জীবনকে ছকে বেঁধে ফেলতে চান না তানভীর আরাফাত ধ্রুব
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৩৮
জীবনকে ছকে বেঁধে ফেলতে চান না তানভীর আরাফাত ধ্রুব
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

তানভীর আরাফাত ধ্রুব গাড়ি বানানোর স্বপ্ন নিয়ে পড়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বুয়েট)। দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গাড়ি বানানোর প্রতিযোগিতা ‘ইকোরান ২০১৩’তেতার টিমটা চ্যাম্পিয়ন হয়। আর এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেও নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিতে নারাজ ধ্রুব।


ধ্রুবর ভাষায়, ‘আপাতত ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেষ্টায় আছি। হয়তো কোনো একদিন সেই স্বপ্ন পূরণ হবে। হয়তো সেদিন নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিতে ভালো লাগবে’।


সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটা রেস্টুরেন্টে আ্ড্ডায় বিবার্তাকে বলেন তানভীর আরাফাত ধ্রুব। আড্ডায় বেরিয়ে আসে তার জীবনের নানা কাহিনী। সেই গল্প বিবার্তা২৪ডটনেটের পাঠকদের জানাচ্ছেন উজ্জ্বল এ গমেজ।


ছোটবেলায় বিশেষ কোনো স্বপ্ন না থাকলেও হাইস্কুলে পড়ার সময়ে শরৎচন্দ্রের পথের দাবি উপন্যাস পড়ে ডাক্তার চরিত্রের মতো কিছু একটা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ধ্রুব। তবে পেশাদার ডাক্তার না, ডাক্তার চরিত্রের মতো তেমন একটা কিছু।


তার ভাষায়, ‘স্বপ্ন হলো বাস্তবতার গণ্ডি না মানা, ইচ্ছা হলো বাস্তবতার গণ্ডি মেনে। স্বপ্নকে যখন কেটেছেঁটে বাস্তবতার ছকে ফেলে দেয়া হয় তখন সেটা হলো আমার ইচ্ছা। ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তবে বুয়েটে পড়ার সুযোগ পাওয়াতে বলা যায় সে ইচ্ছাটা অনেকটা পূরণের পথে আছি। এখনও নিজে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো ইঞ্জিনিয়ার হতে পারিনি’।


ধ্রুব সমাজসেবামূলক কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘যে বাংলাদেশ আমি পেয়েছি সেটাকে একটু ভালো করার জন্য, একটু ভালোর দিকে পরিবর্তন করার জন্য, সামান্য কিছু হলেও কাজ করতে চাই। এটাই হবে আমার সব কাজের মূল লক্ষ্য’।


স্কুলে পড়ার সময় কাজ করেন গণিত ক্লাবের সাথে। ২০০৮ সালে ভর্তি হন বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।মুনির হাসানের নেতৃত্বেকাজ করেছেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক টিমে।


তার ভাষায়, ‘মুনির হাসান স্যারের অরেকটি উদ্যোগ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি। সেখানে কাজ করেছি ২০১২-১৩ সাল পর্যন্ত। এখান থেকে চিলড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস হয়। এসব কংগ্রেসের ব্যাক এন্ডে প্ল্যানিংয়ের কাজ করার সুযোগ পেয়েছি আমি’।


আলাপ প্রসঙ্গে জানা গেল, একসময় খণ্ডকালীন লেখালেখি করেছেন দৈনিক প্রথম আলোর গণিত ইসকুল পাতায়, কিশোর পত্রিকা কিশোর আলোতে। সেখানে তার পছন্দের বিষয় ছিল ‘বাচ্চাদের শেখানোর জন্য বিজ্ঞান’।



