আমার কোনো আক্ষেপ নেই : মৌসুমী
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:১৪
আমার কোনো আক্ষেপ নেই : মৌসুমী
ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার
অভি মঈনুদ্দীন
প্রিন্ট অ-অ+

প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নন্দিত একজন নায়িকা। ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ছায়াছবিটি মুক্তির মধ্য দিয়ে রূপালী পর্দায় তার অভিষেক। সেই হিসেবে গত ২৫ মার্চ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ক্যারিয়ারের ২৪ বছর অর্থাৎ দুই যুগ পূর্ণ করেছেন তিনি।


চলচ্চিত্রে প্রথম দিন থেকে আজ অবধি, বলা যায়, ঠিক সমান জনপ্রিয়তা নিয়েই এখনো দাপটের সাথেই কাজ করছেন মৌসুমী। দর্শকের ভালোবাসায় তিনি হয়েছেন নন্দিত। নায়িকা পরিচয়ে গর্ববোধ করেন মৌসুমী। তিনি এমনও বলেন, যদি আবার জন্ম হয়, তবে এই বাংলাদেশের মাটিতেই যেন জন্ম হয়। আর যেন মৌসুমী হয়েই জন্ম হয়।


বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মৌসুমী নিজেই এক আলাদা অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন, যাতে তার সাফল্যগাথা ইতিহাস রয়েছে। চলচ্চিত্র জীবনে নানান অর্জন, স্মৃতিকথাসহ নানান প্রসঙ্গ নিয়ে শনিবার রাতে দীর্ঘ সময় কথা হয় মৌসুমীর সঙ্গে। সেসব কথারই চুম্বক অংশ সাক্ষাৎকার আকারে লিপিবদ্ধ করেছেন বিবার্তা২৪ডটনেটের বিনোদন-প্রধান অভি মঈনুদ্দীন।


বিবার্তা : দেখতে দেখতে চলচ্চিত্রজীবনে দুই যুগ পূর্ণ করলেন। এতোটা সময় চলে গেলো, যখন এই চলে যাওয়া সময় নিয়ে ভাবেন, কেমন লাগে তখন?


মৌসুমী : দেখতে দেখতে এতোটা বছর পেরিয়ে গেলো, ভাবাই যায় না। আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে আব্বুর কথা। মনে পড়ছে আমার প্রথম চলচ্চিত্রের হিরো সালমান ও মান্না ভাইয়ের কথা। আমি কৃতজ্ঞ ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ ভাইয়ের কাছে, যার ক্যামেরা দিয়ে আমাকে প্রথম দেখেন এবং পরবর্তীতে রফিকুর রহমান রেকু ভাই। কৃতজ্ঞ ক্যাসেন্ড্রা লিমিটেডের প্রধান শাকিব লোহানী, পরিচালক সোহান ভাই, মুশফিকুর রহমান গুলজার ভাই, যাদের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি চাষী ভাই, নারগিস আপা এবং রাজের প্রতি। কৃতজ্ঞ পাঠকপ্রিয় ম্যাগাজিন আনন্দবিচিত্রা, সিনেমা, প্রিয়জন, চিত্রালী এবং সাংবাদিক বড় ভাই শ্রদ্ধেয় আওলাদ ভাই। আমার মা, দুই বোন ইরিন ও স্নিগ্ধা আমার পাশে থেকেছে সবসময়। আর যে মানুষটির ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আমি পরিপূর্ণ, তিনি আমার সকল সুখ-দুঃখের সাথী, আমার স্বামী ওমর সানী। আমার দুই সন্তান ফারদিন ও ফাইজাহর জন্য দোয়া করবেন সবাই।



বিবার্তা : ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটা আমাদের বলুন


মৌসুমী : আমি শ্রদ্ধাভরে কৃতজ্ঞতা জানাই ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ ভাইকে। কারণ তার ক্যামেরা দিয়েই আমার প্রথম ছবি তোলা হয়। তার তোলা ছবিই প্রথম দেখেন স্কয়ারের অঞ্জন দা। আমাকে দেখে বিজ্ঞাপনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। চলচ্চিত্রে আসার আগে আমি প্রথম বিজ্ঞাপনে মডেল হই। তবে মজার ব্যাপার হলো, আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় ‘সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি’র বিজ্ঞাপনটি আমার প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির সময় এতো বেশি বিটিভিতে প্রচার হতো যে, এর জিঙ্গেলটি সবার মুখে মুখে ছিলো। সুমনা হকের কণ্ঠে ‘প্রিয় প্রিয় প্রিয় সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি’যেন আজো কানে বাজে।


