
এক সময় আপেল কেবল কাশ্মীর ও হিমাচল ঠাণ্ডা অঞ্চলের ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমানে পরিবর্তিত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশের মাটিতেও আপেল চাষ সম্ভব হচ্ছে।সীমান্তবর্তী লালমনিরহাটের মাটিতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-সবুজ আপেল।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেশে আপেল চাষ অসম্ভব—এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সফল হয়েছেন পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে অদম্য কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল আলিম। তার এই সাফল্য উত্তরের কৃষিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
এক সময় যেখানে ধান, ভুট্টা কিংবা তামাকের রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে সুদৃশ্য আপেল বাগান। দহগ্রাম এগ্রো ফার্ম এন্ড নার্সারীর স্বত্বাধিকারী আব্দুল আলিম পরম মমতায় পরিচর্যা করছেন তার স্বপ্নের বাগানের। অদম্য ইচ্ছা আর সাহসের ওপর ভর করে শুরু করা এই পরীক্ষামূলক বাগান এখন বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার দৃশ্যপট।
আব্দুল আলিম জানায়, ২০২৪ সালে ভারতের হিমাচল এলাকায় আপেল গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে ৩০ টি আপেল গাছ নিয়ে এসে রোপণ করেন। এর পর দুই বছরের মধ্যে গাছে ফল আসে। বর্তমানে ব্যাপক ফলন পাচ্ছেন তিনি।
তিনি গরম আবহাওয়ার উপযোগী ‘লো-চিলিং’ জাতের ‘আনা’ ও ‘গোল্ডেন ডরসেট’ আপেল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। এসব গাছ রোপণের মাত্র ২-৩ বছরের মধ্যেই ফলন দিতে শুরু করে।
আব্দুল আলিমের এই বিরল সাফল্য এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই ‘কাশ্মীরি বিস্ময়’ নিজের চোখে দেখতে। স্থানীয়দের মতে, এখানকার আপেল আমদানিকৃত আপেলের চেয়েও বেশি রসালো এবং সুস্বাদু।
স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা বলেন, ধারনাও করতে পারিনাই বাংলাদেশের মাটিতে আপেল হয়। বাগানে ঢুকে দেখলাম অনেক আপেল ফলেছে। বর্তমানে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৫টি আপেল গাছ রোপণ করেছেন এই উদ্যোক্তা। প্রতিটি গাছ থেকে ৫-৬ কেজি আপেল সংগ্রহ করছেন তিনি। কৃষি বিভাগ এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। আব্দুল আলিমের এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ ও কৃষকরা।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মতিউল আলম বলেন, দহগ্রামের কৃষি উদ্যেক্তা আব্দুল অলিম যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেজন্য কষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লালমনিরহাটেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আপেল চাষ সম্ভব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা গেলে দেশেই আপেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে করে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। আব্দুল আলিমের হাত ধরে লালমনিরহাটে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]