বুয়েটে পড়ার সময় ২০১১ সালে একটা পছন্দের কাজ করেন তিনি। রোজার ঈদ উপলক্ষে বুয়েটের বন্ধুরা চাঁদা তুলে বুয়েটের ১৩০জন ক্যান্টিন বয়কে শার্ট প্যান্ট উপহার দেন। ক্যান্টিনে কাজ করার সময় পরার জন্য ওদের টি-শার্টও বানিয়ে দিলেন। এরপর ওদের জন্য সবাই মিলে একটা নাইট স্কুল চালু করেন। বুয়েটের বন্ধুরাই এটা চালান। এখন তাদের চিন্তা স্থায়ী একটা নাইটস্কুল চালু করা, যেখানে কর্মজীবী শিশুরা পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে।


এরপর ধ্রুব চিন্তা করেন যদি বাচ্চাদের জীবনে সহজে পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে একটা কাজ করতে হবে। সেটা হচ্ছে শিক্ষা। ২০১২ সালে আরেকটা টিম গঠন করেন। নাম ‘শিক্ষা দেশের জন্য’। এই কার্যক্রমের আওতায় টিম নিয়ে তারা সারা দেশের ২০জেলায় যান। এখানে বুয়েট ও ঢাকা ইউনিভার্সিটির কিছু স্টুডেন্ট ইনভলভ হয়। এই টিম নিয়ে সপ্তাহের ছুটির দিনে বা পরীক্ষার পরে ছুটিতে বিভিন্ন জেলায় চলে যেতে থাকেন। সাথে নিতেন হাতেকলমে বিজ্ঞান শেখার সব সরঞ্জাম। যে কোনো একটা জেলায় গিয়ে বাচ্চারা বইয়ে যে বিজ্ঞান পড়ে সেগুলো হাতেকলমে তাদের শিক্ষা দেন। যেটা তারা বইয়ে পড়ছে, সেটা হাতেকলমে বানিয়ে দেখান। একজন বাচ্চা নতুন একটা জিনিস শিখলে তার চোখেমুখে যে আনন্দ খেলা করে এটাকে দেখার জন্যই সব সময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন ধ্রুব। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ছবিগুলোর মধ্যে একটা বলে ধারণা ধ্রুবর।


২০১৪ সালে আরো কিছু আগ্রহী ছেলে-মেয়ে যোগ দেয় তার দলে। ওদের প্রস্তাব ছিল, শিক্ষা নিয়ে তো কাজ করেছি, চলেন পরিবশে নিয়ে কাজ করি। ধ্রুবরও ইচ্ছা ছিল পরিবেশ নিয়ে কাজ করার। তখন আরেকটা নতুন টিম আত্মপ্রকাশ করে। টিমটির নাম ‘গ্রীন ফোর্স’। টিমটি দুটো বিষয়ে কাজ করে : পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও ছাদের উপর বাগান।


ছাদে বাগান নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তার পরিচয় হয় গ্রীন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশনের রণি ভাইয়ের সাথে। তাদের সাথেও বেশ কিছু কাজ করার সুযোগ হয়। ‘প্লান্টসডক্টর’ নামে একটা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে গ্রীন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশন। রুফটপ গার্ডেনিংয়ের ওয়ান টপ সলিউশন হলো এই অ্যাপটি। অ্যাপটির ডেভেলপমেন্টের কাজ করেছেন ধ্রুবর দল।


ধ্রুব বলেন, কিউবিং বাংলাদেশ নামে আরেকটা টিম আছে। ফেসবুকে টিমটির নাম হচ্ছে কিউবিস্টবিডি। কিউবিং বাংলাদেশ থেকে আমরা কিউব আড্ডাকরি। কিউব আড্ডাহলো সবাই মিলে একটা জায়গা ঠিক করে, সেটা হতে পারেরমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মিরপুর স্টেডিয়াম, মাঝে মাঝে বুয়েটে বা কার্জনহলে। সেখানে তারা রুবিক্স কিউব মেলানো নিয়ে, নতুন ধরনের পাজল নিয়ে, যে কোনো নতুন আইডিয়া নিয়ে আড্ডা দেয়।এখানে দুইটা জিনিসকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বাচ্চারা শুধু ফেসবুকে বন্ধুত্বটা সীমাবদ্ধ না রেখে তারা যেন একে অপরের সাথে পরিচিত হতে এবং সত্যিকারের বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি নতুনভাবে চিন্তা করার জন্য একটা প্লাটফর্ম পায়।