বিবার্তা : চলচ্চিত্রে আপনার প্রথম নায়ক সালমান শাহের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাচ্ছিলাম।


মৌসুমী : সালমান কিন্তু আমার ছোটবেলার স্কুল ফ্রেন্ড। ছোটবেলায় আমরা একই স্কুলে পড়াশুনা করেছি খুলনায়। কিন্তু ছোটবেলাতেই আবার আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে আর যোগাযোগ ছিলো না। পরবর্তীতে যখন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করি তখন গল্পে গল্পে জানতে পারি যে, আমরা ছোটবেলায় একই স্কুলে পড়তাম। সালমান আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, কী নাম তোমার? আমি বলেছিলাম, ‘আমার নাম আরিফা’। শুনে সালমান হেসে বলেছিলো, ‘আরে তুমি আরিফা!’ সেই থেকে আমাদের স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব নতুন করে প্রাণ পায়। শুরু হয় নতুন করে আমাদের পথচলা। যে কারণে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’শুটিং করার সময় আমরা বেশ আন্তরিকতা নিয়েই কাজ করেছি।


বিবার্তা : সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর জুটি হিসেবে কার সঙ্গ বেশি উপভোগ করেছেন?


মৌসুমী : সালমানের সঙ্গে জুটি হিসেবে চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। প্রথম চলচ্চিত্র এবং পরবর্তীতে শিবলী সাদিকের ‘অন্তরে অন্তরে’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘স্নেহ’এবং শফি বিক্রমপুরীর ‘দেনমোহর’। এরপর তার সঙ্গে আমার আর অভিনয় করা হয়ে উঠেনি। সালমানের পর বলা যায় কম বেশি সবার সঙ্গেই অভিনয় করেছি। যার সঙ্গেই জুটি বেঁধেছি, বেশ উপভোগ করেছি। ওমর সানীর সঙ্গে কাজ করে করে তো তার জীবনসঙ্গীই হয়ে গেলাম। সে আমার চলচ্চিত্রের নায়ক, আবার জীবনেরও নায়ক। দুই জায়গাতেই সানী আমার সফল নায়ক। সানী ছাড়া এর বাইরে যাদের সঙ্গে কাজ করে সফল হয়েছি তাদের অন্যতম হচ্ছেন মান্না ভাই আর ফেরদৌস। এছাড়া ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই, রুবেল ভাইয়ের সঙ্গেও বেশকিছু চলচ্চিত্রে কাজ করে সফল হয়েছি।



বিবার্তা : বিশেষ কোন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আপনার মনে দাগ কেটেছে?


মৌসুমী : সত্যি বলতে কী, একটি চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখ করা খুব কঠিন। কারণ, একেকটি চলচ্চিত্র একেক কারণে মনে দাগ কেটে আছে। তাই একটি বা দুটি চলচ্চিত্রের নাম বললে বেশ নিষ্ঠুরতাই হবে বলে আমার মনে হয়। এতোটা নিষ্ঠুর নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রের প্রতি হওয়াই যাবে না। তারপরও বলবো, আমার প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’তো অবশ্যই আমার মনে দাগ কেটেছে। সেই সময়েই এমন আরো অনেক চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, যা আজও আমার মনে দাগ কেটে আছে। এমন অনেক চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে যেসব চলচ্চিত্র বেশ ব্যবসাসফল হয়েছিলো। সেসব চলচ্চিত্র মনে দাগ কেটেছে, আমাকে আরো ভালো ভালো চলচ্চিত্রে, ভালো চরিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী করে তুলেছে। যে কারণে বরেণ্য পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আমজাদ হোসেন, চাষী নজরুল ইসলামের মতো পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করতে পেরেছি। আবার নতুন পরিচালক নারগিস আক্তারের ‘মেঘলা আকাশ’চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছি। পেয়েছি ‘বাচসাস’, ‘প্রযোজক পরিবেশক সমিতি পুরস্কার’সহ আরো অনেক সংগঠনের পুরস্কার।


বিবার্তা : দুই যুগ অভিনয়ের পথচলায় নিজেকে কী পরিপূর্ণ একজন অভিনেত্রী মনে হয় আপনার?


