
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর তিস্তার তীব্র স্রোতের তোড়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৯০০ মিটার দীর্ঘ এই প্রধান প্রতিরক্ষা বাঁধের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের অন্তত ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেখানে শক্ত বাঁধটি ছিল, পানির ঘূর্ণন স্রোতে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে প্রায় ৬০ ফুট গভীর এক বিশাল ও বিপজ্জনক গর্ত। এর ফলে মূল তিস্তা সেতু এবং রংপুর ও লালমনিরহাটের যোগাযোগের একমাত্র লাইফলাইন রংপুর-কাকিনা সড়কটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীতে হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করে । স্রোতের গতি এতোটাই তীব্র ছিল যে, রাত ৮টার মধ্যেই বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। পানির ঘূর্ণন স্রোতের কারণে বাঁধের গোড়ায় প্রায় ৬০ ফুট গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে, যা সরাসরি সেতুর মূল পিলারের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই ঘটনার পর থেকে নদী পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই বাঁধটি প্রায় ৯ মাস আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও একবার ভেঙে গিয়েছিল। সে সময় বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গত বছরই এলজিইডিকে বারবার অনুরোধ করেছিলাম এখানে বাঁশের জোড়াতালি না দিয়ে যেন পাথরের সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী কাজ করা হয়। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথাই শোনেনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নদীর সামনে স্রেফ কিছু বাঁশ খাড়া করে রেখেছিল। আজ প্রকৃতির সামান্য আঘাতেই সেই ১৪ লাখ টাকার নড়বড়ে বাঁশের প্রতিরোধ খড়কুটোর মতো ভেসে গেল। প্রশাসনের এই খামখেয়ালির খেসারত এখন এলাকাবাসীকেই দিতে হচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, "গত বছর ঢাকা থেকে আসা একটি বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুসারেই সেখানে পাইলিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। তীব্র স্রোতের মুখে সেটি ভেঙে গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধিতে পানির প্রচণ্ড চাপ সামলাতে ডালিয়া পয়েন্ট এ ব্যারেজের সবকটি জলকপাট একসাথে খুলে রাখা হয়েছে। রংপুর বিভাগসহ এর উজানে আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় এই অঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হতে পারে।
ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার।
তিনি জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সরেজমিন পরিদর্শনে এসেছি। পানির তীব্র স্রোত ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সেতু ও সড়কটি বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী অসহায় মানুষগুলোর দাবি, এখনই যদি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ বা বালুর বস্তা ফেলা না হয়, তবে চরম ঝুঁকিতে পরবে মহিপুর তিস্তা সেতু ও রাস্তাটি।
বিবার্তা/নাহিদ/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]