইল ফোন কেনার সময় যে বিষয়গুলো চিন্তা করে থাকেন যেমন, ফোনটির গুণগত মান, মূল্য, ব্যাটারি ব্যাকআপ, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা। ওয়ালটন শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ফোন বাজারজাত করে আসছে।


যেমন ধরুন, ৩-৪ গিগাবাইট র‌্যামের স্যামসাং বা হুয়াওয়ের যদি একটা স্মার্টফোন কিনতে যান তাহলে হয়তো দাম পড়বে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। ক্রেতাদের হাতে আমরা ওই রেঞ্জের স্মর্টফোনগুলো তুলে দিচ্ছি ২৫-২৮ হাজার টাকায়। আমরা স্মার্টফোনগুলোতে কোয়ালিটির ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। কেননা আমাদের ব্যবসা তো আর একদিনের জন্য না। ক্রেতাদের কাছে ফোনের কোয়ালিটি এনসিওর না করতে পারলে ওই ক্রেতা আর দ্বিতীয়বার ফোন কিনবে না।


ওয়ালটনের স্মার্টফোনের কোয়ালিটি ও দামের পরে কাস্টমারদের জন্য রয়েছে ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর বিশেষ সেবা। কারণ যে কোনো ব্র্যান্ডের ফোন কেনার পরই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তখন তাৎক্ষণিক সেবাটা না পেলে ব্যবহারকারীকে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। ওই কোম্পানির কোনো সার্ভিস সেন্টার না থাকলে তখন ফোনটার আর কোনো মূল্য থাকে না। এদিক থেকে ওয়ালটনের কাস্টমারদের বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য সারাদেশে রয়েছে শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক। ওয়ারেন্টির সময়ের মধ্যে কাস্টমারদের ফোনের যে কোনো সমস্যায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সার্ভিস দেয়া হয়।



বিবার্তা : ওয়ালটনের স্মার্টফোনের টার্গেট ক্রেতা কারা?


আসিফুর রহমান খান : সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এন্ট্রি লেভেলের কাস্টমার, যারা ফিচার ফোন ছেড়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। ওয়ালটন বিশ্বাস করে প্রথমেই কাস্টমারদের হাতে সুলভ মূল্যে একটা ভালো মানের স্মার্টফোন তুলে দিতে পারলে ধীরে ধীরে ওয়ালটনের ওপর তাদের আস্থা বৃদ্ধি হবে। এই জায়গাটাতে আমরা বিশেষভাবে কাজ করছি। এই লেভেলের কাস্টমারদের কাছে স্মার্টফোনের বেইজডটা শক্ত করার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া মিডরেঞ্জের কাস্টমারদের টার্গেট করে ইতোমধ্যেই ওয়ালটন বাজারে ছাড়ছে উচ্চ গুণগত মান ও অত্যাধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন। ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে বিভিন্ন ফ্লাগশিপ যেমন প্রিমো এক্স১, প্রিমো এক্স২, প্রিমো এক্স৩ এবং এক্স থ্রি মিনি, যা বাংলাদেশের প্রথম সবচেয়ে পাতলা (স্লিম) স্মার্টফোন ছিল, ওয়ালটন তা উপহার দিয়েছে। বর্তমানে সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরের ক্রেতাদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এসব অঞ্চলে ফোন বিক্রি বেশি হচ্ছে। আমাদের টার্গেট অনেকটা পূরণের পথে।


বিবার্তা : বাজারে ওয়ালটন মোবাইলের অবস্থান কেমন?


আসিফুর রহমান খান : ওয়ালটনের মোবাইল ফোনের বাজারটি খুব বেশি দিনের নয়। আমরা ২০১১ সালের জানুয়ারিতে কার্যক্রম শুরু করি। আর স্মার্টফোনের বাজারে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে আমাদের জন্য একটি মাইলফলক বলতে পারি। এ মাসেই আমরা প্রথম ওয়ালটনের প্রিমো সিরিজ লঞ্চ করি। তখন লোকাল ব্র্যান্ড বলতে শুধু সিম্ফনিই ছিলো। প্রথম থেকেই স্মার্টফোনের সাড়া ভালো ছিল। বর্তমান প্রেক্ষপটে স্মার্টফোন বিক্রির দিকে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওয়ালটন।


বর্তমানে দেশের মোবাইল মার্কেটটা অনেক বড়। ২০১৬ সালে মোবাইল ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সারা দেশে ৮ হাজার কোটি টাকার স্মার্টফোন আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪০-৪৫টা ব্র্যান্ড কাজ করছে। এর মধ্যে প্রতি বছর ৮-১০ ব্র্যান্ড নতুন করে আসে। এ বছর নতুন একটি আসছে তো পরের বছর ওটি আর নাই। আবার নতুন আরেকটি আসছে। এসব ব্র্যান্ডগুলো বাজারে টিকতে পারে না শুধু স্থানীয় ব্র্যান্ড কোয়ালিটি নিশ্চিত করার কারণে।



বিবার্তা : শুরুতে আপনাদের কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে?