মৌসুমী : সত্যিকারের একজন শিল্পী অভিনয়ের পথচলায় নিজেকে কখনোই পরিপূর্ণ মনে করেন না। আর এই অপরিপূর্ণতা নিয়েই কিন্তু একসময় এই পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান। শিল্পীমনে নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায়। আমারও সেই অতৃপ্তি আছে, চ্যালেঞ্জিং আরো নতুন চরিত্রে কাজ করার ক্ষুধা আছে। হ্যাঁ, এটা সত্য যে, একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করে সাময়িক সময়ের জন্য ক্ষুধা নিবারণ হয়, কিন্তু পরে আবার সেই ক্ষুধা সৃষ্টি হয়। শিল্পীমন এমনই। যে বয়সে যে চরিত্রে কাজ করা প্রযোজন তা করতে না পারলেও আজীবন ক্ষুধা থেকে যায়। আমি এমনভাবে চলচ্চিত্রে কাজ করে এসেছি যে সময়ে, যে বয়সে যে চরিত্রে অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা তৈরী হয়েছে, আমি করার চেষ্টা করেছি। যে কারণে আমার বয়স, আমার মন-মানসিকতার সাথে যায় এমন চরিত্রে কাজ করেছি আমি। সেসব কাজ দিয়ে আমি দৃষ্টান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।


তবে হ্যাঁ, অপরিপূর্ণতা আছে আমার। আমি যেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, সমাজের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। মানুষ হিসেবে আরো অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই স্বপ্ন আমার রয়েছে। এখনো যে করছি না বা দাঁড়াচ্ছি না, তা নয়। কিন্তু সেটা বিরাটা আকারেই করতে চাই। আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দান করেন, আমাকে যেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় করে দেন।



বিবার্তা : ওমর সানীর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে তৈরী হয়েছিলো?


মৌসুমী : বিষয়টি এমন ছিলো যে, আমাদের দু’জনেরই দু’জনকে ভালো লাগতো। যে কারণে দু’জনই একে অন্যকে সরাসরি ভালোলাগা, ভালোবাসার কথা বলেছিলাম। আমি এমন একজন মানুষকেই মনে মনে খুঁজছিলাম যিনি কীনা সহজ, সরল ও সৎ। সানীর মাঝে আমি তা পেয়েছিলাম। সে আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলো আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে পাশে থাকবে। সানী খুব দুষ্টু ছিলো এটা সত্যি, কিন্তু খুব ভালো মনের একজন মানুষ সানী। যে কারণে একসময় পথ চলতে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলাম আমরা। আমরা আমাদের পরিচয়ের শুরু থেকেই একজন আরেকজনকে খুব সম্মান করে চলি এবং আমরা যে ওয়াদা নিয়ে জীবন-সংসার শুরু করেছিলাম সেই ওয়াদাই রাখবো আজীবন, একসঙ্গে থাকবো পাশাপাশি দু’জন ইনশাল্লাহ।


বিবার্তা : সংসারজীবন কিংবা অভিনয়জীবনে কোনো আক্ষেপ আছে কি?


মৌসুমী : আমি আক্ষেপ রাখতে পছন্দ করি না। এমন অনেক কিছুই আছে, যা আমার জীবনে হবারই কথা নয়, অথচ আমি তা পেয়ে বসে আছি। তাই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি নিজেকে সংসারজীবনে এবং ক্যারিয়ারেও একজন সফল স্ত্রী, সফল মা এবং সফল নায়িকা-অভিনেত্রী মনে করি। সত্যি বলতে কী, আমরা আর ক’দিনইবা বাঁচবো। তাই কোনো কিছুর জন্য আক্ষেপ করে তো লাভ নেই। আমি সবসময়ই নিজের সাথে নিজেই প্রতিযোগিতা করি। যে কারণে আমি আমার নিজেকেই আপডেট রাখার চেষ্টা করি। সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। যে কারণে কখনো পিছিয়ে থাকতে হয় না আমাকে। সংসারজীবনে স্বামী, সংসার, সন্তানকে যেভাবে সময় দিতে হয়, আমি দেবার চেষ্টা করি। সবমিলিয়েই কিন্তু আমি একজন পরিপূর্ণ নারী, পরিপূর্ণ মানুষ।



বিবার্তা : নায়িকা হিসেবে পথ চলতে গিয়ে স্ক্যান্ডালের মুখোমুখি হতে হয় অনেক সময়। এমন বিষয়গুলো কীভাবে সামলেছেন?