এসব কাজের ফান্ডিংয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে ধ্রুব বলেন, এর জন্য অবশ্য আমরা পাবলিকলি কারো কাছে যাই না। একটা বড় অংশ সেলফ ফান্ডিংয়ে নিজেরা নিজেদের কনট্রিবিউশনের মাধ্যমে করি। এর বাইরে আমাদের যারা পরিচিত শুভানুধ্যায়ী আছেন, তারা মাঝে মাঝে ছোটখাটো কনট্রিবিউট করেন। ২০১২-১৩ সালে আমরা সেলফ ফান্ডিংয়ে কাজ করেছি। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সোস্যাল ফান্ডিংয়ে কাজ করছি। আমাদের মধ্যে যারা কয়েকজন মুরব্বি রয়েছি, সব সময়ই চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত যে খরচ হয় সেটা বহন করে যাওয়ার। খরচ অবশ্য খুব একটা বেশি হয় না। আমরা যখন দূরে কোথাও প্রোগ্রাম করতে যাই তখন আমরা থাকি কোনো বন্ধুর বা আত্মিয়ের বাসায়। তাই থাকা-খাওয়ার জন্য আমাদের তেমন খরচ হয় না।


প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রোগ্রামের আয়োজন বিষয়ে ধ্রুব বলেন, আমরা যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি এর জন্য ওই স্থানের স্কুলকে কোনো খরচ করতে হয় না। সব জিনিসপত্র আমরা বানিয়ে নিয়ে যাই। খরচ হয় কেবল যাওয়া-আসায়। বাসভাড়া আমরা নিজেরাই দিয়ে দিতে পারি। এরজন্যই বলছি, একবার শুরু করে দিলে বোঝা যায় কাজটা আসলে এতো কঠিন না। কিন্তু শুরু করার আগে অনেক দ্বিধা কাজ করে। আমাদের এই সেবামূলক কাজ করার জন্য সারাদেশে প্রায় একশো’র মতো স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-তরুণী রয়েছে। এখান থেকে গড়ে ৪০ জনকে যেকোনো সব সময়ই পাওয়া যায়।


কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, এবছরের মার্চ মাসে রাজধানীর আসাটগেট সেন্ট যোসেফ স্কুলে সায়েন্স ফেয়ারে এক সপ্তাহ ধরে ওয়ার্কশপ করেছি। সেখানে ক্লাস থ্রি থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত প্রায় ২০০০ হাজার ছাত্রকে নিয়ে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে বুয়েট ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে প্রায় ৪০ জন ট্রেইনার এক সপ্তাহ ধরে ছেলেদের সাথে ওয়ার্কশপ করেছি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর ভিকারুননেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেরে বাংলা গার্লস স্কুলে এভাবে ওয়ার্কশপ করেছি।


এই সব ট্রেনিংয়ে কী বিষয়ে শিক্ষা দেয়া এমন প্রশ্নের জবাবে ধ্রুব বলেন, আমরা দুইটা জায়গায় ফোকাস করি।একটা হলো-টেক্সটবুক সায়েন্স। ছাত্রছাত্রীরা বইয়ে যে বিজ্ঞানটা পড়ছে সেটা তাদের হাতেকলমে দেখানো ও বুঝিয়ে পড়ানো। আরেকটা হচ্ছে প্রজেক্ট বেইজড। বিজ্ঞান মেলায় স্টুডেন্টরা প্রজেক্ট বানায়। প্রজেক্টটা কেন বানাবে, একটা প্রজেক্টে কী কী করবে, কীভাবে বানাবে এসব বিষয় হাতেকলমে শেখানো হয়। আমরা চেষ্টা করি টেক্সটবুক সায়েন্স ও প্রজেক্ট এই দুটা জিনিসের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক রয়েছে সেটা বুঝিয়ে দেয়ার।



