
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকায় গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম (৫০) হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ছাত্রীর বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মরিয়ম বেগম নামোশংকরবাটি উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা ও আবুল কালামের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে মরিয়ম বেগম রুবেল নামে এক ব্যক্তির মেয়েকে পড়ানোর জন্য তার বাসায় যান। এরপর দিনভর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ রুবেলের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে বস্তার ভেতর থেকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই মরিয়ম বেগমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সুমি ওরফে ফমির বিরুদ্ধে আগেও জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি একটি ঘটনায় স্থানীয়ভাবে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথাও শোনা যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি এক স্বর্ণকারের কাছ থেকে মরিয়ম বেগমের একটি দুল উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক রুবেল, তার স্ত্রী সুমি ওরফে ফমি এবং স্বর্ণকার দীপককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিবার্তা/লিটন/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]