আসিফুর রহমান খান : ২০১১ সালে দেশে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাজারে প্রভাব বিস্তার করে ছিল। এমন অবস্থায় আমাদের মার্কেটে আসাটা একটু চ্যালেঞ্জের ছিলো। নতুন একটা প্রোডাক্ট ক্রেতাদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতেও নানা রকম ঝক্কিঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখন আমরা এসব বিষয় অনেকটা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। ক্রেতাদের চাহিদার বিষয়টা মাথায় রেখে ফোনের গুণগত মান, সার্ভিস কোয়ালিটি ও সুলভ মূল্যে বাজারে ফোন ছাড়ায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।


আমরা মানুষের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করি। তাদের মতামত গ্রহণ করি। পরবর্তিতে গ্রাহকের চাহিদামতো ফোন বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করি। আমাদের টার্গেট আমাদের দেশের জনগণ যেন গুণগত মানসম্পন্ন ফোন সাশ্রয়ী দামে পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা।


বিবার্তা : ওয়ালটন স্মার্টফোন ক্রয়ে ক্রেতাদের আপনার কী ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকেন?


আসিফুর রহমান খান : আমি আগেই বলেছি আমাদের লক্ষ্য সাশ্রয়ী দামে সবার হাতে স্মার্টফোনের মতো উচ্চমানসম্পন্ন প্রযুক্তিপণ্য তুলে দেয়া। সেজন্য কোয়ালিটির নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গে দামটাও সবার হাতের নাগালে রাখার চেষ্টা করি। একই সঙ্গে ক্রেতারা যাতে সহজে মোবাইল ফোন কিনতে পারেন, সেজন্য আমরা কিস্তি সুবিধা রেখেছি। আমরাই প্রথম কিস্তিতে মোবাইল ফোন দেয়া শুরু করি। দেশের সকল ওয়ালটন প্লাজা ও ব্র্যান্ডেড আউটলেটে ০% ইন্টারেস্টে ৬ মাসের ইএমআই সুবিধায় কেনা যায় যেকোনো মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোন ও ট্যাব। রয়েছে সহজ শর্তে ১২ মাসের কিস্তি সুবিধাও।



বিবার্তা : ওয়ালটন মোবাইলের বিক্রয়োত্তর ও অন্যান্য সেবা সম্পর্কে বলুন।


আসিফুর রহমান খান : মোবাইল বাজারের শুরুর দিকে আমাদের লজিস্টিক ও ম্যানপাওয়ারের সমস্যা ছিলো। বেশি সার্ভিস পয়েন্ট ছিলো না। তাই বিক্রয়োত্তর সেবাটায় একটু ঘাটতি ছিলো। কিন্তু এগুলো আমরা কাটিয়ে উঠেছি। বর্তমানে সারাদেশে ৬৫টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। গ্রাহকরা এখন ঘরে বসে ফোনটি সার্ভিস সেন্টারের কোন পর্যায়ে আছে, তার ফোনের কি অবস্থা তা জানতে পারেন। অটোমেশন সফটওয়্যার যা আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে বিল্টইন করা। যার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার সার্ভিস সম্বন্ধে জানতে পারে। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও আমরা বেশ অ্যাক্টিভ। ওয়ালটনবিডি ফ্যান পেজে যদি কোনো কমেন্ট বা সাজেশন দেয়া হয়, তবে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলোর উত্তর দেয়া হয়। এছাড়া আমাদের সার্ভিস সেন্টার আরো বাড়ানোর জন্য কাজ করছি।


বিবার্তা : ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মোবাইল ফোন বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন?


আসিফুর রহমান খান : এবারের জাতীয় বাজেটে মোবাইল ফোন আমদানিতে ১০% শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। বাজেট ঘোষণার পরই মোবাইল কোম্পানির অ্যাসোসিয়েশনগুলো এনিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভা করেছেন যেন শুল্কটা কমানো হয়। আমার মতে, যদি এটাই সিদ্ধান্ত হয় তাহলে মোবাইলের দাম একটু বাড়বে। তবে কতটা বাড়বে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। এখনও এর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি। আর খুব একটা যে বেশি দাম বাড়বে সেটাও না। আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। নিলেও ক্রেতাদের হাতের নাগালের মধ্যে রেখে দাম নির্ধারণ করা হবে।


বিবার্তা : ওয়ালটন স্মার্টফোনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলুন?


আসিফুর রহমান খান : শিগগিরই দেশেই মোবাইল তৈরি করতে যাচ্ছে ওয়ালটন। আর অ্যাসেম্বিলিং নয় এবার মেড ইন বাংলাদেশের সিল থাকবে ওয়ালটনের ফোনের গায়ে। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে সরকারের সাথে অফিসিয়ালি কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ফোন তৈরির নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে চলতি বছরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দেশীয় প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোন তৈরি।


বিবার্তা/উজ্জ্বল/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com