তিনি বলেন, আসলে কী হয়, সারা দেশে আমরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদের যে কোনো কিছু হওয়ার জন্য অ্যাওয়ারনেস ও মোটিভেশনের প্রতি জোর দিচ্ছি। কিন্তু আমরা তাকে শেখাচ্ছি না কীভাবে সেটা হতে হয়। শুধু মোটিভেট করলেই হয় না। এটা হলো কোনো কিছু হওয়ার প্রথম ধাপ। এরপরে কাজটা কীভাবে করতে হবে এবিষয়ে যদি পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকে, তাহলে সে ওই কাজে উৎসাহটা হারিয়ে ফেলে।


উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সাঁতার একটা ভাল ব্যায়াম। আমি যদি কাউকে ভালভাবে সাঁতার কাটা না শিখিয়ে শুধু বলি সাঁতার কাটো, বা পানিতে নিয়ে গিয়ে বলি সাঁতরাও, সে আমার কথায় খুশি হয়ে পানিতে নামবে। কিন্তু সাঁতার কাটতে না পেরে ডুবে যাবে।


এমনটাই প্রায়ই হয়, আমরা যে কোনো ক্যারিয়ারের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না দিয়েই বলি, কাজ করো। ফলে অনেকেই কাজ করতে নামে। কিছু দিন কাজ করার পরে না পেরে সে ওই কাজের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। একবার কেউ যদি কোনো কাজের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সে কিন্তু জীবনে কোনো দিনও ওই কাজ করতে যাবে না। এতে একজন সম্ভাবনাময় রিসোর্সকে হারিয়ে ফেললাম। কিন্তু তাকে যদি কাজটা ভালভাবে শিখিয়ে কাজটা করতে বলা হতো, তাহলে সমাজে, দেশে সে অনেক প্রভাব ফেলতে পারতো। আমরা সঠিক শিক্ষা দিতে পারিনি বলে তার কাছ থেকে আউটপুটটাও পেলাম না। এটা আমাদের বর্তমান সময়ের জন্য একটা বড় সমস্যা।


ধ্রুব বলেন, আমরা সম্প্রতি দেশে উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাচ্ছি। কিন্তু এখানে একটা গেঞ্জাম আছে। আমরা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের উদ্যোক্তা তৈরি করার মোটিভেশন দিতে গিয়ে তাদের চাকুরি করতে ডিমোটিভেটেড করে ফেলছি। একশ’ জনের মধ্যে তো সবাই উদ্যোক্তা হতে পারবে না। কাউকে না কাউকে চাকুরি করতে হবে। আমরা উদ্যোক্তা তৈরি করতে গিয়ে এমন কথা বলে ফেলছি, এতে করে যাদেরকে চাকুরি করতেই হবে, তাদের মধ্যে একটা অসন্তোষ, অতৃপ্তি তৈরি হচ্ছে। কারণ তারা হয়তো উদ্যোক্তা মেটারিয়াল না, তারা হয়তো উদ্যোক্তা হতে চেষ্টা করছে, কিন্তু হতে পারেনি। চাকুরি করতে গিয়ে তাদের মনের মধ্যে অতৃপ্তি কাজ করছে। তারা ভাবছে, ইস! চাকুরি না করে উদ্যোক্তা হলেই মনে হয় ভাল হতো।


উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যেমন উদ্যোক্তা তৈরি করার সময় আমি বললাম, ‘চাকুরি করা হলো আধুনিক দাসত্ব’। এই বিষয়ে আমার আপত্তি আছে। কারণ দেশের ৮০-৯০% মানুষ যারা চাকুরি করে জীবনযাপন করছে তাদেরকে আমি হতাশ করে দিচ্ছি। তারা বিষণ্নতায় ভুগলো। কারণ তারা ভাববে আমরা তো আধুনিক দাস। কিন্তু সে তখন চাইলেও এই শৃঙ্খল ভেঙে আসতে পারবে না। কয়জন পারবে চাকুরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হতে?