মৌসুমী : আমি কিন্তু কখনোই স্ক্যান্ডালকে গুরুত্ব দেইনি। স্ক্যান্ডাল যা ছিলো সবসময়ই তা দর্শক পর্যন্ত থাকতো, ব্যক্তিজীবনকে তা স্পর্শ করতে দিতাম না। তাছাড়া আমরা যারা মোটামুটি একসঙ্গে কাজ করতাম তারা সপ্তাহের দুই/তিনদিন পারিবারিক আড্ডায় মেতে উঠতাম। যে কারণে আমরা একে অন্যকে খুব ভালোভাবে জানতাম, চিনতাম। তাই সেসব স্ক্যান্ডাল বিশ্বাস করার কারণ ছিলো না। যদি বিশ্বাসই করতাম, তাহলে তো ঝগড়া হতো। যেমন এমনও সময় গেছে যে তখন রাত দুইটা বাজে, মান্না ভাই হঠাৎ বাসায় চলে এলেন। সানী ও আমার ঘুম ভাঙ্গালেন। কারণ, একটি ভালো গল্প তার মাথায় এসেছে, রাতেই গল্পটা তিনি শোনাতে চান। আমরা উঠলাম, আবার শুরু হলো রান্নাবান্না, গল্প, আড্ডা। তো এই বিষয়গুলো আমাদের নিজেদের গণ্ডির মধ্যে ছিলো। আমাদের মধ্যে এত চমৎকার পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো যে, এসব বিষয় নিয়ে স্ক্যান্ডাল করার সুযোগই ছিলো না।


তবে হ্যাঁ, চলচ্চিত্রের প্রযোজক স্ক্যান্ডাল করাতে চাইতেন, যাতে তার সিনেমাটির ভালো ব্যবসা হয়। আবার এমনও দেখা গেছে জুটি হিসেবে কেউ স্থায়ী হয়ে যাচ্ছেন সেই জুটি ভেঙ্গে দেবার জন্য বিংবা নায়ক-নায়িকার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য স্ক্যান্ডাল করা হতো। আমি এসবের ধারেকাছেও ছিলাম না।


বিবার্তা : চলচ্চিত্রের রাজনীতি কীভাবে সামলেছেন?


মৌসুমী : চলচ্চিত্রের রাজনীতি যে আমি বুঝি না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু আমি নিজেই এর সঙ্গে নিজেকে জড়াইনি কখনো। আমাকে নিয়ে চলচ্চিত্রে যেসব রাজনীতি হতো কিংবা যেসব প্রশ্ন উঠতো, আমার কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর জানা ছিলো। আমি চাইলেই উত্তর দিতে পারতাম। কিন্তু দিতাম না। কারণ, আমি শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। এসব রাজনীতি নিয়ে ভাবার সময় ছিলো না আমার। তাছাড়া আমি কারো প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য বাধ্যও ছিলাম না। আমাকে প্রশ্ন করে যদি কারো উত্তর পেতে হতো তাহলে তাকে অনেক চেষ্টা করতে হতো। উত্তর যে নিশ্চিত পেতো তাও কিন্তু নয়। তাই চলচ্চিত্রের রাজনীতিকে কখনোই আমি আমলেও নেইনি। আমি আমার কাজেই মগ্ন ছিলাম।


বিবার্তা : জাতীয় রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?


মৌসুমী : আমার স্বামী যদি চান এবং আমার যদি কখনো মনে হয় যে জাতীয় রাজনীতিতে আসা যেতে পারে, তখন এটা নিয়ে ভাবতে পারি। তবে তারও আগে এর ওপর আমার অনেক পড়াশুনাও করতে হতে পারে। যা-ই করি না কেন, একটু ভেবেচিন্তেই করতে হবে। সত্যি বলতে কী, এ বিষয়টি নিয়ে এখনো তেমন কিছু ভাবিনি।



বিবার্তা : বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সর্বকালের জননন্দিত নায়িকা শাবানা পর অনেকেই আপনাকে আদর্শ মনে করেন। এই বিষয়টি আপনাকে কতোটুকু আনন্দ দেয়?


