১৫ বছরের ক্ষতির বিচার চেয়ে ভালুকায় কৃষকদের অবস্থান কর্মসূচি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০১:৫২
১৫ বছরের ক্ষতির বিচার চেয়ে ভালুকায় কৃষকদের অবস্থান কর্মসূচি
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা এলাকায় অবস্থিত এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল ও আর.এস. এগ্রোর বিরুদ্ধে অবৈধ ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য ও দূষিত পানি ফেলার অভিযোগে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।


মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ভরাডোবা ও আশপাশ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল এবং আর.এস. এগ্রো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য ও দূষিত পানি আশপাশের কৃষিজমি, খাল-বিল ও জলাশয়ে ফেলছে। এর ফলে প্রায় ৩৩৫ একর কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমে গেছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রশাসনের তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে গত প্রায় ১৫ বছরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল এবং বাকি ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ আর.এস. এগ্রো লিমিটেডকে পরিশোধের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান বক্তারা।


প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন নুরুল ইসলাম ফকির, শামছুদ্দিন মণ্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন মানিক, মোহাইমিনুল ইসলাম, আবুল বাশার ও মনির তালুকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


বিক্ষোভে কৃষকদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিলের অবৈধ ড্রেনেজ লাইন কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সিলগালা করা, প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রায় ৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে পরিশোধ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশ দূষণ ও কৃষিজমি ধ্বংস রোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা চাই ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচার। কৃষকের জীবিকা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।


এ সময় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভুক্তভোগী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।


বিবার্তা/সাজ্জাদুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com