তাহলে আমি কেন উদ্যোক্তাকে বড় করে দেখাতে গিয়ে যে চাকুরি করছে তাকে হতাশ করছি? এটাকে বলা যায় অতি উৎসাহিত করার কুফল। ওভার মোটিভেশন। শুধু উৎসাহ দেয়া না, হাতেকলমে তাকে শিখিয়েও দিতে হবে। কাজ করার মতো যোগ্য করে তুলতে হবে। তবেই তরুণ-তরুণীরা উদ্যোক্তা সংস্কৃতিকে আর ভুল বুঝবে না। তাদের হতাশায় ভুগতে হবে না।


আলাপ প্রসঙ্গে জানা গেল, ধ্রুবর একটা আইটি ফার্ম আছে। দিনের বড় একটা অংশ কাটে তার এখানে। একটা হার্ডওয়্যার প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করছেন। তবে তার সব কাজের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় করা, শিক্ষাব্যবস্থায় আরো নতুনত্ব নিয়ে আসা, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইত্যাদি। এই ভিশনগুলোর সাথে যে প্রোগ্রাম যায় সেখানেই তিনি কনট্রিবিউট করার চেষ্টা করেন দলগতভাবে।


ধ্রুব বলেন, আমাদের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম আছে। এটা লাভজনক কার্যক্রমের মধ্যে একটা। সব শেষ কাজ করেছি মাইক্রোসফটের্ ইয়ং বাংলার সাথে। সেখানে আমরা সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার ট্রেনিং ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের ডিজাইনের কাজ করেছি। প্রোগ্রামটা কেমন হতে পারে, কীভাবে হতে পারে, ইভেন্টের প্ল্যানিং কেমন হতে পারে সেই ডিজাইন পেইজে আমরা কাজ করেছি। পাইলট প্রোগ্রামের ইমপ্লিমেনটেশনে কাজ করেছি। এর আগে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার (এসইপি) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের প্লানিং, ইমপ্লিমেনটেশনের কাজ করেছি।


নিজের জীবন নিয়ে ধ্রুব বলেন, জীবনকে খুব ছকে বেঁধে ফেলতে পছন্দ করি না।খানিকটা গা ভাসিয়ে দিতেই আমার বেশি ভাল লাগে। জীবন যখন যেখানে নিয়ে যায় খানিকটা সে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ভাল লাগে। সব কিছু কন্ট্রোলড এনভায়রনমেন্টে রাখলে জীবনের বৈচিত্র্যটা নষ্ট হয়ে যায়।


পরিকল্পনা বিষয়ে জানালেন, বাংলাদেশের যুবক-যুবতীদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং নিয়ে গঠনমূলক কিছু করার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন তিনি। পরিকল্পনা আছে এদের নিয়ে ভালভাবে প্রভাব ফেলানোর মতো করে কিছু কাজ করার। তার ইচ্ছে প্লে থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত একটা স্কুল দেয়ার। এভাবে শিখতে পারলে ভাল হতো, এবিষয় শিখতে পারলে ভাল লাগতো এইগুলোই ছেলেমেয়েদের ওই স্কুলে শেখাতে চান তিনি।


এছাড়াও তার যে আইটি ফার্ম রয়েছে সেটি এডুকেশন রিলেটেড কাজ করার চেষ্টা করছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়েও কাজ করছেন। তার ইচ্ছে এটাকে একটা শক্ত ভিত্তির ওপরে দাঁড় করানোর। ডিজিটাল লার্নিংকে ইফেকটিভলি স্টুডেন্টদের কাছে নিয়ে যেতে। সেটা নিয়েও কাজ করছেন এই উদ্যমী সমাজসেবক।


বিবার্তা/উজ্জ্বল/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com