মৌসুমী : সময় এতোটাই চলে গেছে জীবনের, ভাবলে অবাক হই। আবার সময় এমন ভাবে চলে গেছে যে, এখন আমাকে আমার পরবর্তী প্রজন্মের কেউ আদর্শ মনে করছে। বিষয়টি যদিও অনেক ভালোলাগার, উচ্ছাসের। কিন্তু তারপরও মনে মনে ভাবি, আমি কী আসলেই এমন কেউ কী হতে পেরেছি যে আমাকে আদর্শ মনে করবে! তবে যদি তাই মনে করেন, তবে এটা আমার অর্জন, আমার অনেক ভালোলাগারও বিষয় বটে। কারণ, আমাকে আদর্শ মনে করে যদি চলচ্চিত্রে কেউ মন দিয়ে কাজ করে নিজের একটি অবস্থান তৈরী করে নেয়, তাহলে আমাদের চলচ্চিত্রে নায়িকাশূণ্যতা দূর হবে। আমি যা করতে পারিনি তিনি যেন তা করতে পারেন - এই শুভকামনা থাকবে আমার। কারণ, আমি চাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পাক।


বিবার্তা : স্বপ্নের চলচ্চিত্র বা চরিত্রে অভিনয় করা হয়েছে কী? যদি না হয়ে থাকে তাহলে জানতে চাই সেই স্বপ্নের চরিত্রের কথা?


মৌসুমী : স্বপ্নের চলচ্চিত্র বা স্বপ্নের চরিত্রে এখনো কাজ করা হয়ে ওঠেনি আমার। তবে এখনো সেই সুযোগ আছে। তাই এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ, স্বপ্নের কথা যদি বলেই ফেলি, যদি অন্য কেউ তা নিয়ে পরিকল্পনা করে ফেলেন, তাহলে তো আমার স্বপ্নটাই ভেঙ্গে যাবে। স্বপ্নের চরিত্রে যদি কাজ না করতে পারি, তাহলে আমি নিজের হাতে সেই স্বপ্নের চরিত্রটি সৃষ্টি করবো, আমি নিজেই সেই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করবো। দেখা যাক, আল্লাহ কী করেন।


বিবার্তা : একজন জনপ্রিয় নায়কের স্ত্রী আপনি, এই বিষয়টি কতোটা গর্বিত করে আপনাকে?


মৌসুমী : আমি নায়ক ওমর সানীর স্ত্রী, অবশ্যই এই বিষয়টা আমাকে অনেক বেশি আনন্দ দেয়, গর্বিত করে। কারণ, একসময় তিনি একজন জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন, এখনো সেই জনপ্রিয়তা নিয়েই অভিনয় করছেন। দর্শক তাকে ভালোবাসে, সম্মান করে। সানীকে উদ্দেশ করেই বলছি, আমি চাইবো আপনি সেই সম্মান ধরে রেখে চলচ্চিত্রে কাজ করে যাবেন। আমি যদি কখনো এই পৃথিবীতে নাও থাকি, আপনি যেন আপনার অবস্থান, সম্মান ও দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে ধরে রাখতে পারেন, এমনভাবে কাজ করে যাবেন। মনে মনে ভাববেন তখন যে আপনার স্ত্রী চাইতো আপনি এভাবে সবার ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে যাবেন।


বিবার্তা : জন্মেছেন এই দেশে, এই দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান নিশ্চয়ই?


মৌসুমী : অবশ্যই চাই। কারণ, এদেশের মাটিতে জন্ম নিয়েছি, তাই এদেশের মাটিতেই যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারি। কবি জীবনানন্দ দাসের কবিতার মতোই বলতে হয় ‘আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়’। যদি আবার জন্ম হয় আমার, যেন এই দেশেই যেন হয়, আজ যে মৌসুমীরূপে আছি আমি, যেন তা-ই হয়ে আসি আবার। কারণ এমন সুন্দর জীবন সবার হয় না। এক জীবনে এতো মানুষের ভালোবাসা পাবার সৌভাগ্য সবার হয় না। জন্ম অনেকেই নেন পৃথিবীতে, কিন্তু জন্মের পর সফল জীবন, মানুষের ভালোবাসা পাবার সৌভাগ্য হয় না সবার। তাই বারে বারে এই বাংলাতেই জন্মাতে চাই আমি। বাংলার মানুষের মুখই দেখতে চাই।


বিবার্তা/অভি/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com